ঢাকার ডেমরা থানার লুৎফর রহমান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় দুর্দান্ত সাফল্য অর্জন করেছে বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা।
এই সাফল্যের অন্যতম উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে ছাত্র মো: মুনতাকিম সিফাদ, যে ট্যালেন্টপুল বিভাগে বৃত্তি অর্জন করে বিদ্যালয়, পরিবার ও এলাকাবাসীর মুখ উজ্জ্বল করেছে। তার পরীক্ষার রোল নম্বর ৩০৭৬২৯১। মুনতাকিম ডেমরা থানার বাসিন্দা মো: শিপন আলী ও মোসাম্মৎ পারভিন আক্তার দম্পতির সন্তান।
জানা যায়, লুৎফর রহমান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে এবারের বৃত্তি পরীক্ষায় মোট ১০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছিল। দীর্ঘদিনের অক্লান্ত পরিশ্রম ও শিক্ষকমণ্ডলীর আন্তরিক তত্ত্বাবধানের ফলে এদের মধ্যে ৬ জন শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয়ে বৃত্তি অর্জন করে, যা বিদ্যালয়টির সামগ্রিক ফলাফলে এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কৃতী শিক্ষার্থীদের মধ্যে তিনজন শিক্ষার্থী ট্যালেন্টপুল গ্রেডে এবং তিনজন শিক্ষার্থী সাধারণ বৃত্তি গ্রেডে সাফল্য অর্জন করে। বিদ্যালয়ের এই সম্মিলিত কৃতিত্বে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের মাঝে বিরাজ করছে উৎসবমুখর আনন্দঘন পরিবেশ।
এই অসামান্য ফলাফলে অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তিনি বলেন, “আমাদের শিক্ষার্থীদের এই সাফল্য কোনো একদিনের অর্জন নয়, এটি দীর্ঘদিনের নিরলস পরিশ্রম, নিয়মিত পাঠদান এবং অভিভাবকদের আন্তরিক সহযোগিতার ফসল। মুনতাকিমসহ আমাদের প্রতিটি কৃতী শিক্ষার্থীর জন্য আমরা গর্বিত। আমরা চাই, তারা যেন ভবিষ্যতেও নিজেদের মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে দেশ ও জাতির জন্য গৌরব বয়ে আনতে পারে। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সব সময় তাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।”
সন্তানের এই সাফল্যে আবেগে আপ্লুত পিতা মো: শিপন আলী বলেন, “ছেলেকে প্রতিদিন পড়ার টেবিলে বসিয়ে রাখতে যে পরিশ্রম করেছি, আজ তার প্রতিদান পেলাম। ওর চোখে যখন স্বপ্ন দেখতাম, তখনই বিশ্বাস করতাম ও একদিন সফল হবেই। আজকের এই দিনটি আমাদের পরিবারের জন্য সবচেয়ে খুশির দিন। আল্লাহর কাছে অশেষ শুকরিয়া জানাই।”
মা মোসাম্মৎ পারভিন আক্তার চোখে আনন্দাশ্রু নিয়ে বলেন, “রাতের পর রাত জেগে ওর পড়াশোনার সঙ্গী হয়েছি নিজে। কখনো ক্লান্তি লাগেনি, কারণ জানতাম এই কষ্টের ফল একদিন মিষ্টি হবে। আজ ওর হাসিমুখ দেখে মনে হচ্ছে, একজন মায়ের সব ত্যাগ স্বার্থক হয়েছে। আমি চাই আমার ছেলে সারাজীবন এভাবেই ভালো কাজ করে যাক, মানুষের মতো মানুষ হোক।”
আদরের ভাইয়ের এই সাফল্যে খুশিতে উচ্ছ্বসিত ছোট বোন মাইমুনা সৃষ্টি (ইরা) মিষ্টি হেসে বলে, “আমার ভাইয়া অনেক ভালো, ও সবসময় আমাকে পড়াশোনায় সাহায্য করে। ভাইয়া বৃত্তি পেয়েছে শুনে আমার খুব ভালো লাগছে। আমিও বড় হয়ে ভাইয়ার মতো অনেক ভালো রেজাল্ট করতে চাই।”
মুনতাকিমের এই সাফল্যে আনন্দিত এলাকাবাসী ও স্বজনরাও তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেছেন। সবার প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও মুনতাকিম তার মেধা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে পরিবার, বিদ্যালয় ও দেশের জন্য আরও গৌরব বয়ে আনবে।















Leave a Reply