ইরান যুদ্ধে ব্যয় বৃদ্ধির এই তথ্য এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের আগে অজনপ্রিয় এই সংঘাতের রাজনৈতিক প্রভাব সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে রিপাবলিকানরা। ওই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আগামী দুই বছরের জন্য কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারিত হবে।
যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে। এতে রিপাবলিকান প্রার্থীদের প্রতি সমর্থন কমেছে এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদনের হারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা খুব সামান্য।
এ ছাড়া সামরিক সরঞ্জাম প্রতিস্থাপন এবং যুদ্ধের কারণে হারানো সামরিক প্ল্যাটফর্মের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি প্রয়োজন হবে। এসব ক্ষতির মধ্যে যুদ্ধ চলাকালে হারিয়ে যাওয়া বহু ড্রোনসহ উড়োজাহাজের ক্ষতিও রয়েছে।
ট্রাম্প ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেন। সে সময় তিনি ধারণা দিয়েছিলেন, সংঘাতটি স্বল্প সময়ের মধ্যেই শেষ হবে।
যুদ্ধের শুরুতে ট্রাম্পের কৌশল ছিল, প্রথমে ব্যয়বহুল ও উন্নত প্রযুক্তির নির্ভুল নিশানায় আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইরানের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করা। এরপর তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল অস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালানোর পরিকল্পনা ছিল তাঁর। এসব অস্ত্রের মধ্যে ছিল আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য জেডিএএমের মতো সাধারণ মাধ্যাকর্ষণনির্ভর বোমা, যেগুলোর পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।
কিন্তু এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ায় ইরান ভূগর্ভস্থ অস্ত্র সংরক্ষণাগারগুলো থেকে মাটি সরিয়ে সেগুলো আবার ব্যবহারের উপযোগী করার সময় পায়। এর ফলে দেশটির কিছু প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আবার সচল করা সম্ভব হয়। যুদ্ধের আগে এসব অস্ত্র ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নাগালের বাইরে ছিল।
এরপর ট্রাম্প ইরানের তেল রপ্তানি থেকে আয় বন্ধ করে দিতে দেশটির ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করেন। একই সঙ্গে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর আবার সামরিক অভিযান শুরুর সম্ভাবনাও উন্মুক্ত রেখেছেন তিনি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্দেশ দেওয়া হলে বড় পরিসরে আবার লড়াই শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে পেন্টাগন।

দৈনিক টার্গেট 





















