নারী-শিশু সহিংসতা বন্ধে সাত দফা দাবি
রাজধানীতে শিশু রামিসার ধর্ষণ ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইসলামী ছাত্রীসংস্থা-এর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ শাখা। একই সঙ্গে দেশে নারী ও শিশুদের ওপর ক্রমবর্ধমান সহিংসতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে সংগঠনের নেত্রীরা বলেন, সমাজে অপরাধ বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ বিচারহীনতার সংস্কৃতি। তারা দাবি করেন, শিশু রামিসার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ সংঘটনের সাহস কেউ না পায়।
মানববন্ধন থেকে সাত দফা দাবি ও বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতনের প্রতিটি মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা থাকতে হবে। পাশাপাশি এসব মামলার অগ্রগতি নিয়মিত জনগণের সামনে প্রকাশ করার আহ্বান জানানো হয়। প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায় সংগঠনটি।
সংগঠনের নেত্রীরা আরও বলেন, সামাজিক অবক্ষয় ও অপরাধ প্রবণতা কমাতে মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধ এবং অশ্লীল ওয়েবসাইট বন্ধে রাষ্ট্রকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন পর্যায়ে নৈতিক শিক্ষা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদারের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
বক্তারা মনে করেন, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কেবল আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়, বরং আইনের কার্যকর প্রয়োগ এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়ন জরুরি। তারা সমাজের সব স্তরের মানুষকে নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেত্রীরা। তাদের মধ্যে ছিলেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভানেত্রী মারুফা তাবাসসুম, উত্তর শাখার শিক্ষা বিভাগের নেত্রী ইকরা কবীর নূর, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রাইসা রিফাত জুই, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভানেত্রী সুখীমন খাতুন এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
