দৈনিক টার্গেট

দেশের চেতনায়

কয়রায় সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

খুলনা প্রেসক্লাবে কর্মরত সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হুমকির ঘটনার প্রতিবাদে কয়রায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল ২০২৬) বিকালে কয়রা প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে স্থানীয় সাংবাদিক, গণমাধ্যমকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

কয়রা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের নবনির্বাচিত সভাপতি ও সমকাল পত্রিকার কয়রা প্রতিনিধি শেখ হারুন অর রশিদ। কর্মসূচিতে বক্তারা খুলনা প্রেসক্লাবে সংঘটিত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি তোলেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সংগঠনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন, প্রথম আলোর কয়রা-পাইকগাছা প্রতিনিধি ইমতিয়াজ উদ্দিন, সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আবু বকর সিদ্দিক, মো. আলাউদ্দিন, যুগ্ম সম্পাদক নিতিশ সানা, মোস্তাফিজ রহমান, কোষাধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম মোনায়েম, দপ্তর সম্পাদক হাফিজুর রহমান, প্রচার সম্পাদক মোস্তফা রেজওয়ানুল করিমসহ আরও অনেকে। এছাড়া নির্বাহী সদস্য ও সাধারণ সদস্যরাও কর্মসূচিতে উপস্থিত থেকে সংহতি প্রকাশ করেন। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও এনটিভির অনলাইন করেসপন্ডেন্ট তরিকুল ইসলাম।

বক্তারা বলেন, গণমাধ্যম একটি রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাংবাদিকরা সমাজের অসংগতি, দুর্নীতি ও অনিয়ম তুলে ধরে জনগণের সামনে সত্য প্রকাশ করেন। সেই সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হুমকি প্রদান শুধু ব্যক্তি বিশেষের ওপর আঘাত নয়, বরং এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর সরাসরি আঘাত।

তারা আরও বলেন, এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে স্বাধীন সাংবাদিকতা চর্চাকে বাধাগ্রস্ত করবে এবং সত্য প্রকাশের পথকে সংকুচিত করবে। তাই সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। অবিলম্বে হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান বক্তারা।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার হাতে নিয়ে প্রতিবাদ জানান এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। কর্মসূচির মাধ্যমে তারা স্পষ্ট বার্তা দেন যে, সাংবাদিকদের ওপর যেকোনো ধরনের সহিংসতা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের বিরুদ্ধে তারা ঐক্যবদ্ধ এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকবেন।

মানববন্ধন শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।