কক্সবাজারে আগুনে ১০ পর্যটকের মৃত্যু: দোতলা থেকে লাফ দিয়ে বাঁচেন আশিক

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ১২:০০:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
  • ১ বার পঠিত হয়েছে

আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের এই রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ জন পর্যটক প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে ছয়জন আশিকের পরিবার ও তাঁর নিকটাত্মীয়।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন আশিকুল ইসলামের স্ত্রী ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), শ্যালিকা মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), লায়লা জাহান নাবিলা (২৭), খালা শাশুড়ি চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩), তাঁর পাঁচ বছর বয়সী সন্তান ফায়িজান আহমেদ ও ভাই কৌশিক জেরিফ (২৪)। আশিক ছাড়া আহত অন্য স্বজনেরা হলেন মেহেরুন্নেসা (৩০) ও তাঁর স্বামী মাসুদ আহমেদ (৩২)।

আশিকুল ইসলাম জানান, অগ্নিকাণ্ডের সময় তাঁরা ঘুমের মধ্যে ছিলেন। এ সময় তিনি দোতলা থেকে লাফ দিয়ে বেঁচে যান। এরপর কী হয়েছে, তাঁর মনে নেই।

রিয়াজ মাহমুদ রিপন ও আমিরুল ইসলাম নামে নিহতদের দুই স্বজন শনিবার বিকেলে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে কক্সবাজার ছুটে আসেন। তাঁরা নিহত ছয়জনের পরিচয় নিশ্চিত করতে পেরেছেন বলে জানান।

রিয়াজ মাহমুদ রিপন বলেন, নিহতেরা দক্ষিণ বনশ্রীতে একই বিল্ডিংয়ে থাকতেন। কেউ শিক্ষার্থী, কেউ কর্মজীবী ও কেউ গৃহিণী ছিলেন। আজ শনিবার সকালে তাঁদের ঢাকায় ফেরার কথা ছিল। কিন্তু ঘুম থেকে ওঠার আগেই তাঁরা পুড়ে মারা গেলেন।

নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রশাসনের থেকে ডিএনএ পরীক্ষার পর মরদেহ হস্তান্তর করার কথা বলা হয়েছে। আমরা সে হিসেবে প্রস্তুতি নিচ্ছি। আহত তিনজনকে বিমানে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

নিহত ছয় স্বজনের মধ্যে তিনজনের বাড়ি বরগুনার আমতলী উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের কালিপুরা গ্রামে। অবসরপ্রাপ্ত উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. কবির তালুকদারের মেয়ে ফারিহা কবির, ছেলে কৌশিক জেরিফ ও নাতি ফায়িজান আহমেদ।

ফারিহা কবিরের জামাতা নুরে আলম চুয়াডাঙ্গায় একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করেন। কৌশিক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য পাস করে চাকরির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যুর ঘটনায় আমতলীর কালিপুরা এলাকায় ও পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

অবসরপ্রাপ্ত যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. কবির তালুকদার কান্নাজনিত কন্ঠে বলের, ‘আমার কিছুই রইল না। ছেলে, মেয়ে ও নাতি মারা গেছে। তারপর ভায়রার পরিবারের চারজন মারা গেছেন।’

কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন: নিহত ১০ পর্যটকের মধ্যে ৬ জনের পরিচয় শনাক্ত, ব্যবস্থাপক আটক

কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন: নিহত ১০ পর্যটকের মধ্যে ৬ জনের পরিচয় শনাক্ত, ব্যবস্থাপক আটক

কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে আগুনের ঘটনায় নিহত ১০ পর্যটকের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় দগ্ধ হয়েছেন আরও ছয়জন। কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সুবক্তগীন মাহমুদ সোহেল নিহত ও দগ্ধ ব্যক্তিদের পরিচয়ের তথ্য জানিয়েছেন।

কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুনে প্রাণহানি বেড়ে ১০

কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুনে প্রাণহানি বেড়ে ১০

কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন একটি রিসোর্টে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে হঠাৎ আগুন লাগে। কাঠ ও বাঁশের তৈরি রিসোর্টটিতে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে ছয়-সাতটি কক্ষে ঘুমিয়ে থাকা পর্যটকেরা দিগ্‌বিদিক ছুটতে থাকেন, কেউ কেউ ঘুমিয়ে ছিলেন।

কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন: উধাও কর্তৃপক্ষ, উদ্ধার সহায়তায় বিজিবি

কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন: উধাও কর্তৃপক্ষ, উদ্ধার সহায়তায় বিজিবি

কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সুবক্তগীন মাহমুদ সোহেল জানান, অগ্নিদগ্ধ চারজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে তিনজন নারী। সবাইকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

জনপ্রিয় টার্গেট

জিম্বাবুয়ের কাছে পাত্তা পেল না বাংলাদেশ

কক্সবাজারে আগুনে ১০ পর্যটকের মৃত্যু: দোতলা থেকে লাফ দিয়ে বাঁচেন আশিক

প্রকাশ: ১২:০০:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের এই রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ জন পর্যটক প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে ছয়জন আশিকের পরিবার ও তাঁর নিকটাত্মীয়।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন আশিকুল ইসলামের স্ত্রী ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), শ্যালিকা মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), লায়লা জাহান নাবিলা (২৭), খালা শাশুড়ি চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩), তাঁর পাঁচ বছর বয়সী সন্তান ফায়িজান আহমেদ ও ভাই কৌশিক জেরিফ (২৪)। আশিক ছাড়া আহত অন্য স্বজনেরা হলেন মেহেরুন্নেসা (৩০) ও তাঁর স্বামী মাসুদ আহমেদ (৩২)।

আশিকুল ইসলাম জানান, অগ্নিকাণ্ডের সময় তাঁরা ঘুমের মধ্যে ছিলেন। এ সময় তিনি দোতলা থেকে লাফ দিয়ে বেঁচে যান। এরপর কী হয়েছে, তাঁর মনে নেই।

রিয়াজ মাহমুদ রিপন ও আমিরুল ইসলাম নামে নিহতদের দুই স্বজন শনিবার বিকেলে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে কক্সবাজার ছুটে আসেন। তাঁরা নিহত ছয়জনের পরিচয় নিশ্চিত করতে পেরেছেন বলে জানান।

রিয়াজ মাহমুদ রিপন বলেন, নিহতেরা দক্ষিণ বনশ্রীতে একই বিল্ডিংয়ে থাকতেন। কেউ শিক্ষার্থী, কেউ কর্মজীবী ও কেউ গৃহিণী ছিলেন। আজ শনিবার সকালে তাঁদের ঢাকায় ফেরার কথা ছিল। কিন্তু ঘুম থেকে ওঠার আগেই তাঁরা পুড়ে মারা গেলেন।

নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রশাসনের থেকে ডিএনএ পরীক্ষার পর মরদেহ হস্তান্তর করার কথা বলা হয়েছে। আমরা সে হিসেবে প্রস্তুতি নিচ্ছি। আহত তিনজনকে বিমানে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

নিহত ছয় স্বজনের মধ্যে তিনজনের বাড়ি বরগুনার আমতলী উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের কালিপুরা গ্রামে। অবসরপ্রাপ্ত উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. কবির তালুকদারের মেয়ে ফারিহা কবির, ছেলে কৌশিক জেরিফ ও নাতি ফায়িজান আহমেদ।

ফারিহা কবিরের জামাতা নুরে আলম চুয়াডাঙ্গায় একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করেন। কৌশিক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য পাস করে চাকরির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যুর ঘটনায় আমতলীর কালিপুরা এলাকায় ও পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

অবসরপ্রাপ্ত যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. কবির তালুকদার কান্নাজনিত কন্ঠে বলের, ‘আমার কিছুই রইল না। ছেলে, মেয়ে ও নাতি মারা গেছে। তারপর ভায়রার পরিবারের চারজন মারা গেছেন।’

কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন: নিহত ১০ পর্যটকের মধ্যে ৬ জনের পরিচয় শনাক্ত, ব্যবস্থাপক আটক

কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন: নিহত ১০ পর্যটকের মধ্যে ৬ জনের পরিচয় শনাক্ত, ব্যবস্থাপক আটক

কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে আগুনের ঘটনায় নিহত ১০ পর্যটকের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় দগ্ধ হয়েছেন আরও ছয়জন। কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সুবক্তগীন মাহমুদ সোহেল নিহত ও দগ্ধ ব্যক্তিদের পরিচয়ের তথ্য জানিয়েছেন।

কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুনে প্রাণহানি বেড়ে ১০

কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুনে প্রাণহানি বেড়ে ১০

কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন একটি রিসোর্টে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে হঠাৎ আগুন লাগে। কাঠ ও বাঁশের তৈরি রিসোর্টটিতে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে ছয়-সাতটি কক্ষে ঘুমিয়ে থাকা পর্যটকেরা দিগ্‌বিদিক ছুটতে থাকেন, কেউ কেউ ঘুমিয়ে ছিলেন।

কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন: উধাও কর্তৃপক্ষ, উদ্ধার সহায়তায় বিজিবি

কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন: উধাও কর্তৃপক্ষ, উদ্ধার সহায়তায় বিজিবি

কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সুবক্তগীন মাহমুদ সোহেল জানান, অগ্নিদগ্ধ চারজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে তিনজন নারী। সবাইকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।