দুঃখের মুহূর্তে ইয়াকুব (আ.)-এর দোয়া ও মুমিনের শিক্ষা

ধর্ম

মানুষের জীবন দুঃখ-কষ্ট, প্রাপ্তি-প্রত্যাশা ও বিচ্ছেদের মিশেলে গড়া। প্রিয়জন হারানোর ব্যথা কিংবা দীর্ঘস্থায়ী বিপর্যয় মানুষকে ভেঙে দিতে পারে। ঠিক এমন সময় একজন মুমিন কার কাছে নিজের হৃদয়ের গভীর যন্ত্রণা প্রকাশ করবে-এই প্রশ্নের স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছে পবিত্র কোরআন। সুরা ইউসুফে বর্ণিত হজরত ইয়াকুব (আ.)-এর ঘটনা আজও বিশ্বাসীদের জন্য শক্তি ও সান্ত্বনার উৎস।

ইউসুফ (আ.)-কে হারানোর বেদনা ইয়াকুব (আ.)-এর জীবনে দীর্ঘ ছায়া ফেলেছিল। সময় গড়ালেও তাঁর কষ্ট কমেনি। বরং ধৈর্যের সঙ্গে তিনি আল্লাহর দিকে নিজেকে সম্পূর্ণ সোপর্দ করেছিলেন। মানুষের কাছে অভিযোগ না করে তিনি যে বাক্য উচ্চারণ করেছিলেন, তা কোরআনে সংরক্ষিত হয়েছে-
“আমি আমার অসহনীয় বেদনা ও দুঃখ কেবল আল্লাহর কাছেই নিবেদন করি।” (সুরা ইউসুফ: ৮৬)

এই সংক্ষিপ্ত বাক্যে লুকিয়ে আছে বিশ্বাসের গভীরতা। ইয়াকুব (আ.) বুঝিয়েছেন-মানুষ সহানুভূতি দেখাতে পারে, কিন্তু সমাধান একমাত্র আল্লাহর কাছেই। তাই হৃদয়ের রক্তক্ষরণ, না বলা কষ্ট কিংবা অসহ্য হতাশা-সবকিছুর ঠিকানা হওয়া উচিত আল্লাহর দরবার।

আয়াতের আরেক অংশে ইয়াকুব (আ.) বলেন, তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন কিছু জানেন, যা অন্যরা জানে না। তাফসিরকারদের মতে, এর অর্থ হতে পারে-আল্লাহর প্রতিশ্রুতির ওপর অটল আস্থা, দোয়া কবুল হওয়ার দৃঢ় বিশ্বাস, ইউসুফ (আ.) জীবিত থাকার ইশারা কিংবা শৈশবে দেখা স্বপ্নের বাস্তবায়নের প্রত্যাশা। এসব বিশ্বাসই তাঁকে ভেঙে পড়তে দেয়নি।

ধর্মীয় আলেমদের মতে, এই ঘটনাটি মুমিনদের শেখায় তিনটি মৌলিক বিষয়। প্রথমত, বিপদে ধৈর্য ধারণ করা ইমানের অংশ। দ্বিতীয়ত, অভিযোগের ভাষা যেন মানুষের দিকে না গিয়ে আল্লাহর দিকেই যায়। তৃতীয়ত, হতাশার অন্ধকারে থেকেও আল্লাহর রহমতের আলোয় বিশ্বাস রাখা।

আধুনিক জীবনের চাপ, সম্পর্কের টানাপোড়েন বা আকস্মিক ক্ষতিতে অনেকেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। এমন সময় ইয়াকুব (আ.)-এর এই দোয়া মনের ভার লাঘব করতে পারে। চোখের পানি ফেলেও যদি আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করা হয়, তবে তা দুর্বলতা নয়-বরং শক্ত বিশ্বাসের প্রকাশ।

সবশেষে বলা যায়, দুঃখের মুহূর্তে মুমিনের প্রকৃত আশ্রয় আল্লাহ তাআলাই। তিনিই সর্বোত্তম সান্ত্বনাদাতা, আর তাঁর কাছেই রয়েছে সব সমস্যার প্রকৃত সমাধান।

দৈনিক টার্গেট

দৈনিক টার্গেট বাংলাদেশী সংবাদ