খুলনার কয়রা উপজেলায় সরকারি ১৩ শতক জমি এবং কলা কাটাকে কেন্দ্র করে চাচাতো ভাইদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় গুরুতর আহত গোলাম রব্বানী (৫২) নামের এক হোমিও চিকিৎসক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি। তবে পুলিশ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বা ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে দুই নারীকে আটক করেছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের পশ্চিম মঠবাড়ি গ্রামে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। মঠবাড়ী মৌজার গ্রামীণ সড়কের পাশে অবস্থিত ১৩ শতক সরকারি সম্পত্তি এবং সেখানে রোপণ করা কলাগাছের কলা কাটাকে কেন্দ্র করে হোমিও চিকিৎসক গোলাম রব্বানী ও তাঁর চাচাতো ভাই সিদ্দিক সরদারের (২৬) পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলে আসছিল। ঘটনার দিন সকালে এই বিরোধকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের সময় দা, শাবল, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে একে অপরের ওপর চড়াও হয়। এতে হোমিও চিকিৎসক গোলাম রব্বানী এবং তাঁর পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য গুরুতর জখম হন। আহতদের মধ্যে গোলাম রব্বানীর ছেলে বিল্লাল সরদার (১৭), স্ত্রী নাজমা খাতুন (৩৮) ও মা রাহিলা বেগমও (৫৫) রয়েছেন।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাঁদের অবস্থার অবনতি ঘটলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে অবস্থার আরও জটিল অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় আজ বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে চিকিৎসক গোলাম রব্বানী মারা যান।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাশেদুল আলম জানান, সংঘর্ষের এই ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হয়নি। তবে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে আজমিরা খাতুন (১৮) ও তাসলিমা বেগম (৩৫) নামের দুই নারীকে আটক করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি চলছে এবং মামলার প্রক্রিয়াধীন। এই মর্মান্তিক মৃত্যুর খবরে গোটা এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
শেখ সিরাজউদ্দৌলা লিংকন 
























