সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া প্রশ্নফাঁসের ফাঁদে ফেলে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, অভিযান চালিয়ে দুই সদস্য গ্রেফতার

এসএসসি প্রশ্নফাঁস চক্রের ২ সদস্য গ্রেফতার

এসএসসি-২০২৬ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের নামে প্রতারণা চালানো একটি চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-১০। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তাদের আটক করা হয়। র‍্যাব জানিয়েছে, এই চক্র দীর্ঘদিন ধরে সুপরিকল্পিতভাবে প্রতারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল।

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ডাকাতি, চাঁদাবাজি, হত্যা, ছিনতাই, অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে তাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত প্রতারণা চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে আসছে বাহিনীটি। এরই অংশ হিসেবে সাম্প্রতিক এই অভিযান পরিচালিত হয়।

র‍্যাব সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি তাদের গোয়েন্দা শাখা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় একটি প্রতারক চক্রের সন্ধান পায়। চক্রটি “এসএসসি-২০২৬ প্রশ্নপত্র ফাঁস” সংক্রান্ত ভুয়া প্রচারণা চালিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছিল। তারা দাবি করছিল, পরীক্ষার আগেই প্রশ্নপত্র সরবরাহ করতে পারবে এবং এজন্য বিকাশসহ বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা দাবি করছিল। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে র‍্যাব-১০ এর সদস্যরা নজরদারি জোরদার করে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ রাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের কামরাঙ্গীরচর থানার হাসান নগর ঝাউলাহাটি এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে মোঃ সাজেদুল ইসলাম সাইফ (২৪) এবং তাউসিফ রহমান রিসাদ (২৩) নামের দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তারা উভয়েই ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করতেন এবং দীর্ঘদিন ধরে এই প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে জানা গেছে।

গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে চারটি মোবাইল ফোন এবং নগদ তিন হাজার সাতশ টাকা উদ্ধার করা হয়। জব্দকৃত মোবাইল ফোন ও ডিজিটাল ডিভাইসগুলোতে প্রাথমিকভাবে প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত ভুয়া বার্তা, লেনদেনের তথ্য এবং প্রতারণার নানা প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা স্বীকার করেছে যে, তারা প্রায় ছয় মাস আগে “Bat Man Wild BATMAN” নামে একটি টেলিগ্রাম গ্রুপ খুলে সংগঠিতভাবে এই প্রতারণা শুরু করে। তারা ফেসবুক ও টেলিগ্রামে বিভিন্ন গ্রুপ ও পেজে ভুয়া পোস্ট দিয়ে শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করত। এরপর প্রশ্নপত্র সরবরাহের প্রলোভন দেখিয়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালাত।

র‍্যাব কর্মকর্তারা জানান, এ ধরনের প্রতারণা শুধু আইনত দণ্ডনীয় অপরাধই নয়, বরং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এতে শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয় এবং পরীক্ষার প্রতি তাদের আস্থা নষ্ট হয়। তাই এ ধরনের চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

র‍্যাব আরও জানিয়েছে, বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করে এ ধরনের প্রতারণা বেড়ে গেছে। তাই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। কোনো প্রকার প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত প্রলোভন বা গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার অনুরোধ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা এবং সাধারণ মানুষের সহযোগিতার মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

র‍্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে সুরক্ষিত রাখতে এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় এ ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

মার্কিন অপরাধে সহযোগিতা করায় জাপান সরকারকে জবাবদিহির আহ্বান

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া প্রশ্নফাঁসের ফাঁদে ফেলে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, অভিযান চালিয়ে দুই সদস্য গ্রেফতার

এসএসসি প্রশ্নফাঁস চক্রের ২ সদস্য গ্রেফতার

প্রকাশ: ০১:১৯:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

এসএসসি-২০২৬ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের নামে প্রতারণা চালানো একটি চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-১০। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তাদের আটক করা হয়। র‍্যাব জানিয়েছে, এই চক্র দীর্ঘদিন ধরে সুপরিকল্পিতভাবে প্রতারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল।

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ডাকাতি, চাঁদাবাজি, হত্যা, ছিনতাই, অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে তাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত প্রতারণা চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে আসছে বাহিনীটি। এরই অংশ হিসেবে সাম্প্রতিক এই অভিযান পরিচালিত হয়।

র‍্যাব সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি তাদের গোয়েন্দা শাখা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় একটি প্রতারক চক্রের সন্ধান পায়। চক্রটি “এসএসসি-২০২৬ প্রশ্নপত্র ফাঁস” সংক্রান্ত ভুয়া প্রচারণা চালিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছিল। তারা দাবি করছিল, পরীক্ষার আগেই প্রশ্নপত্র সরবরাহ করতে পারবে এবং এজন্য বিকাশসহ বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা দাবি করছিল। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে র‍্যাব-১০ এর সদস্যরা নজরদারি জোরদার করে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ রাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের কামরাঙ্গীরচর থানার হাসান নগর ঝাউলাহাটি এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে মোঃ সাজেদুল ইসলাম সাইফ (২৪) এবং তাউসিফ রহমান রিসাদ (২৩) নামের দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তারা উভয়েই ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করতেন এবং দীর্ঘদিন ধরে এই প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে জানা গেছে।

গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে চারটি মোবাইল ফোন এবং নগদ তিন হাজার সাতশ টাকা উদ্ধার করা হয়। জব্দকৃত মোবাইল ফোন ও ডিজিটাল ডিভাইসগুলোতে প্রাথমিকভাবে প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত ভুয়া বার্তা, লেনদেনের তথ্য এবং প্রতারণার নানা প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা স্বীকার করেছে যে, তারা প্রায় ছয় মাস আগে “Bat Man Wild BATMAN” নামে একটি টেলিগ্রাম গ্রুপ খুলে সংগঠিতভাবে এই প্রতারণা শুরু করে। তারা ফেসবুক ও টেলিগ্রামে বিভিন্ন গ্রুপ ও পেজে ভুয়া পোস্ট দিয়ে শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করত। এরপর প্রশ্নপত্র সরবরাহের প্রলোভন দেখিয়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালাত।

র‍্যাব কর্মকর্তারা জানান, এ ধরনের প্রতারণা শুধু আইনত দণ্ডনীয় অপরাধই নয়, বরং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এতে শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয় এবং পরীক্ষার প্রতি তাদের আস্থা নষ্ট হয়। তাই এ ধরনের চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

র‍্যাব আরও জানিয়েছে, বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করে এ ধরনের প্রতারণা বেড়ে গেছে। তাই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। কোনো প্রকার প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত প্রলোভন বা গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার অনুরোধ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা এবং সাধারণ মানুষের সহযোগিতার মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

র‍্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে সুরক্ষিত রাখতে এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় এ ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।