শখে শেখা দরজির কাজেই শিল্পীর দিনবদল

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ১০:০৮:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৩২ বার পঠিত হয়েছে

২১ বছর আগে ১ হাজার ২০০ টাকায় শুরু করা ব্যবসায় এখন তাঁর প্রতি মাসে আয় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। শিল্পী বেগম যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার কীর্তিপুর গ্রামের মো. শফিকুল ইসলামের স্ত্রী। তাঁদের চারটি সন্তান রয়েছে।

২০০১ সালে সপ্তম শ্রেণিতে পড়াকালীন শিল্পী শখের বশে পাড়ার এক চাচির কাছ থেকে কাপড় সেলাইয়ের কাজ শেখেন। পরের বছরে তাঁর বিবাহ হয়ে যায়। শফিকুল ইসলাম তখন মোটর গ্যারেজে কাজ করতেন। পারিশ্রমিক হিসেবে পেতেন প্রতিদিন ৩০ টাকা। তখন সন্তান না হলেও সংসারে সদস্য ছিলেন চারজন। ২০০৫ সালে একটি মেয়েসন্তান জন্ম নিলে অভাব আরও বেড়ে যায়। সে সময়ে এক ফুফুর কাছে কাপড় সেলাইয়ের কাজ শেখেন তিনি। সেই কাজই এখন আয়ের পথ হয়ে উঠেছে শিল্পীর।

শ্বশুরবাড়িতে কোনো ঘরবাড়ি না থাকায় তখন কখনো বাপের বাড়ি, কখনো রেললাইনের পাশে বসবাস করতে হয়েছে। তিন বেলা দুমুঠো ভাত জোগাড় হওয়াটা ছিল কঠিন বিষয়। ২০০৫ সালে একটি সংগঠন থেকে শফিকুল ইসলাম পাঁচ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ১ হাজার ২০০ টাকায় একটি পুরোনো সেলাই মেশিন কিনে দেন শিল্পীকে। আর বাকি টাকা দিয়ে কেনেন একটি রিকশা ভ্যান। শিল্পী সেই সেলাই মেশিন দিয়ে বাড়িতে শুরু করেন দরজির কাজ। কিছুদিনের মধ্যে তাঁর কাজ বাড়তে থাকে; সঙ্গে সুনামও। একই সঙ্গে বেড়ে চলে আয়-রোজগার।

২০১২-১৩ সালের দিকে শিল্পী শ্বশুরবাড়িতে একটি ঘর পাকা করেন নিজের উপার্জনের টাকায়। এই বছরের প্রথম দিকে ঝিকরগাছার হাসপাতাল রোডে রেলক্রসিং মোড়ে সজীব টেইলার্স নামের দোকান দিয়েছেন। সেলাইয়ের পাশাপাশি কাপড়ের ব্যবসাও শুরু করেন শিল্পী। দোকানে বিভিন্ন ধরনের থ্রিপিসের সঙ্গে অন্যান্য কাপড়ও বিক্রি করতে থাকেন। বড় মেয়ে আলফি শাহরিন আশা অনার্স প্রথম বর্ষে পড়েন। তিনি মায়ের কাজে সাহায্য করেন। শিল্পী ফাঁকে ফাঁকে নারীদের কাপড় সেলাইয়ের কাজও শেখান।

শিল্পীর দোকানে গিয়ে দেখা যায়, দুটি মেশিনে কাজ করছেন মা-মেয়ে। দোকানে সাজিয়ে রেখেছেন বিভিন্ন ধরনের থ্রি-পিস, বাটিকসহ নানা ধরনের কাপড়। নারীরা দোকানে এসে নিজেদের পছন্দের কাপড় দিয়ে পোশাকের অর্ডার দিয়ে যাচ্ছেন। কাজের ফাঁকে আলাপচারিতায় শিল্পী বলেন, ‘এখানে এত পরিমাণে কাজ হয়, যা করে পারি না। এই কাজ করে এখন আর অভাব নেই, ছাদের বাড়ি করেছি। ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া শেখাচ্ছি।’

প্রশ্ন: আমি খালার সঙ্গে ঢাকায় থাকতাম। ছয় মাস আগে খালা একটি দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। বর্তমানে একটা হোস্টেলে অন্যান্য মেয়ের সঙ্গে থাকি। সারা দিন ক্লাস করে রুমে এসে খাবার বানাই। আমার সারা দিনের জীবন একটা নির্দিষ্ট ছকে চলে। কিন্তু নিজেকে ওই দুর্ঘটনার পরের দিনগুলো থেকে বের করতে পারছি না। খালা আমাকে আগলে

এ বছরের আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবসের মূল ভাবনা ‘প্রকৃতি রক্ষায় গ্রামীণ নারী কৃষক’। বীজ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা, পানি ব্যবস্থাপনা ও মাটি পুনরুদ্ধারে প্রতিদিন গ্রামীণ নারীরা যে ভূমিকা রাখছেন, তা স্মরণীয় করে রাখতেই এই আয়োজন। শুধু খাদ্য সংস্থান নয়, আমাদের অস্তিত্বের মূল প্রাকৃতিক সম্পদগুলো তাঁরা

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও ন্যায়বিচারের আন্দোলনে নারীরা প্রায়ই সামনের সারিতে থাকেন। তবে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সংবিধান প্রণয়ন, নীতিনির্ধারণ ও নতুন প্রতিষ্ঠান গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় তাঁদের অংশগ্রহণ অনেক ক্ষেত্রেই সীমিত থাকে। রাজনৈতিক রূপান্তরে নেতৃত্ব দিলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর্যায় থেকে নারীরা

জনপ্রিয় টার্গেট

শখে শেখা দরজির কাজেই শিল্পীর দিনবদল

প্রকাশ: ১০:০৮:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

২১ বছর আগে ১ হাজার ২০০ টাকায় শুরু করা ব্যবসায় এখন তাঁর প্রতি মাসে আয় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। শিল্পী বেগম যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার কীর্তিপুর গ্রামের মো. শফিকুল ইসলামের স্ত্রী। তাঁদের চারটি সন্তান রয়েছে।

২০০১ সালে সপ্তম শ্রেণিতে পড়াকালীন শিল্পী শখের বশে পাড়ার এক চাচির কাছ থেকে কাপড় সেলাইয়ের কাজ শেখেন। পরের বছরে তাঁর বিবাহ হয়ে যায়। শফিকুল ইসলাম তখন মোটর গ্যারেজে কাজ করতেন। পারিশ্রমিক হিসেবে পেতেন প্রতিদিন ৩০ টাকা। তখন সন্তান না হলেও সংসারে সদস্য ছিলেন চারজন। ২০০৫ সালে একটি মেয়েসন্তান জন্ম নিলে অভাব আরও বেড়ে যায়। সে সময়ে এক ফুফুর কাছে কাপড় সেলাইয়ের কাজ শেখেন তিনি। সেই কাজই এখন আয়ের পথ হয়ে উঠেছে শিল্পীর।

শ্বশুরবাড়িতে কোনো ঘরবাড়ি না থাকায় তখন কখনো বাপের বাড়ি, কখনো রেললাইনের পাশে বসবাস করতে হয়েছে। তিন বেলা দুমুঠো ভাত জোগাড় হওয়াটা ছিল কঠিন বিষয়। ২০০৫ সালে একটি সংগঠন থেকে শফিকুল ইসলাম পাঁচ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ১ হাজার ২০০ টাকায় একটি পুরোনো সেলাই মেশিন কিনে দেন শিল্পীকে। আর বাকি টাকা দিয়ে কেনেন একটি রিকশা ভ্যান। শিল্পী সেই সেলাই মেশিন দিয়ে বাড়িতে শুরু করেন দরজির কাজ। কিছুদিনের মধ্যে তাঁর কাজ বাড়তে থাকে; সঙ্গে সুনামও। একই সঙ্গে বেড়ে চলে আয়-রোজগার।

২০১২-১৩ সালের দিকে শিল্পী শ্বশুরবাড়িতে একটি ঘর পাকা করেন নিজের উপার্জনের টাকায়। এই বছরের প্রথম দিকে ঝিকরগাছার হাসপাতাল রোডে রেলক্রসিং মোড়ে সজীব টেইলার্স নামের দোকান দিয়েছেন। সেলাইয়ের পাশাপাশি কাপড়ের ব্যবসাও শুরু করেন শিল্পী। দোকানে বিভিন্ন ধরনের থ্রিপিসের সঙ্গে অন্যান্য কাপড়ও বিক্রি করতে থাকেন। বড় মেয়ে আলফি শাহরিন আশা অনার্স প্রথম বর্ষে পড়েন। তিনি মায়ের কাজে সাহায্য করেন। শিল্পী ফাঁকে ফাঁকে নারীদের কাপড় সেলাইয়ের কাজও শেখান।

শিল্পীর দোকানে গিয়ে দেখা যায়, দুটি মেশিনে কাজ করছেন মা-মেয়ে। দোকানে সাজিয়ে রেখেছেন বিভিন্ন ধরনের থ্রি-পিস, বাটিকসহ নানা ধরনের কাপড়। নারীরা দোকানে এসে নিজেদের পছন্দের কাপড় দিয়ে পোশাকের অর্ডার দিয়ে যাচ্ছেন। কাজের ফাঁকে আলাপচারিতায় শিল্পী বলেন, ‘এখানে এত পরিমাণে কাজ হয়, যা করে পারি না। এই কাজ করে এখন আর অভাব নেই, ছাদের বাড়ি করেছি। ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া শেখাচ্ছি।’

প্রশ্ন: আমি খালার সঙ্গে ঢাকায় থাকতাম। ছয় মাস আগে খালা একটি দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। বর্তমানে একটা হোস্টেলে অন্যান্য মেয়ের সঙ্গে থাকি। সারা দিন ক্লাস করে রুমে এসে খাবার বানাই। আমার সারা দিনের জীবন একটা নির্দিষ্ট ছকে চলে। কিন্তু নিজেকে ওই দুর্ঘটনার পরের দিনগুলো থেকে বের করতে পারছি না। খালা আমাকে আগলে

এ বছরের আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবসের মূল ভাবনা ‘প্রকৃতি রক্ষায় গ্রামীণ নারী কৃষক’। বীজ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা, পানি ব্যবস্থাপনা ও মাটি পুনরুদ্ধারে প্রতিদিন গ্রামীণ নারীরা যে ভূমিকা রাখছেন, তা স্মরণীয় করে রাখতেই এই আয়োজন। শুধু খাদ্য সংস্থান নয়, আমাদের অস্তিত্বের মূল প্রাকৃতিক সম্পদগুলো তাঁরা

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও ন্যায়বিচারের আন্দোলনে নারীরা প্রায়ই সামনের সারিতে থাকেন। তবে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সংবিধান প্রণয়ন, নীতিনির্ধারণ ও নতুন প্রতিষ্ঠান গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় তাঁদের অংশগ্রহণ অনেক ক্ষেত্রেই সীমিত থাকে। রাজনৈতিক রূপান্তরে নেতৃত্ব দিলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর্যায় থেকে নারীরা