খুলনার কয়রা উপজেলার উত্তর বেদকাশী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে আলোচনায় এসেছেন দীর্ঘদিনের স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত শেখ সিরাজুল ইসলাম। তৃণমূল পর্যায়ে দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে আসন্ন নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন তিনি।
সুন্দরবনসংলগ্ন কয়রা উপজেলার উত্তর বেদকাশী ইউনিয়ন ভৌগোলিক অবস্থান ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। নদীভাঙন, উপকূলীয় ঝুঁকি ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার মতো সমস্যার মধ্যে বসবাস করা এই এলাকার মানুষের উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার বিষয়টি স্থানীয় রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এমন প্রেক্ষাপটে ইউনিয়নটির নেতৃত্ব নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
শেখ সিরাজুল ইসলাম উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের শেখ সরদার পাড়ার প্রয়াত রহিম বকস্ শেখের সন্তান। তাঁর রাজনৈতিক পথচলার শুরু শিক্ষাজীবন থেকেই। বেদকাশী কলেজিয়েট স্কুলে অধ্যয়নকালে শিক্ষার্থীদের প্রত্যক্ষ ভোটে সহসভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হন তিনি। শিক্ষার্থীদের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার সেই অভিজ্ঞতাকে তাঁর নেতৃত্বের প্রাথমিক ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
পরবর্তী সময়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হন সিরাজুল ইসলাম। ১৯৮৭ সালে কয়রা উপজেলা ছাত্রদলের প্রথম কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এরপর পর্যায়ক্রমে উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। বিএনপির উপজেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি উত্তর বেদকাশী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করে স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার কথা জানিয়েছেন তাঁর অনুসারীরা। তাঁদের ভাষ্য, রাজনৈতিক চাপ, মামলা ও হামলার মতো পরিস্থিতিতেও তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছেন এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমে যুক্ত থেকেছেন।
বর্তমানে শেখ সিরাজুল ইসলাম উত্তর বেদকাশী ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচিত সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবার ইউনিয়নের সর্বোচ্চ স্থানীয় সরকার পদে দায়িত্ব নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি। তবে চেয়ারম্যান পদে তাঁর প্রার্থিতা নির্ভর করছে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর।
নিজের নির্বাচনী প্রত্যাশা ও এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে শেখ সিরাজুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনঘেঁষা এই উপকূলীয় জনপদের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙনসহ বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। দল তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ভূমিকা, ত্যাগ ও আনুগত্য বিবেচনা করে মনোনয়ন দিলে উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নকে বিএনপির একটি শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তি হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেবেন। একই সঙ্গে এলাকার উন্নয়ন, জনসেবার মান বৃদ্ধি এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে ইউনিয়নটিকে একটি মডেল ইউনিয়নে রূপান্তরের চেষ্টা করবেন।
এদিকে তাঁর সমর্থক ও স্থানীয় তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের একাংশ মনে করছেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং জনপ্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁকে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে রাখতে পারে। তাঁদের প্রত্যাশা, দলীয় মনোনয়ন পেলে আসন্ন নির্বাচনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অবস্থান তৈরি করতে পারবেন।
তবে উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নে বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থী কে হবেন, তা দলীয় সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে। মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা এবং স্থানীয় ভোটারদের মনোভাব আগামী দিনের নির্বাচনী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। শেষ পর্যন্ত দলীয় মনোনয়ন ও ভোটারদের সমর্থনএই দুই বিষয়ই শেখ সিরাজুল ইসলামের নির্বাচনী সম্ভাবনার ক্ষেত্রে বড় নির্ধারক হয়ে উঠবে।
শেখ সিরাজউদ্দৌলা লিংকন 



















