২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় সবুজবাগ সরকারি কলেজের মেধাবী ছাত্রী প্রান্তি হাসান অসাধারণ কৃতিত্ব অর্জন করেছে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এ পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে অংশগ্রহণ করে সে জিপিএ ৫.০০ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। নিয়মিত ও মনোযোগী শিক্ষার্থী হিসেবে প্রান্তির এ সাফল্য তার পরিবার, শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানের জন্য এক অনন্য গৌরবের বিষয়।
রোল নম্বর ১১৪৭০৪–এর অধিকারী প্রান্তি হাসান মোঃ মাসুদ রানা ও রেহানা আক্তার দম্পতির একমাত্র কন্যা। তার একমাত্র ভাই পিয়াল হাসান। পরিবারে প্রান্তি সবার স্নেহধন্যা ও গর্বের প্রতীক। তার এ অর্জনে আনন্দে ভরে উঠেছে পুরো পরিবার।
ফলাফলের বিস্তারিত অনুযায়ী, প্রান্তি বাংলা, ইংরেজি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, রসায়ন এবং জীববিজ্ঞানে পেয়েছে A+ গ্রেড, আর পদার্থবিদ্যা ও উচ্চতর গণিতে অর্জন করেছে A গ্রেড। সর্বমোট জিপিএ ৫.০০ অর্জন করে প্রান্তি সবুজবাগ সরকারি কলেজের সেরা মেধাবী শিক্ষার্থীদের অন্যতম হিসেবে নিজের স্থান সুদৃঢ় করেছে।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে প্রান্তি জানায়- এই ফলাফল আমার জীবনের দ্বিতীয় সাফল্য। এর আগে প্রান্তি এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছিল। নিয়মিত পড়াশোনা, আত্মবিশ্বাস, শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা এবং মা-বাবার দোয়াই আমাকে এখানে নিয়ে এসেছে। এখন আমার একমাত্র লক্ষ্য মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় চান্স পাওয়া এবং ভবিষ্যতে একজন যোগ্য ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করা।
তার পিতা মোঃ মাসুদ রানা বলেন, “আমার মেয়ের এই সাফল্য আমাদের পরিবারের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। আমরা চাই সে যেন ভবিষ্যতে সমাজের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করে।” মা রেহানা আক্তার আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “প্রান্তি সবসময় পরিশ্রমী ও শান্ত স্বভাবের মেয়ে। তার একমাত্র স্বপ্ন ডাক্তার হওয়া আমরা দোয়া করি, আল্লাহ যেন তার সেই স্বপ্ন পূরণ করেন।”
সবুজবাগ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রান্তির ফলাফলে আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের কলেজের শিক্ষার্থীরা ধারাবাহিকভাবে ভালো ফল করছে, তবে প্রান্তির মতো মেধাবীরা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা আরও বাড়িয়ে দেয়। আমরা আশা করি, সে ভবিষ্যতে দেশের একজন গর্বিত নাগরিক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবে।”
সহপাঠী ও শিক্ষকরা জানান, প্রান্তি শুধু পড়াশোনায় নয়, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় অংশগ্রহণ করে। তার বিনয়ী ও পরিশ্রমী স্বভাব অন্যদের কাছেও অনুকরণীয়।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় ঢাকা বোর্ডের সামগ্রিক ফল ভালো হলেও, প্রান্তির মতো শিক্ষার্থীদের সাফল্য এ বছরের ফলাফলকে করেছে আরও অর্থবহ ও অনুপ্রেরণাদায়ক।
সবুজবাগ সরকারি কলেজের গর্ব প্রান্তি হাসান প্রমাণ করেছে- অধ্যবসায়, আত্মবিশ্বাস এবং সৎ ইচ্ছা থাকলে সাফল্য অনিবার্য। তার এই কৃতিত্ব শুধু নিজের নয়, বরং পরিবার, শিক্ষক ও সমগ্র প্রতিষ্ঠানের গর্ব। ভবিষ্যতে সে একজন মানবসেবায় নিবেদিতপ্রাণ চিকিৎসক হিসেবে দেশ ও জাতির কল্যাণে অবদান রাখবে- এমনটাই আশা সবার।














