দৈনিক টার্গেট

দেশের চেতনায়

আইপিএল নিলামে ইতিহাস গড়লেন মোস্তাফিজ

আইপিএল নিলামে মোস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে যে আলোচনার ঝড় উঠবে, সেটি অনেকটাই অনুমেয় ছিল। তবে বাস্তবে যা ঘটেছে, তা প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেছে। আবু ধাবিতে অনুষ্ঠিত নিলামে বাংলাদেশের এই বাঁহাতি পেসারকে দলে নিতে রীতিমতো হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে নামে একাধিক ফ্র্যাঞ্চাইজি। শেষ পর্যন্ত চেন্নাই সুপার কিংসকে টপকে মোস্তাফিজকে নিজেদের স্কোয়াডে ভেড়ায় কলকাতা নাইট রাইডার্স।

মাত্র ২ কোটি রুপি ভিত্তিমূল্য নিয়ে নিলামে উঠেছিলেন মোস্তাফিজ। শুরুতে চেন্নাই তার জন্য দর হাঁকায়। মুহূর্তের মধ্যেই প্রতিযোগিতায় যোগ দেয় দুবাই ক্যাপিটালস ও কলকাতা। দর বাড়তে বাড়তে এক সময় তা পৌঁছে যায় ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে। শেষ পর্যন্ত এই বিশাল অঙ্কে মোস্তাফিজকে দলে নিয়ে শেষ হাসি হাসে কলকাতা নাইট রাইডার্স।

এই নিলামের মাধ্যমে আইপিএল ইতিহাসে বাংলাদেশের সবচেয়ে দামি ক্রিকেটার হওয়ার গৌরব অর্জন করলেন ৩০ বছর বয়সী এই পেসার। এর আগে গত মৌসুমে তিনি জেক ফ্রেজার-ম্যাকগার্কের বদলি হিসেবে দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে খেলেছিলেন।

২০১৬ সালে আইপিএলে অভিষেকের পর এখন পর্যন্ত ৬০ ম্যাচে মাঠে নেমেছেন মোস্তাফিজুর রহমান। এই সময়ে তার শিকার ৬৫টি উইকেট। আইপিএলে তার বোলিং গড় ২৮.৪৪ এবং ইকোনমি রেট ৮.১৩। একই বছর তিনি আইপিএলের ‘ইমার্জিং প্লেয়ার অব দ্য সিজন’ পুরস্কার জিতে ইতিহাস গড়েন এই পুরস্কার পাওয়া একমাত্র বিদেশি ক্রিকেটার এখনো তিনিই।

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতেও মোস্তাফিজের সাফল্য ঈর্ষণীয়। এই ফরম্যাটে তার দখলে রয়েছে ১৫৮টি উইকেট, যা তাকে বিশ্ব ক্রিকেটে তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারির তালিকায় রেখেছে। সব মিলিয়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ৩০৮ ম্যাচে ৩৮৭ উইকেট নিয়েছেন তিনি। তার সামগ্রিক বোলিং গড় ২১.৪৩ এবং ইকোনমি রেট ৭.৪৩, যা একজন অভিজ্ঞ ডেথ ওভারের বোলারের জন্য অত্যন্ত কার্যকর পরিসংখ্যান।

নিলামের এই ফলাফল শুধু মোস্তাফিজের ব্যক্তিগত অর্জনই নয়, বরং বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্যও বড় একটি বার্তা বিশ্বের সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক লিগে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের প্রতি আস্থা এখন আগের চেয়েও দৃঢ়।