চট্টগ্রামের আতঙ্ক ডেভিড ইমন গ্রেফতার

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৫:১৯:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
  • ১৫ বার পঠিত হয়েছে

ডেভিড ইমন

চট্টগ্রামে চাঁদাবাজি, হামলা ও একাধিক হত্যা মামলার অভিযোগে আলোচিত মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) গভীর রাতে যশোরের ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত যৌথ অভিযানে তাকে আটক করা হয়।

যশোর জেলা পুলিশ জানায়, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সহযোগিতায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে একটি চেকপোস্টে ডেভিড ইমনকে আটক করা হয়। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের অপরাধ জগতে দ্রুত উত্থান

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অপরাধ জগতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন ডেভিড ইমন। শুরুতে তিনি শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খানের অনুসারী হিসেবে কাজ করলেও পরে গ্রুপটির অন্যতম প্রভাবশালী সদস্যে পরিণত হন। বর্তমানে তিনি সংগঠনটির গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বে থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগে অভিযুক্ত।

ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগরের বাসিন্দা ইমন অল্প বয়সেই কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। পরে সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রে যুক্ত হয়ে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় নিজের প্রভাব বিস্তার করেন বলে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

চাঁদাবাজি ও হামলার অভিযোগ

সম্প্রতি চট্টগ্রামের একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে বিপুল অঙ্কের চাঁদা দাবি এবং পরবর্তীতে সেই প্রতিষ্ঠানে সশস্ত্র হামলার ঘটনায় ডেভিড ইমনের নাম নতুন করে আলোচনায় আসে। অভিযোগ রয়েছে, তার নির্দেশে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীরা ওই হামলা চালায় এবং প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে।

এ ছাড়া বিভিন্ন ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মালিকদের ফোনে হুমকি দিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ব্যবসায়ীদের দাবি, নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেকেই বাধ্য হয়ে চাঁদা দিয়েছেন।

একাধিক হত্যা মামলার আসামি

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, গত দুই বছরে সংঘটিত একাধিক আলোচিত হত্যাকাণ্ডে ডেভিড ইমনের নাম উঠে এসেছে। বিভিন্ন থানায় দায়ের হওয়া হত্যা, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও অস্ত্রসংক্রান্ত মামলায় তিনি অভিযুক্ত।

পুলিশের দাবি, নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী, পাঁচলাইশ, পতেঙ্গা, রাউজান ও হাটহাজারীসহ কয়েকটি এলাকায় তার নেতৃত্বাধীন চক্র দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করে আসছিল।

অভিযানে স্বস্তি, তদন্ত চলমান

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা মনে করছেন, ডেভিড ইমনের গ্রেফতার চট্টগ্রামের সংঘবদ্ধ সন্ত্রাস দমনে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

এদিকে ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের মালিকরা এই গ্রেফতারকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের প্রত্যাশা, এর মাধ্যমে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী তৎপরতা কমবে এবং ব্যবসায়িক পরিবেশ আরও নিরাপদ হবে।

জনপ্রিয় টার্গেট

চট্টগ্রামের আতঙ্ক ডেভিড ইমন গ্রেফতার

প্রকাশ: ০৫:১৯:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামে চাঁদাবাজি, হামলা ও একাধিক হত্যা মামলার অভিযোগে আলোচিত মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) গভীর রাতে যশোরের ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত যৌথ অভিযানে তাকে আটক করা হয়।

যশোর জেলা পুলিশ জানায়, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সহযোগিতায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে একটি চেকপোস্টে ডেভিড ইমনকে আটক করা হয়। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের অপরাধ জগতে দ্রুত উত্থান

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অপরাধ জগতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন ডেভিড ইমন। শুরুতে তিনি শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খানের অনুসারী হিসেবে কাজ করলেও পরে গ্রুপটির অন্যতম প্রভাবশালী সদস্যে পরিণত হন। বর্তমানে তিনি সংগঠনটির গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বে থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগে অভিযুক্ত।

ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগরের বাসিন্দা ইমন অল্প বয়সেই কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। পরে সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রে যুক্ত হয়ে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় নিজের প্রভাব বিস্তার করেন বলে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

চাঁদাবাজি ও হামলার অভিযোগ

সম্প্রতি চট্টগ্রামের একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে বিপুল অঙ্কের চাঁদা দাবি এবং পরবর্তীতে সেই প্রতিষ্ঠানে সশস্ত্র হামলার ঘটনায় ডেভিড ইমনের নাম নতুন করে আলোচনায় আসে। অভিযোগ রয়েছে, তার নির্দেশে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীরা ওই হামলা চালায় এবং প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে।

এ ছাড়া বিভিন্ন ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মালিকদের ফোনে হুমকি দিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ব্যবসায়ীদের দাবি, নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেকেই বাধ্য হয়ে চাঁদা দিয়েছেন।

একাধিক হত্যা মামলার আসামি

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, গত দুই বছরে সংঘটিত একাধিক আলোচিত হত্যাকাণ্ডে ডেভিড ইমনের নাম উঠে এসেছে। বিভিন্ন থানায় দায়ের হওয়া হত্যা, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও অস্ত্রসংক্রান্ত মামলায় তিনি অভিযুক্ত।

পুলিশের দাবি, নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী, পাঁচলাইশ, পতেঙ্গা, রাউজান ও হাটহাজারীসহ কয়েকটি এলাকায় তার নেতৃত্বাধীন চক্র দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করে আসছিল।

অভিযানে স্বস্তি, তদন্ত চলমান

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা মনে করছেন, ডেভিড ইমনের গ্রেফতার চট্টগ্রামের সংঘবদ্ধ সন্ত্রাস দমনে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

এদিকে ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের মালিকরা এই গ্রেফতারকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের প্রত্যাশা, এর মাধ্যমে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী তৎপরতা কমবে এবং ব্যবসায়িক পরিবেশ আরও নিরাপদ হবে।