যে ব্যথার ছুটি নেই

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৮:২৮:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
  • ১২ বার পঠিত হয়েছে

এন্ডোমেট্রিওসিস ও অ্যাডেনোমায়োসিসে আক্রান্ত অনেক নারীর প্রতিদিনের বাস্তবতা এমনই।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায়, জরায়ুর ভেতরের আবরণীর মতো টিস্যু যখন জরায়ুর বাইরে (যেমন ডিম্বাশয় বা পেটের অন্যান্য অংশে) ছড়িয়ে পড়ে, তখন সেটা এন্ডোমেট্রিওসিস। আর সেই আবরণী যখন বাইরে না গিয়ে জরায়ুর মাংসপেশির ভেতরেই ঢুকে পড়ে, তখন তাকে বলা হয় অ্যাডেনোমায়োসিস। এই দুই রোগে আক্রান্ত অনেক নারীর প্রতিদিন কাটে অসংখ্য হিসাব-নিকাশের মধ্য দিয়ে।

কোথাও যাওয়ার আগে ভাবতে হয়, সেখানে সিঁড়ি ভাঙতে হবে কি না, রাস্তায় বের হলে চিন্তা করতে হয়, কতটা ঝাঁকুনি সহ্য করতে হবে। খানাখন্দের রাস্তা দেখলে অস্বস্তি হয়, রাতে ঘুমানোর সময়ও নিশ্চিন্ত থাকা যায় না, পাশ ফিরলে ব্যথা বাড়বে কি না, সেই আশঙ্কায়। হাত থেকে কিছু পড়ে গেলে নিচু হয়ে সেটি তুলতেও অনেক সময় দ্বিধা তৈরি হয়।

একজন সুস্থ মানুষ হয়তো ভাবেন, ‘আজ কোথায় যাব।’ দীর্ঘদিনের ব্যথায় থাকা একজন নারীকে তার আগে ভাবতে হতে পারে, ‘সেখানে গিয়ে আমি কতক্ষণ থাকতে পারব।’

এই রোগে আক্রান্তদের বাইরে থেকে দেখে জীবনটা স্বাভাবিক মনে হয়। অফিসে আসা যাওয়া, কাজ করা, যানজট পেরোনো, সংসার সামলানো, সামাজিক অনুষ্ঠানে যাওয়া—সবই চলছে। কিন্তু এই স্বাভাবিকতার আড়ালে চলে শরীরের সঙ্গে এক নীরব সমঝোতা। কারণ, সাধারণ পিরিয়ডের ব্যথা আর এর ব্যথা এক নয়, যা নিয়মিত কাজ, পড়াশোনা, ঘুম, চলাফেরা কিংবা সামাজিক জীবন ব্যাহত করে। তীব্র ব্যথার কারণে কারও ক্লাস মিস হয়, কারও অফিসে ছুটি নিতে হয়, কারও পরিকল্পনা বাতিল করতে হয়।

আবার এই রোগের লক্ষণগুলো শুধু পিরিয়ডের কয়েকটা দিনের ব্যথাই নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে অতিরিক্ত ও দীর্ঘস্থায়ী রক্তপাত, অনিয়মিত পিরিয়ড এবং তলপেটে ও কোমরে সারাক্ষণ এক ধরনের ভারী অনুভূতি বা চাপ। এমনকি প্রস্রাব বা মলত্যাগের সময় প্রচণ্ড কষ্ট বা পেট ফেঁপে থাকা, আক্রান্ত নারীদের জীবন দুর্বিষহ করে তোলে। তীব্র ব্যথার পাশাপাশি শরীর জুড়ে ভর করে চরম ক্লান্তি ও অবসাদ, ফলে অনেক সময় বিছানা থেকে ওঠাই কঠিন হয়ে পড়ে।

আমাদের সমাজে পিরিয়ড বা নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলা এখনো লজ্জার বিষয়। ফলে রোগীরা মাসের পর মাস কষ্ট পেলেও মুখ ফুটে বলতে পারেন না। নারীদের অহরহ শুনতে হয়, ‘পিরিয়ডে তো সবারই কম-বেশি ব্যথা হয়।’ কিন্তু পরিবার ও সমাজ বোঝে না যে এই দীর্ঘস্থায়ী তলপেটের ব্যথা একজন নারীর পড়াশোনা, কর্মজীবন, সামাজিকতা ও দৈনন্দিন জীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত করতে পারে।

যে কষ্ট চোখে দেখা যায় না, সেটি সমাজকে বোঝানোও অনেক সময় আরেকটি বড় কষ্ট হয়ে দাঁড়ায়। এর সঙ্গে যোগ হয় চিকিৎসার দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল পথ। নিয়মিত ওষুধ, হরমোনের চিকিৎসা, কখনো ইনজেকশন আবার কারও ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার। শরীরে এর অবস্থান বা বয়সের ওপর নির্ভর করে চিকিৎসাপদ্ধতি বদলায়। চিকিৎসার খরচের সঙ্গে থাকে ওষুধের নানান পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং দীর্ঘদিন চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার মানসিক চাপ। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় কারও শরীরে হঠাৎ গরম লাগা (হট ফ্ল্যাশ), মুড সুইং, চরম দুর্বলতা বা অন্য অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। তখন শুধু মূল রোগের ব্যথা নয়, চিকিৎসার সঙ্গে তৈরি হওয়া নতুন বাস্তবতার সঙ্গেও মানিয়ে নিতে হয়।

এই কষ্টের কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি নেই। পিরিয়ডের দিনগুলো তো বটেই, এমনকি বছরের যেকোনো দিন, যেকোনো সময় এই তীব্র ব্যথা হানা দিতে পারে। তাই পেইন কিলার বা ব্যথানাশক ওষুধ সব সময় সঙ্গে রাখা এই নারীদের জীবনের এক অলিখিত নিয়ম হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু অনেক সময় মুঠো মুঠো ওষুধ খেয়েও এই ব্যথা একটুও কমে না। কোনো প্রস্তুতি ছাড়াই হঠাৎ শুরু হওয়া ব্যথার কারণে আজ হয়তো কোনোভাবে অফিস করা সম্ভব, কাল হয়তো বিছানা থেকে ওঠাই কঠিন।

এই কষ্টের কথা কতজন নারীই-বা খোলামেলা বলতে পারেন আর বললেও কতজন তা সত্যিই অনুধাবন করতে পারেন।

দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার সঙ্গে বেঁচে থাকা মানে শুধু একটি রোগ বহন করা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে হারিয়ে যাওয়া ক্লাস, নেওয়া ছুটি, বাতিল হওয়া পরিকল্পনা, কাজের ফাঁকে নিজেকে সামলে নেওয়া এবং অসংখ্য ছোট ছোট নীরব ত্যাগ।

এই বৃত্ত থেকে বের হতে হলে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে এবং প্রথম পদক্ষেপটি নিতে হবে ঘর থেকেই। পিরিয়ডের সময় অস্বাভাবিক ব্যথা বা অতিরিক্ত রক্তপাত হলে সেটিকে আর ‘স্বাভাবিক’ ভেবে চেপে রাখা চলবে না। যত দ্রুত সম্ভব একজন অভিজ্ঞ গাইনোকোলজিস্টের পরামর্শ নিতে হবে। রোগটি জরায়ুতে বা এর বাইরে ঠিক কী অবস্থায় আছে, তা বুঝতে এবং এর বিস্তার রোধ করতে নিয়মিত চিকিৎসকের ফলোআপে থাকা অত্যন্ত জরুরি। স্কুল-কলেজ পর্যায় থেকে কিশোরীদের এই লক্ষণগুলো সম্পর্কে সচেতন করতে হবে।

পরিবারকে বুঝতে হবে, এই ব্যথা কোনো বিলাসিতা, নাটক বা অজুহাত নয়; এটি একটি প্রকৃত ও জটিল রোগ, এর জন্য প্রয়োজন সঠিক চিকিৎসা ও মানসিক সমর্থন।

এই লড়াইয়ের কঠিন দিকটি হয়তো এটাই ব্যথা থাকলেও জীবন বাইরে থেকে স্বাভাবিক দেখাতে হয়। চোখে পানি আসলেও মুছে ফেলতে হয়। শরীর থামতে চাইলেও জোর করে এগিয়ে যেতে হয়। কারণ, ব্যথা থামার অপেক্ষায় জীবন তো থেমে থাকে না! তাই দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার সঙ্গে প্রতি মুহূর্তে যুদ্ধ করা নারীদের জন্য আমাদের প্রথম প্রশ্ন হওয়া উচিত নয়, ‘এতটুকু ব্যথায় কীভাবে এত কষ্ট হচ্ছে।’ বরং প্রশ্ন হওয়া উচিত ‘এত তীব্র ব্যথা ও কষ্ট নিয়েও তিনি প্রতিদিন কীভাবে হাসিমুখে সবকিছু সামলে যাচ্ছেন।’

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৯৫ হাজার ৪৫১ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ৮৯ হাজার ৩৮০ জন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৫ হাজার ৭৭৬ জন।

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যু হয়নি। এ নিয়ে চলতি বছরে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৪৭ জনে।

দেশে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯৪ জনে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৯৩৫ জন।

জনপ্রিয় টার্গেট

যে ব্যথার ছুটি নেই

প্রকাশ: ০৮:২৮:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

এন্ডোমেট্রিওসিস ও অ্যাডেনোমায়োসিসে আক্রান্ত অনেক নারীর প্রতিদিনের বাস্তবতা এমনই।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায়, জরায়ুর ভেতরের আবরণীর মতো টিস্যু যখন জরায়ুর বাইরে (যেমন ডিম্বাশয় বা পেটের অন্যান্য অংশে) ছড়িয়ে পড়ে, তখন সেটা এন্ডোমেট্রিওসিস। আর সেই আবরণী যখন বাইরে না গিয়ে জরায়ুর মাংসপেশির ভেতরেই ঢুকে পড়ে, তখন তাকে বলা হয় অ্যাডেনোমায়োসিস। এই দুই রোগে আক্রান্ত অনেক নারীর প্রতিদিন কাটে অসংখ্য হিসাব-নিকাশের মধ্য দিয়ে।

কোথাও যাওয়ার আগে ভাবতে হয়, সেখানে সিঁড়ি ভাঙতে হবে কি না, রাস্তায় বের হলে চিন্তা করতে হয়, কতটা ঝাঁকুনি সহ্য করতে হবে। খানাখন্দের রাস্তা দেখলে অস্বস্তি হয়, রাতে ঘুমানোর সময়ও নিশ্চিন্ত থাকা যায় না, পাশ ফিরলে ব্যথা বাড়বে কি না, সেই আশঙ্কায়। হাত থেকে কিছু পড়ে গেলে নিচু হয়ে সেটি তুলতেও অনেক সময় দ্বিধা তৈরি হয়।

একজন সুস্থ মানুষ হয়তো ভাবেন, ‘আজ কোথায় যাব।’ দীর্ঘদিনের ব্যথায় থাকা একজন নারীকে তার আগে ভাবতে হতে পারে, ‘সেখানে গিয়ে আমি কতক্ষণ থাকতে পারব।’

এই রোগে আক্রান্তদের বাইরে থেকে দেখে জীবনটা স্বাভাবিক মনে হয়। অফিসে আসা যাওয়া, কাজ করা, যানজট পেরোনো, সংসার সামলানো, সামাজিক অনুষ্ঠানে যাওয়া—সবই চলছে। কিন্তু এই স্বাভাবিকতার আড়ালে চলে শরীরের সঙ্গে এক নীরব সমঝোতা। কারণ, সাধারণ পিরিয়ডের ব্যথা আর এর ব্যথা এক নয়, যা নিয়মিত কাজ, পড়াশোনা, ঘুম, চলাফেরা কিংবা সামাজিক জীবন ব্যাহত করে। তীব্র ব্যথার কারণে কারও ক্লাস মিস হয়, কারও অফিসে ছুটি নিতে হয়, কারও পরিকল্পনা বাতিল করতে হয়।

আবার এই রোগের লক্ষণগুলো শুধু পিরিয়ডের কয়েকটা দিনের ব্যথাই নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে অতিরিক্ত ও দীর্ঘস্থায়ী রক্তপাত, অনিয়মিত পিরিয়ড এবং তলপেটে ও কোমরে সারাক্ষণ এক ধরনের ভারী অনুভূতি বা চাপ। এমনকি প্রস্রাব বা মলত্যাগের সময় প্রচণ্ড কষ্ট বা পেট ফেঁপে থাকা, আক্রান্ত নারীদের জীবন দুর্বিষহ করে তোলে। তীব্র ব্যথার পাশাপাশি শরীর জুড়ে ভর করে চরম ক্লান্তি ও অবসাদ, ফলে অনেক সময় বিছানা থেকে ওঠাই কঠিন হয়ে পড়ে।

আমাদের সমাজে পিরিয়ড বা নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলা এখনো লজ্জার বিষয়। ফলে রোগীরা মাসের পর মাস কষ্ট পেলেও মুখ ফুটে বলতে পারেন না। নারীদের অহরহ শুনতে হয়, ‘পিরিয়ডে তো সবারই কম-বেশি ব্যথা হয়।’ কিন্তু পরিবার ও সমাজ বোঝে না যে এই দীর্ঘস্থায়ী তলপেটের ব্যথা একজন নারীর পড়াশোনা, কর্মজীবন, সামাজিকতা ও দৈনন্দিন জীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত করতে পারে।

যে কষ্ট চোখে দেখা যায় না, সেটি সমাজকে বোঝানোও অনেক সময় আরেকটি বড় কষ্ট হয়ে দাঁড়ায়। এর সঙ্গে যোগ হয় চিকিৎসার দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল পথ। নিয়মিত ওষুধ, হরমোনের চিকিৎসা, কখনো ইনজেকশন আবার কারও ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার। শরীরে এর অবস্থান বা বয়সের ওপর নির্ভর করে চিকিৎসাপদ্ধতি বদলায়। চিকিৎসার খরচের সঙ্গে থাকে ওষুধের নানান পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং দীর্ঘদিন চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার মানসিক চাপ। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় কারও শরীরে হঠাৎ গরম লাগা (হট ফ্ল্যাশ), মুড সুইং, চরম দুর্বলতা বা অন্য অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। তখন শুধু মূল রোগের ব্যথা নয়, চিকিৎসার সঙ্গে তৈরি হওয়া নতুন বাস্তবতার সঙ্গেও মানিয়ে নিতে হয়।

এই কষ্টের কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি নেই। পিরিয়ডের দিনগুলো তো বটেই, এমনকি বছরের যেকোনো দিন, যেকোনো সময় এই তীব্র ব্যথা হানা দিতে পারে। তাই পেইন কিলার বা ব্যথানাশক ওষুধ সব সময় সঙ্গে রাখা এই নারীদের জীবনের এক অলিখিত নিয়ম হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু অনেক সময় মুঠো মুঠো ওষুধ খেয়েও এই ব্যথা একটুও কমে না। কোনো প্রস্তুতি ছাড়াই হঠাৎ শুরু হওয়া ব্যথার কারণে আজ হয়তো কোনোভাবে অফিস করা সম্ভব, কাল হয়তো বিছানা থেকে ওঠাই কঠিন।

এই কষ্টের কথা কতজন নারীই-বা খোলামেলা বলতে পারেন আর বললেও কতজন তা সত্যিই অনুধাবন করতে পারেন।

দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার সঙ্গে বেঁচে থাকা মানে শুধু একটি রোগ বহন করা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে হারিয়ে যাওয়া ক্লাস, নেওয়া ছুটি, বাতিল হওয়া পরিকল্পনা, কাজের ফাঁকে নিজেকে সামলে নেওয়া এবং অসংখ্য ছোট ছোট নীরব ত্যাগ।

এই বৃত্ত থেকে বের হতে হলে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে এবং প্রথম পদক্ষেপটি নিতে হবে ঘর থেকেই। পিরিয়ডের সময় অস্বাভাবিক ব্যথা বা অতিরিক্ত রক্তপাত হলে সেটিকে আর ‘স্বাভাবিক’ ভেবে চেপে রাখা চলবে না। যত দ্রুত সম্ভব একজন অভিজ্ঞ গাইনোকোলজিস্টের পরামর্শ নিতে হবে। রোগটি জরায়ুতে বা এর বাইরে ঠিক কী অবস্থায় আছে, তা বুঝতে এবং এর বিস্তার রোধ করতে নিয়মিত চিকিৎসকের ফলোআপে থাকা অত্যন্ত জরুরি। স্কুল-কলেজ পর্যায় থেকে কিশোরীদের এই লক্ষণগুলো সম্পর্কে সচেতন করতে হবে।

পরিবারকে বুঝতে হবে, এই ব্যথা কোনো বিলাসিতা, নাটক বা অজুহাত নয়; এটি একটি প্রকৃত ও জটিল রোগ, এর জন্য প্রয়োজন সঠিক চিকিৎসা ও মানসিক সমর্থন।

এই লড়াইয়ের কঠিন দিকটি হয়তো এটাই ব্যথা থাকলেও জীবন বাইরে থেকে স্বাভাবিক দেখাতে হয়। চোখে পানি আসলেও মুছে ফেলতে হয়। শরীর থামতে চাইলেও জোর করে এগিয়ে যেতে হয়। কারণ, ব্যথা থামার অপেক্ষায় জীবন তো থেমে থাকে না! তাই দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার সঙ্গে প্রতি মুহূর্তে যুদ্ধ করা নারীদের জন্য আমাদের প্রথম প্রশ্ন হওয়া উচিত নয়, ‘এতটুকু ব্যথায় কীভাবে এত কষ্ট হচ্ছে।’ বরং প্রশ্ন হওয়া উচিত ‘এত তীব্র ব্যথা ও কষ্ট নিয়েও তিনি প্রতিদিন কীভাবে হাসিমুখে সবকিছু সামলে যাচ্ছেন।’

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৯৫ হাজার ৪৫১ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ৮৯ হাজার ৩৮০ জন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৫ হাজার ৭৭৬ জন।

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যু হয়নি। এ নিয়ে চলতি বছরে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৪৭ জনে।

দেশে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯৪ জনে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৯৩৫ জন।