ভাঙা শিংয়ের পশুর কুরবানি কি জায়েজ?

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ১০:৪৩:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
  • ১৬৭ বার পঠিত হয়েছে

ঈদুল আজহা সামনে এলেই কুরবানির পশু কেনা নিয়ে মানুষের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। তবে পশু নির্বাচনের সময় অনেকেই দ্বিধায় পড়ে যান কোন পশু কুরবানির উপযুক্ত, আর কোনটি নয়। বিশেষ করে ভাঙা শিংয়ের পশু নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও ভুল ধারণা দেখা যায়। ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে এ বিষয়ে পরিষ্কার বিধান জানা জরুরি।

কুরবানি শুধু পশু জবাইয়ের নাম নয়; এটি আল্লাহর প্রতি আনুগত্য, ত্যাগ ও তাকওয়ার এক অনন্য ইবাদত। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন, কুরবানির পশুর রক্ত বা গোশত তাঁর কাছে পৌঁছে না, বরং মানুষের অন্তরের তাকওয়াই আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হয়। তাই কুরবানির ক্ষেত্রে বাহ্যিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি শরিয়তের বিধান মেনে চলাও গুরুত্বপূর্ণ।

ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী, কোনো পশুর জন্মগতভাবে শিং না থাকলে সেই পশু দিয়ে কুরবানি আদায় বৈধ। কারণ কুরবানির জন্য শিং থাকা আবশ্যক নয়। একইভাবে, যদি পশুর শিংয়ের কেবল উপরের অংশ ভেঙে যায়, তাতেও কুরবানি শুদ্ধ হবে। এ বিষয়ে সাহাবায়ে কেরামের আমলও রয়েছে। বর্ণনায় এসেছে, হজরত আলী (রা.)-এর কাছে ভাঙা শিংয়ের পশু সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি এতে কোনো অসুবিধা নেই বলে মন্তব্য করেন।

তবে সব ধরনের শিং ভাঙা পশু কুরবানির উপযুক্ত নয়। ফকিহদের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, যদি শিং এমনভাবে উপড়ে যায় যে তার আঘাত মগজ পর্যন্ত পৌঁছে যায় এবং পশু মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে সেই পশু দিয়ে কুরবানি জায়েজ হবে না। কারণ এতে পশুর বড় ধরনের ত্রুটি সৃষ্টি হয়। কিন্তু শুধু বাহ্যিকভাবে শিং ভাঙা থাকলে বা সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে কুরবানিতে সমস্যা নেই।

আলেমরা বলেন, কুরবানির পশু নির্বাচন করার সময় সুস্থ, সবল ও ত্রুটিমুক্ত পশু বেছে নেওয়াই উত্তম। কারণ এটি মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আদায় করা একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। তাই সামর্থ্য অনুযায়ী ভালো পশু নির্বাচন করা মুস্তাহাব।

কুরবানি মুসলিম উম্মাহর জন্য আত্মত্যাগ ও আল্লাহর প্রতি নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের প্রতীক। এ ইবাদত সঠিকভাবে পালনের জন্য শরিয়তের বিধান জানা এবং সে অনুযায়ী আমল করাই একজন মুমিনের দায়িত্ব। ভাঙা শিংয়ের পশু নিয়ে অযথা বিভ্রান্ত না হয়ে নির্ভরযোগ্য ইসলামি জ্ঞান অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ইসলামী চিন্তাবিদরা।

ভাঙা শিংয়ের পশুর কুরবানি কি জায়েজ?

প্রকাশ: ১০:৪৩:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

ঈদুল আজহা সামনে এলেই কুরবানির পশু কেনা নিয়ে মানুষের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। তবে পশু নির্বাচনের সময় অনেকেই দ্বিধায় পড়ে যান কোন পশু কুরবানির উপযুক্ত, আর কোনটি নয়। বিশেষ করে ভাঙা শিংয়ের পশু নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও ভুল ধারণা দেখা যায়। ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে এ বিষয়ে পরিষ্কার বিধান জানা জরুরি।

কুরবানি শুধু পশু জবাইয়ের নাম নয়; এটি আল্লাহর প্রতি আনুগত্য, ত্যাগ ও তাকওয়ার এক অনন্য ইবাদত। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন, কুরবানির পশুর রক্ত বা গোশত তাঁর কাছে পৌঁছে না, বরং মানুষের অন্তরের তাকওয়াই আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হয়। তাই কুরবানির ক্ষেত্রে বাহ্যিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি শরিয়তের বিধান মেনে চলাও গুরুত্বপূর্ণ।

ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী, কোনো পশুর জন্মগতভাবে শিং না থাকলে সেই পশু দিয়ে কুরবানি আদায় বৈধ। কারণ কুরবানির জন্য শিং থাকা আবশ্যক নয়। একইভাবে, যদি পশুর শিংয়ের কেবল উপরের অংশ ভেঙে যায়, তাতেও কুরবানি শুদ্ধ হবে। এ বিষয়ে সাহাবায়ে কেরামের আমলও রয়েছে। বর্ণনায় এসেছে, হজরত আলী (রা.)-এর কাছে ভাঙা শিংয়ের পশু সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি এতে কোনো অসুবিধা নেই বলে মন্তব্য করেন।

তবে সব ধরনের শিং ভাঙা পশু কুরবানির উপযুক্ত নয়। ফকিহদের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, যদি শিং এমনভাবে উপড়ে যায় যে তার আঘাত মগজ পর্যন্ত পৌঁছে যায় এবং পশু মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে সেই পশু দিয়ে কুরবানি জায়েজ হবে না। কারণ এতে পশুর বড় ধরনের ত্রুটি সৃষ্টি হয়। কিন্তু শুধু বাহ্যিকভাবে শিং ভাঙা থাকলে বা সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে কুরবানিতে সমস্যা নেই।

আলেমরা বলেন, কুরবানির পশু নির্বাচন করার সময় সুস্থ, সবল ও ত্রুটিমুক্ত পশু বেছে নেওয়াই উত্তম। কারণ এটি মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আদায় করা একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। তাই সামর্থ্য অনুযায়ী ভালো পশু নির্বাচন করা মুস্তাহাব।

কুরবানি মুসলিম উম্মাহর জন্য আত্মত্যাগ ও আল্লাহর প্রতি নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের প্রতীক। এ ইবাদত সঠিকভাবে পালনের জন্য শরিয়তের বিধান জানা এবং সে অনুযায়ী আমল করাই একজন মুমিনের দায়িত্ব। ভাঙা শিংয়ের পশু নিয়ে অযথা বিভ্রান্ত না হয়ে নির্ভরযোগ্য ইসলামি জ্ঞান অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ইসলামী চিন্তাবিদরা।