বিতর্কে আলোচিত রাষ্ট্রপতিরা

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৬:০৭:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬
  • ২০ বার পঠিত হয়েছে

বঙ্গভবন

স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ভবন, বঙ্গভবন শুধু রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদধারীর সরকারি বাসভবনই নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক উত্থান-পতন, সাংবিধানিক পরিবর্তন, সামরিক শাসন এবং গণতান্ত্রিক যাত্রারও গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী। রাষ্ট্রপতির পদকে ঘিরে বিভিন্ন সময়ে যেমন সম্মান ও মর্যাদার নজির তৈরি হয়েছে, তেমনি রাজনৈতিক বিতর্কও কম হয়নি।

স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে ২২ জন ব্যক্তি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁদের মধ্যে খুব অল্প কয়েকজন নির্ধারিত মেয়াদ সম্পন্ন করতে পেরেছেন। অন্যদিকে অনেকেই রাজনৈতিক পরিবর্তন, ক্ষমতার পালাবদল, পদত্যাগ, অপসারণ কিংবা দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় মৃত্যুর কারণে পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে পারেননি। ফলে রাষ্ট্রপতির পদটি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বারবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।

সদ্য পদত্যাগী মো. সাহাবুদ্দিনকে ঘিরে বিতর্ক

সম্প্রতি পদত্যাগের মাধ্যমে দায়িত্ব ছাড়েন বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তার রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের শুরু থেকেই বিভিন্ন প্রশ্ন ও বিতর্ক সামনে আসে।

সমালোচকদের একটি অংশ অভিযোগ করেন, তার বিদেশি নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন ছিল এবং সেই কারণে রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার যোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। এছাড়া বিদেশে অর্থ পাচার, প্রভাবশালী ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা এবং অতীতে দায়িত্ব পালনের সময় দুর্নীতি-সংক্রান্ত কিছু অভিযোগও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত রায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার তথ্য প্রকাশ্যে নেই।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে দেওয়া কয়েকটি বক্তব্য নিয়েও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়। পরে শারীরিক অসুস্থতার কারণ উল্লেখ করে তিনি পদত্যাগ করেন।

খন্দকার মোশতাক আহমদ

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে বিতর্কিত রাষ্ট্রপতিদের একজন হিসেবে খন্দকার মোশতাক আহমদের নাম প্রায়ই আলোচনায় আসে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের অধিকাংশ সদস্য নিহত হওয়ার পর তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে ওই রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা ছিল। যদিও বিষয়টি রাজনৈতিক বিতর্কের অংশ হিসেবেই থেকে গেছে।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর তিনি ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেন, যার ফলে ওই হত্যাকাণ্ডের বিচার দীর্ঘ সময় ধরে স্থগিত ছিল। পরবর্তী সময়ে সেই অধ্যাদেশ বাতিল হওয়ার পর বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ

১৯৮২ সালে সেনাপ্রধান হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণের পর রাষ্ট্রপতি হন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তার শাসনামল দীর্ঘ সামরিক শাসনের জন্য পরিচিত।

তার বিরুদ্ধে সামরিক আইন জারি, বিরোধী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ, নির্বাচন ব্যবস্থায় প্রভাব বিস্তার এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সীমিত করার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত হয়েছে। পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ড নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভিন্ন সময় অভিযোগ উঠলেও তা নিয়ে বিচারিকভাবে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলনের মুখে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। পরবর্তী সময়ে জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও বিভিন্ন ইস্যুতে ঘন ঘন অবস্থান পরিবর্তনের কারণে রাজনৈতিক মহলে তাকে নিয়ে নানা আলোচনা সৃষ্টি হয়।

ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ

অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ ২০০২ সালে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার মেয়াদকালে ২০০৬ সালের শেষ দিকে দেশের রাজনৈতিক সংকট তীব্র আকার ধারণ করে।

বিশেষ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা এবং নির্বাচনকে ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতির কারণে তার ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল প্রশ্ন তোলে। পরবর্তী সময়ে জরুরি অবস্থা জারি এবং ‘ওয়ান-ইলেভেন’ নামে পরিচিত রাজনৈতিক অধ্যায় শুরু হয়, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ঘটনা হিসেবে বিবেচিত।

একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী

একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ২০০১ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেও দীর্ঘ সময় দায়িত্বে থাকতে পারেননি। দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক মাসের মধ্যেই রাজনৈতিক মতপার্থক্যের জেরে তিনি পদত্যাগ করেন।

তৎকালীন বিএনপির একটি অংশ অভিযোগ করেছিল, তিনি দলীয় প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করেননি। বিশেষ করে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর জিয়াউর রহমানের মাজারে না যাওয়াকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিরোধ তীব্র হয়। শেষ পর্যন্ত সেই বিরোধই তার পদত্যাগের অন্যতম কারণ হয়ে ওঠে।

ইতিহাসের মূল্যায়ন

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পদ বরাবরই সাংবিধানিক মর্যাদার প্রতীক হলেও বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক বাস্তবতা, ক্ষমতার পরিবর্তন এবং জাতীয় সংকটের কারণে এই পদকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে কে সবচেয়ে বিতর্কিত রাষ্ট্রপতি—এমন প্রশ্নের উত্তর অনেকাংশেই রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি, ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ এবং ব্যক্তিগত মূল্যায়নের ওপর নির্ভরশীল। ফলে এ বিষয়ে সর্বজনস্বীকৃত একক সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন।

বিতর্কে আলোচিত রাষ্ট্রপতিরা

প্রকাশ: ০৬:০৭:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬

স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ভবন, বঙ্গভবন শুধু রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদধারীর সরকারি বাসভবনই নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক উত্থান-পতন, সাংবিধানিক পরিবর্তন, সামরিক শাসন এবং গণতান্ত্রিক যাত্রারও গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী। রাষ্ট্রপতির পদকে ঘিরে বিভিন্ন সময়ে যেমন সম্মান ও মর্যাদার নজির তৈরি হয়েছে, তেমনি রাজনৈতিক বিতর্কও কম হয়নি।

স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে ২২ জন ব্যক্তি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁদের মধ্যে খুব অল্প কয়েকজন নির্ধারিত মেয়াদ সম্পন্ন করতে পেরেছেন। অন্যদিকে অনেকেই রাজনৈতিক পরিবর্তন, ক্ষমতার পালাবদল, পদত্যাগ, অপসারণ কিংবা দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় মৃত্যুর কারণে পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে পারেননি। ফলে রাষ্ট্রপতির পদটি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বারবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।

সদ্য পদত্যাগী মো. সাহাবুদ্দিনকে ঘিরে বিতর্ক

সম্প্রতি পদত্যাগের মাধ্যমে দায়িত্ব ছাড়েন বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তার রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের শুরু থেকেই বিভিন্ন প্রশ্ন ও বিতর্ক সামনে আসে।

সমালোচকদের একটি অংশ অভিযোগ করেন, তার বিদেশি নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন ছিল এবং সেই কারণে রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার যোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। এছাড়া বিদেশে অর্থ পাচার, প্রভাবশালী ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা এবং অতীতে দায়িত্ব পালনের সময় দুর্নীতি-সংক্রান্ত কিছু অভিযোগও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত রায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার তথ্য প্রকাশ্যে নেই।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে দেওয়া কয়েকটি বক্তব্য নিয়েও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়। পরে শারীরিক অসুস্থতার কারণ উল্লেখ করে তিনি পদত্যাগ করেন।

খন্দকার মোশতাক আহমদ

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে বিতর্কিত রাষ্ট্রপতিদের একজন হিসেবে খন্দকার মোশতাক আহমদের নাম প্রায়ই আলোচনায় আসে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের অধিকাংশ সদস্য নিহত হওয়ার পর তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে ওই রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা ছিল। যদিও বিষয়টি রাজনৈতিক বিতর্কের অংশ হিসেবেই থেকে গেছে।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর তিনি ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেন, যার ফলে ওই হত্যাকাণ্ডের বিচার দীর্ঘ সময় ধরে স্থগিত ছিল। পরবর্তী সময়ে সেই অধ্যাদেশ বাতিল হওয়ার পর বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ

১৯৮২ সালে সেনাপ্রধান হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণের পর রাষ্ট্রপতি হন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তার শাসনামল দীর্ঘ সামরিক শাসনের জন্য পরিচিত।

তার বিরুদ্ধে সামরিক আইন জারি, বিরোধী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ, নির্বাচন ব্যবস্থায় প্রভাব বিস্তার এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সীমিত করার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত হয়েছে। পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ড নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভিন্ন সময় অভিযোগ উঠলেও তা নিয়ে বিচারিকভাবে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলনের মুখে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। পরবর্তী সময়ে জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও বিভিন্ন ইস্যুতে ঘন ঘন অবস্থান পরিবর্তনের কারণে রাজনৈতিক মহলে তাকে নিয়ে নানা আলোচনা সৃষ্টি হয়।

ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ

অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ ২০০২ সালে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার মেয়াদকালে ২০০৬ সালের শেষ দিকে দেশের রাজনৈতিক সংকট তীব্র আকার ধারণ করে।

বিশেষ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা এবং নির্বাচনকে ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতির কারণে তার ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল প্রশ্ন তোলে। পরবর্তী সময়ে জরুরি অবস্থা জারি এবং ‘ওয়ান-ইলেভেন’ নামে পরিচিত রাজনৈতিক অধ্যায় শুরু হয়, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ঘটনা হিসেবে বিবেচিত।

একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী

একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ২০০১ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেও দীর্ঘ সময় দায়িত্বে থাকতে পারেননি। দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক মাসের মধ্যেই রাজনৈতিক মতপার্থক্যের জেরে তিনি পদত্যাগ করেন।

তৎকালীন বিএনপির একটি অংশ অভিযোগ করেছিল, তিনি দলীয় প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করেননি। বিশেষ করে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর জিয়াউর রহমানের মাজারে না যাওয়াকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিরোধ তীব্র হয়। শেষ পর্যন্ত সেই বিরোধই তার পদত্যাগের অন্যতম কারণ হয়ে ওঠে।

ইতিহাসের মূল্যায়ন

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পদ বরাবরই সাংবিধানিক মর্যাদার প্রতীক হলেও বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক বাস্তবতা, ক্ষমতার পরিবর্তন এবং জাতীয় সংকটের কারণে এই পদকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে কে সবচেয়ে বিতর্কিত রাষ্ট্রপতি—এমন প্রশ্নের উত্তর অনেকাংশেই রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি, ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ এবং ব্যক্তিগত মূল্যায়নের ওপর নির্ভরশীল। ফলে এ বিষয়ে সর্বজনস্বীকৃত একক সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন।