গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ত্রিশ তলা ভবনের মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এসব তথ্য দেন। তিনি জানান, বিএনপির রাজনৈতিক ইশতেহারে কর্মসংস্থানের যে ঘোষণা দেয়া হয়েছিল তারই আলোকে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এই উদ্যোগ নিয়ে এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একটি সফল ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা গড়ে ৩ থেকে ৫ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারেন। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে প্রথম পর্যায়ে সব বিভাগের একটি করে জেলা নিয়ে মোট ৮ জেলায় উদ্যোগের অধীনে ঋণ বিতরণ করা হবে। নির্বাচিত জেলাগুলো হলো মানিকগঞ্জ, ফেনী, নওগাঁ, ঝিনাইদহ, ভোলা, হবিগঞ্জ, রংপুর ও নেত্রকোনা। এসব জেলার ব্যাংক, বিভিন্ন চেম্বার সংগঠন ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোনিত প্রতিনিধির সমন্বয়ে তরুণ উদ্যোক্তা নির্বাচিত করা হবে। ঋণ গ্রহীতাদের সর্বোচ্চ বয়স হবে ২৮ বছর। কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হস্তশিল্প, মৎস্য, পশুপালন, পর্যটন, সেবা, প্রযুক্তিভিত্তিক ও স্টার্টআপসহ সব ধরনের ব্যবসায়িক চিন্তাকে ‘উদ্যোগ’ এর আওতায় ধরা হবে।
এই মুখপাত্র আরো জানান, পর্যায়ক্রমে ৬৪০ উপজেলার তরুণ-তরুনীদেরও ঋণ সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি আর্থিকভাবেও সহায়তা করব, প্রয়োজনে ক্রেডিট প্লাস প্লাস অর্থাৎ মার্কেটিং টেকনোলজিক্যাল সাপোর্টও দেওয়া হবে তাদের। প্রথম পর্যায়ে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ঋণ দেয়া হবে। সেই ঋণ ফেরত আসলে গ্রান্ট বা এককালীন অনুদান হিসেবে ১০ লাখ টাকা দেয়া হবে। গ্রাহক পর্যায়ে সুদ হার সর্বোচ্চ ৪ থেকে ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদ্যমান পুনঃঅর্থায়ন তহবিল থেকে এ অর্থ দেওয়া হবে। এর আগে গত ১১ অগাস্ট ‘উদ্যোগ’ প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি) এর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।
এই ঋণ উপজেলা পর্যায়ে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার হবে কি না, জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, এটা যাতে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্তভাবেই বিতরণ ও ব্যবহার সেটা নিশ্চিত করা হবে। তবে একজন সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তার যদি কোন রাজনৈতিক পরিচয় থাকে, তবে সেই পরিচয়টা তার ঋণ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে কোন বাধা হিসেবে দাঁড়াবে না। অর্থ নিয়ে ভিন্ন খাতে ব্যবহার হলে তা শাস্তির আওতায় আসবে।
আইএফসি হলো বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বেসরকারি খাতবিষয়ক শাখা। ব্র্যাক ব্যাংকের অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের মাধ্যমে এই আনসিকিউরড ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল সলিউশন (ডব্লিউসিএস) সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এই ঋণের মূল লক্ষ্য হলো নারী উদ্যোক্তাদের পরিচালিত ব্যবসা এবং কৃষি খাতের ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আর্থিক সহায়তা…
প্রকল্পটির আওতায় ইস্টার্ন রিফাইনারিতে বছরে আরও ৩০ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধনের সক্ষমতা তৈরি হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের চাহিদার প্রায় ৪৫–৫০ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব হবে। প্রকল্পটি ২০৩০ সালের নভেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
দৈনিক টার্গেট 
























