দৈনিক টার্গেট

দেশের চেতনায়

ট্রাম্পের ছাড়, গাজা দখলে নেতানিয়াহু

গাজা উপত্যকা নিয়ে ইসরাইল তার কৌশলগত অবস্থানে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে এলাকাটি সম্পূর্ণভাবে দখলের উদ্দেশ্যে অভিযান সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিশ্বরাজনীতিতে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে নির্দেশনা এসেছে শুধু সীমিত লক্ষ্য নয়, বরং গোটা গাজা উপত্যকার উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাই এখন প্রধান লক্ষ্য। এই অভিযানে এমন এলাকাগুলোতেও সামরিক তৎপরতা চালানো হবে, যেগুলো এতদিন অপেক্ষাকৃত সংরক্ষিত ছিল, যেমন ঘনবসতিপূর্ণ কেন্দ্র এবং শরণার্থী শিবিরগুলো।

বিশ্ব নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ইসরাইলের সামরিক বাহিনী এই নতুন দিকনির্দেশনাকে কেন্দ্র করে কৌশল পুনর্গঠন করছে। নতুন পরিকল্পনার আওতায় এমন স্থানে অভিযান চালানো হতে পারে যেখানে সন্দেহভাজন গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম এবং জিম্মি অবস্থানের তথ্য রয়েছে।

একাধিক সামরিক সূত্র ইঙ্গিত দিয়েছে, গাজার সামগ্রিক পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সমঝোতার পথ থেকে সরে এসে শক্তিমত্তার মাধ্যমে সমাধান চায় ইসরাইল। সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যেই এক উচ্চপর্যায়ের সামরিক কর্মকর্তা তার পূর্বনির্ধারিত একটি আন্তর্জাতিক সফর বাতিল করেছেন বলে জানা গেছে, যা নতুন দিক পরিবর্তনের গুরুত্ব নির্দেশ করে।

এদিকে নিরাপত্তা বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, সাম্প্রতিক এক চুক্তির সম্ভাবনা থাকলেও, সেটি বাস্তবায়ন না করে সামরিক পথ বেছে নিয়েছে শীর্ষ নেতৃত্ব। ধারণা করা হচ্ছে, কৌশলগত এই অবস্থান মূলত গাজা উপত্যকার স্থায়ী নিয়ন্ত্রণের রূপরেখা হিসেবেই বাস্তবায়ন হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে দেশ-বিদেশে বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন উঠেছে এই যুদ্ধ কি শুধুই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য, নাকি এর পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক লাভের চিন্তা? বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমালোচনায় বলা হচ্ছে, চলমান সংঘাতকে দীর্ঘায়িত করার মাধ্যমে নেতৃত্ত্ব বজায় রাখার চেষ্টা হতে পারে।

গাজা নিয়ে ইসরাইলের অবস্থান এখন আর সীমিত প্রতিক্রিয়ার মধ্যে নেই। বরং পূর্ণ দখলের লক্ষ্য সামনে রেখে এক কার্যকর ও বিস্তৃত সামরিক কৌশল বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এর ফলে মানবিক সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, পাশাপাশি কূটনৈতিকভাবে নতুন উত্তেজনার সূত্রপাতও ঘটতে পারে।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।