ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে এক ১২ বছর বয়সী নাবালিকা কন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগে তার লম্পট পিতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত হুমায়ুন মিয়া (৫০) উপজেলার বুধন্তি ইউনিয়নের শশই গ্রামের বাসিন্দা। এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা নিজেই বাদী হয়ে বিজয়নগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত হুমায়ুন মিয়ার দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তান ওই ভুক্তভোগী নাবালিকা কন্যা। হুমায়ুন তার প্রথম স্ত্রীকে নিয়ে নিজ বাড়িতে থাকলেও দ্বিতীয় স্ত্রী তার বাবার বাড়িতে থাকতেন। মেয়েটি প্রায়শই বাবার বাড়িতে আসা-যাওয়া করত।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত প্রায় এক মাস ধরে হুমায়ুন তার কন্যাকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করে আসছিল। সর্বশেষ গত রবিবার (৩ আগস্ট) রাতে হুমায়ুন তার মেয়েকে বাড়িতে একা পেয়ে আবারও ধর্ষণ করে। ঘটনার পর মেয়েটি ইসলামপুরে তার নানার বাড়িতে পালিয়ে যায় এবং তার নানীর কাছে পুরো ঘটনা তথ্য খুলে বলে।
এদিকে, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার ভয়ে হুমায়ুন তার মেয়েকে হুমকি দিতে শুরু করে। পরে নাবালিকার মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে ইসলামপুর ফাঁড়ি পুলিশ তার মাকে খবর দেয়। মায়ের উপস্থিতিতে বিস্তারিত জানার পর তিনি তার স্বামী হুমায়ুন মিয়ার বিরুদ্ধে বিজয়নগর থানায় মামলা দায়ের করেন।
বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর সোমবার রাতে শশই গ্রামে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত হুমায়ুন মিয়াকে আটক করতে সক্ষম হয়। মঙ্গলবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ওসি আরও জানান, ভুক্তভোগী মেয়েটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এই ধরনের সংবেদনশীল ঘটনায় পুলিশ গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছে এবং সকল আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। স্থানীয় এলাকাবাসী এই ধরনের জঘন্য ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। এই ঘটনা সমাজে এক মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে, যেখানে পারিবারিক সম্পর্ক ও সুরক্ষার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ পেয়েছে।
















Leave a Reply