সাতক্ষীরার সুস্বাদু আম দেশ-বিদেশে দীর্ঘদিন ধরেই সুনাম কুড়িয়ে আসছে। এই খ্যাতি অক্ষুণ্ন রাখতে এবং বাজারে অপরিপক্ব আম প্রবেশ ঠেকাতে জেলা প্রশাসন নতুন করে একটি সময়ভিত্তিক বাজারজাতকরণ ক্যালেন্ডার ঘোষণা করেছে। এর ফলে নির্দিষ্ট সময়ের আগে কোনো জাতের আম বাজারে তোলার সুযোগ থাকবে না, যা ক্রেতা ও চাষি উভয়ের জন্যই ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রোববার বিকেলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত এক বৈঠকে জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতার আনুষ্ঠানিকভাবে এই সময়সূচি তুলে ধরেন। বৈঠকে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাসহ স্থানীয় চাষি প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে আম সংগ্রহ ও বিপণনের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা আনতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর জোর দেওয়া হয়।
ঘোষিত ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, আগামী ৫ মে থেকে সাতক্ষীরার বিভিন্ন আগাম জাতের আম বাজারে আসতে শুরু করবে। এর মধ্যে রয়েছে গোবিন্দভোগ, গোপালভোগ, বোম্বাই, গোলাপখাস ও বৈশাখী। এরপর ধাপে ধাপে ১৫ মে থেকে হিমসাগর, ২৭ মে থেকে ল্যাংড়া এবং ৫ জুন থেকে আম্রপালি জাতের আম সংগ্রহ ও বাজারজাতের অনুমতি দেওয়া হবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চাষিদের মতামত বিবেচনায় কিছু জাতের আম সংগ্রহের সময় সামান্য এগিয়ে আনা হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এসব আম পরিপক্বতা অর্জন করবে বলে তারা আশাবাদী। একই সঙ্গে অপরিপক্ব আম সংগ্রহ ও বিক্রি রোধে মাঠ পর্যায়ে নজরদারি জোরদার করা হবে।
এদিকে চলতি ২০২৫-২৬ মৌসুমে সাতক্ষীরায় আমের আবাদ উল্লেখযোগ্য হারে বিস্তৃত হয়েছে। প্রায় ৪ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে আম চাষ করা হয়েছে, যেখানে হিমসাগর, আম্রপালি ও ল্যাংড়া জাতের আধিক্য বেশি। জেলায় নিবন্ধিত আম বাগানের সংখ্যা ৫ হাজারেরও বেশি, আর এই খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত রয়েছেন অর্ধলক্ষাধিক মানুষ।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নির্ধারিত সময়সূচি মেনে আম বাজারজাত করা হলে সাতক্ষীরার আমের মান আরও উন্নত হবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারেও এর গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। পাশাপাশি চাষিরাও ন্যায্য মূল্য পাবেন, যা এই শিল্পকে আরও টেকসই করে তুলবে।
দৈনিক টার্গেট 























