জিয়ার শাহাদতবার্ষিকীতে বিএনপির ৮ দিনের কর্মসূচি
শহীদ রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে দেশব্যাপী আট দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। শুক্রবার রাজধানীর নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি জানান, আগামী ৩০ মে শনিবার ভোর থেকেই কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশে দলীয় কার্যালয়গুলোতে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে এবং কালো পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে শোক কর্মসূচি শুরু হবে। একই দিন সকালে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা রাজধানীর শেরেবাংলানগরে অবস্থিত জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণের পাশাপাশি দোয়া ও ফাতেহা পাঠের আয়োজনও থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো সারা দেশে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে। এর মধ্যে রয়েছে আলোচনা সভা, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল, অসহায় মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ এবং দরিদ্রদের বস্ত্র সহায়তা। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এসব কর্মসূচি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানান তিনি।
এ সময় দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন বিএনপির এই নেতা। তিনি দাবি করেন, গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। রাজনৈতিক মতভেদ থাকতে পারে, তবে কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি দেশের জন্য ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রিজভীর ভাষ্য অনুযায়ী, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং উৎপাদনভিত্তিক অর্থনীতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে জিয়াউর রহমান এমন একজন নেতা, যিনি সংকটময় সময়ে নেতৃত্ব দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় নতুন দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন।
বিএনপি নেতারা আশা করছেন, এবারের শাহাদতবার্ষিকীর কর্মসূচির মাধ্যমে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হবে এবং জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন নতুন প্রজন্মের কাছেও আরও বেশি তুলে ধরা সম্ভব হবে।
