ওয়ারিয়র্স অব জুলাইয়ের ৪ হাজার সদস্য এনসিপিতে যোগদান

রাজনীতি

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সক্রিয় ভূমিকা রাখা সংগঠন ‘ওয়ারিয়র্স অব জুলাই’-এর কয়েক হাজার সদস্য একসঙ্গে রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় চার হাজার সদস্য জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-তে যোগ দিচ্ছেন, যা বর্তমান রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীতে এনসিপির কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই যোগদান সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। এতে ওয়ারিয়র্স অব জুলাইয়ের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন এবং তারা সম্মিলিতভাবে নতুন রাজনৈতিক যাত্রার ঘোষণা দেবেন।

এই সিদ্ধান্তের আগে দুই পক্ষের মধ্যে একাধিক দফা আলোচনা হয়েছে। সর্বশেষ বৈঠকে ওয়ারিয়র্স অব জুলাইয়ের সভাপতি সালমান হোসেন, সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসান জিসানসহ শীর্ষ নেতারা অংশ নেন। এনসিপির পক্ষ থেকে মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুইয়ার সঙ্গে তারা মতবিনিময় করেন এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা করেন।

সংগঠনটির নেতাদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে তারা সীমিত পরিসরে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে গেলেও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, সংস্কার এবং জনআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের প্রয়োজনীয়তা তারা অনুভব করেছেন। সেই জায়গা থেকেই এনসিপিতে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নেতারা আরও মনে করছেন, দেশের চলমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় কার্যকর পরিবর্তন আনতে হলে সংগঠিত শক্তির বিকল্প নেই। তাই বিচ্ছিন্নভাবে নয়, বৃহত্তর রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যে থেকেই তারা তাদের দাবি ও লক্ষ্য বাস্তবায়নের চেষ্টা করবেন।

এনসিপির পক্ষ থেকেও এই যোগদানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। দলটির নেতারা বলছেন, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাদের প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হওয়ায় সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে জনগণের সমস্যাভিত্তিক রাজনীতি করার লক্ষ্যকে সামনে রেখে তারা আগামীর কর্মপরিকল্পনা সাজাচ্ছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের বড় পরিসরের যোগদান ভবিষ্যতের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। এখন দেখার বিষয়, এই সমন্বয় মাঠপর্যায়ে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে এবং ঘোষিত লক্ষ্য বাস্তবায়নে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।