ঝড়ের সময় ওয়াইফাই কতটা নিরাপদ
কালবৈশাখী বা বজ্রসহ ঝড়ের সময় সাধারণত মানুষ ঘরের বাইরে নিরাপত্তা নিয়ে বেশি সতর্ক থাকলেও ঘরের ভেতরের বৈদ্যুতিক ডিভাইস নিয়েও একইভাবে সতর্ক থাকা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে ওয়াইফাই রাউটার, মডেম ও ইন্টারনেট সংযোগের সরঞ্জাম ঝড়ের সময় ঝুঁকির মধ্যে থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বজ্রপাতের সময় বিদ্যুৎ লাইনে হঠাৎ ভোল্টেজ বেড়ে যাওয়া বা পাওয়ার সার্জ সৃষ্টি হতে পারে। শুধু বিদ্যুৎ সংযোগের মাধ্যমেই নয়, ব্রডব্যান্ড বা ফাইবার কেবল দিয়েও এই অতিরিক্ত শক্তি ঘরে প্রবেশ করতে পারে, যা রাউটার ও অন্যান্য ডিভাইসের জন্য বিপজ্জনক।
ঝড়ের সময় কী ধরনের ঝুঁকি থাকে
তীব্র বজ্রঝড়ের সময় হঠাৎ বিদ্যুৎ ওঠানামা এবং বজ্রপাতের কারণে-
- রাউটার বা মডেম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে
- অপটিক্যাল নেটওয়ার্ক টার্মিনাল নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে
- কম্পিউটার বা ল্যাপটপে ক্ষতি হতে পারে
- বিরল ক্ষেত্রে শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব ঘটনা সবসময় না ঘটলেও ঝুঁকি উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
কী করলে নিরাপদ থাকা যায়
তীব্র ঝড় বা বজ্রপাতের সময় ওয়াইফাই সংযোগ বন্ধ রাখা সবচেয়ে নিরাপদ ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শুধু রাউটার বন্ধ করলেই যথেষ্ট নয়, বরং-
- রাউটার ও মডেমের বৈদ্যুতিক প্লাগ খুলে রাখা
- প্রয়োজনে ইন্টারনেটের তার বিচ্ছিন্ন করা
এতে সরাসরি বৈদ্যুতিক অতিরিক্ত চাপ ডিভাইসে প্রবেশ করতে পারে না।
সব সময় কি বন্ধ রাখতে হবে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাভাবিক বৃষ্টি বা সাধারণ আবহাওয়ায় ওয়াইফাই চালু রাখতে কোনো সমস্যা নেই। সতর্কতা মূলত বজ্রপাতসহ তীব্র ঝড়ের সময়ের জন্য প্রযোজ্য।
অতিরিক্ত সুরক্ষার পরামর্শ
ঝড়ের সময় ঝুঁকি কমাতে আরও কিছু ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে-
- বিদ্যুৎ সুরক্ষা যন্ত্র ব্যবহার
- নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ যন্ত্র ব্যবহার
- মানসম্মত রাউটার ব্যবহার
সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঝড়ের সময় সাময়িকভাবে ইন্টারনেট বন্ধ রাখা কিছুটা অসুবিধার হলেও এটি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে পারে।
