স্ক্যাম সেন্টার থেকে দেশে ফিরলেন ৩৮ বাংলাদেশি

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৬:৪৩:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৯৩ বার পঠিত হয়েছে

রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফিরে আসা বাংলাদেশিদের জরুরি সহায়তা, কাউন্সেলিং এবং নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছাতে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম। সিভিল এভিয়েশন সিকিউরিটি ও প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহযোগিতায় এসব সহায়তা দেওয়া হয়।

ফেরত আসা কর্মীরা জানান, উচ্চ বেতনের চাকরির আশ্বাস দিয়ে তাঁদের কম্বোডিয়ায় নেওয়া হলেও সেখানে গিয়ে অনলাইন প্রতারণার কাজে বাধ্য করা হয়। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত, প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা প্রদান এবং অভিযোগ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

এর আগে গত জুনে কম্বোডিয়া থেকে ৫৮৩ জন বাংলাদেশি ফেরেন। দেশটির সরকার গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে জরিমানা ছাড়াই অতিরিক্ত সময় অবস্থানরত বিদেশিদের স্বেচ্ছায় নিজ নিজ দেশে ফেরার সুযোগ দেওয়ার পর নতুন করে ৩৮ বাংলাদেশি দেশে ফিরলেন। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, আরও প্রায় ১ হাজার ৮০০ বাংলাদেশি দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন।

ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, কম্বোডিয়ার বিভিন্ন স্ক্যাম কম্পাউন্ডে আটকে রেখে এসব বাংলাদেশিকে সাইবার স্ক্যাম কার্যক্রমে যুক্ত হতে বাধ্য করা হয়েছিল। ফেরত আসা ব্যক্তিদের কাছ থেকে জানা গেছে, কম্বোডিয়ায় অবস্থানরত কিছু বাংলাদেশি মানবপাচারকারী দেশে ফেরার পথে তাঁদের ভয়ভীতি দেখানো, চাপ প্রয়োগ এবং দেশে না ফেরার জন্য নানা ধরনের চেষ্টা করেছেন।

শরিফুল হাসান বলেন, ‘সাইবার স্ক্যাম এখন মানবপাচারের অন্যতম ভয়াবহ রূপ। উন্নত দেশে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশিদের বিদেশে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক অনলাইন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা হয়। নির্ধারিত টার্গেট পূরণে ব্যর্থ হলে তাঁদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়।’ তিনি আরও বলেন, এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত দালাল, রিক্রুটিং এজেন্সি ও আন্তর্জাতিক পাচারচক্রকে শনাক্ত করে তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনা জরুরি।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরে ১৫ হাজার ৯২১ জন বাংলাদেশি কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে কম্বোডিয়ায় গেছেন। তবে দেশে ফিরে আসা ভুক্তভোগীদের দাবি, দেশটিতে এখনো হাজার হাজার বাংলাদেশি চাকরি না পেয়ে কিংবা প্রতারণার শিকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাঁদের অধিকাংশকেই উচ্চ বেতনের চাকরির আশ্বাস দিয়ে বিদেশে পাঠানো হয়েছিল।

এ ধরনের প্রতারণার শিকার হয়ে এর আগেও বাংলাদেশিরা দেশে ফিরেছেন। গত ২২ জানুয়ারি মিয়ানমারের একটি সাইবার স্ক্যাম সেন্টার থেকে আটজন এবং ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর আরও ১৮ বাংলাদেশি দেশে ফেরেন। তাঁদেরও ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে থাইল্যান্ড সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমারে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে পৌঁছানোর পর পাসপোর্ট ও মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে জোরপূর্বক সাইবার প্রতারণার কাজে নিয়োজিত করা হয়।

গত জুনে কম্বোডিয়া থেকে প্রথম ধাপে দেশে ফেরা ৫৮৩ জনের অনেকের কাছেই বিএমইটির ছাড়পত্র ছিল বলেও জানা গেছে। ফলে বৈধ প্রক্রিয়ায় বিদেশে গিয়েও প্রতারণার শিকার হওয়ার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, মিয়ানমার, লাওস ও ভিয়েতনামে চাকরির ক্ষেত্রে শতভাগ নিশ্চিত না হয়ে যাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছে ব্র্যাক। বিদেশে যাওয়ার আগে নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান, চাকরির ধরন, বেতন ও কর্মস্থল সম্পর্কে যথাযথভাবে যাচাই করার পাশাপাশি বৈধ ও নিরাপদ অভিবাসন প্রক্রিয়া অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘যেখানে অন্যায়-অবিচার, সেখানেই শ্রীকৃষ্ণ আবির্ভূত হয়েছেন আপন মহিমায়। তিনি সর্বদা মানবতা ও সত্যের পথ খুঁজেছেন। শ্রীকৃষ্ণের ভাব ও দর্শন হিন্দু সমাজ ও সংস্কৃতিতে গভীরভাবে প্রোথিত, যা যুগ যুগ ধরে মানুষকে মানবিক, পরোপকারী ও অন্যের প্রতি সহমর্মী হতে অনুপ্রাণিত করে আসছে।’

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর বোন শেখ রেহানা এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সাবেক সভাপতি ও এক্সিম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম মজুমদারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগ রয়েছে তাঁরা বিভিন্ন ব্যাংকের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল…

জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তারকাচিহ্নিত প্রশ্ন উত্থাপনের জন্য জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য জিএম নজরুল ইসলামকে ফ্লোর দিয়েছিলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। মাইক্রোফোনে নাম ডাকার পর স্পিকার ফ্লোরে লক্ষ্য করেন, নজরুল ইসলাম তাঁর আসনে নেই। এরপরই স্পিকার হাস্যরসাত্মক কণ্ঠে বলে ওঠেন…

জনপ্রিয় টার্গেট

স্ক্যাম সেন্টার থেকে দেশে ফিরলেন ৩৮ বাংলাদেশি

প্রকাশ: ০৬:৪৩:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফিরে আসা বাংলাদেশিদের জরুরি সহায়তা, কাউন্সেলিং এবং নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছাতে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম। সিভিল এভিয়েশন সিকিউরিটি ও প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহযোগিতায় এসব সহায়তা দেওয়া হয়।

ফেরত আসা কর্মীরা জানান, উচ্চ বেতনের চাকরির আশ্বাস দিয়ে তাঁদের কম্বোডিয়ায় নেওয়া হলেও সেখানে গিয়ে অনলাইন প্রতারণার কাজে বাধ্য করা হয়। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত, প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা প্রদান এবং অভিযোগ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

এর আগে গত জুনে কম্বোডিয়া থেকে ৫৮৩ জন বাংলাদেশি ফেরেন। দেশটির সরকার গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে জরিমানা ছাড়াই অতিরিক্ত সময় অবস্থানরত বিদেশিদের স্বেচ্ছায় নিজ নিজ দেশে ফেরার সুযোগ দেওয়ার পর নতুন করে ৩৮ বাংলাদেশি দেশে ফিরলেন। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, আরও প্রায় ১ হাজার ৮০০ বাংলাদেশি দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন।

ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, কম্বোডিয়ার বিভিন্ন স্ক্যাম কম্পাউন্ডে আটকে রেখে এসব বাংলাদেশিকে সাইবার স্ক্যাম কার্যক্রমে যুক্ত হতে বাধ্য করা হয়েছিল। ফেরত আসা ব্যক্তিদের কাছ থেকে জানা গেছে, কম্বোডিয়ায় অবস্থানরত কিছু বাংলাদেশি মানবপাচারকারী দেশে ফেরার পথে তাঁদের ভয়ভীতি দেখানো, চাপ প্রয়োগ এবং দেশে না ফেরার জন্য নানা ধরনের চেষ্টা করেছেন।

শরিফুল হাসান বলেন, ‘সাইবার স্ক্যাম এখন মানবপাচারের অন্যতম ভয়াবহ রূপ। উন্নত দেশে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশিদের বিদেশে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক অনলাইন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা হয়। নির্ধারিত টার্গেট পূরণে ব্যর্থ হলে তাঁদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়।’ তিনি আরও বলেন, এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত দালাল, রিক্রুটিং এজেন্সি ও আন্তর্জাতিক পাচারচক্রকে শনাক্ত করে তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনা জরুরি।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরে ১৫ হাজার ৯২১ জন বাংলাদেশি কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে কম্বোডিয়ায় গেছেন। তবে দেশে ফিরে আসা ভুক্তভোগীদের দাবি, দেশটিতে এখনো হাজার হাজার বাংলাদেশি চাকরি না পেয়ে কিংবা প্রতারণার শিকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাঁদের অধিকাংশকেই উচ্চ বেতনের চাকরির আশ্বাস দিয়ে বিদেশে পাঠানো হয়েছিল।

এ ধরনের প্রতারণার শিকার হয়ে এর আগেও বাংলাদেশিরা দেশে ফিরেছেন। গত ২২ জানুয়ারি মিয়ানমারের একটি সাইবার স্ক্যাম সেন্টার থেকে আটজন এবং ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর আরও ১৮ বাংলাদেশি দেশে ফেরেন। তাঁদেরও ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে থাইল্যান্ড সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমারে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে পৌঁছানোর পর পাসপোর্ট ও মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে জোরপূর্বক সাইবার প্রতারণার কাজে নিয়োজিত করা হয়।

গত জুনে কম্বোডিয়া থেকে প্রথম ধাপে দেশে ফেরা ৫৮৩ জনের অনেকের কাছেই বিএমইটির ছাড়পত্র ছিল বলেও জানা গেছে। ফলে বৈধ প্রক্রিয়ায় বিদেশে গিয়েও প্রতারণার শিকার হওয়ার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, মিয়ানমার, লাওস ও ভিয়েতনামে চাকরির ক্ষেত্রে শতভাগ নিশ্চিত না হয়ে যাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছে ব্র্যাক। বিদেশে যাওয়ার আগে নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান, চাকরির ধরন, বেতন ও কর্মস্থল সম্পর্কে যথাযথভাবে যাচাই করার পাশাপাশি বৈধ ও নিরাপদ অভিবাসন প্রক্রিয়া অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘যেখানে অন্যায়-অবিচার, সেখানেই শ্রীকৃষ্ণ আবির্ভূত হয়েছেন আপন মহিমায়। তিনি সর্বদা মানবতা ও সত্যের পথ খুঁজেছেন। শ্রীকৃষ্ণের ভাব ও দর্শন হিন্দু সমাজ ও সংস্কৃতিতে গভীরভাবে প্রোথিত, যা যুগ যুগ ধরে মানুষকে মানবিক, পরোপকারী ও অন্যের প্রতি সহমর্মী হতে অনুপ্রাণিত করে আসছে।’

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর বোন শেখ রেহানা এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সাবেক সভাপতি ও এক্সিম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম মজুমদারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগ রয়েছে তাঁরা বিভিন্ন ব্যাংকের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল…

জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তারকাচিহ্নিত প্রশ্ন উত্থাপনের জন্য জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য জিএম নজরুল ইসলামকে ফ্লোর দিয়েছিলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। মাইক্রোফোনে নাম ডাকার পর স্পিকার ফ্লোরে লক্ষ্য করেন, নজরুল ইসলাম তাঁর আসনে নেই। এরপরই স্পিকার হাস্যরসাত্মক কণ্ঠে বলে ওঠেন…