আউশ, আলু ও গমের উৎপাদন কমেছে

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০১:১৫:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ৬ বার পঠিত হয়েছে

এমন পরিস্থিতিতে আজ ১৬ অক্টোবর পালিত হচ্ছে বিশ্ব খাদ্য দিবস। এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘আজই উদ্ভাবন করুন। আগামীকে পুষ্ট করুন’।

বিবিএসের তথ্য বলছে, গত বছরের তুলনায় এ বছর আউশ, আলু ও গমের উৎপাদন কমেছে। তবে আমনের উৎপাদন বেড়েছে। অন্যদিকে বোরো ধানের তথ্য এখনো জানায়নি সংস্থাটি। তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইং তথ্য বলছে, হাওর অঞ্চলে অকালবন্যা ও আবহাওয়া খারাপ হওয়ায় বোরোর উৎপাদন গত বছরের তুলনায় সামান্য কমতে পারে।

বিবিএসের তথ্য অনুসারে, চলতি বছরের আউশ ফসলের মোট উৎপাদন ২৭ লাখ ৮ হাজার ১৯১ টন, যা গত বছরে ছিল ২৭ লাখ ৯৩ হাজার ৪৪৬ টন। শতকরা হিসাবে আউশ উৎপাদন গত বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ কম। কৃষিসংশ্লিষ্টরা এ-ও বলছেন, আমন ও বোরোর তুলনায় উৎপাদনশীলতা কম হওয়ার কারণে আউশ ফসলের আবাদ তুলনামূলকভাবে কম হয়। আউশের তুলনায় একই মৌসুমের অন্যান্য ফসলের চাষাবাদ সহজলভ্য ও লাভজনক হওয়ায় দিন দিন ওই সব ­ফসলের চাষ বাড়ছে। এ কারণে আউশ ফসলের জমির আয়তন ও উৎপাদন—দুটোই আগের তুলনায় কমেছে।

চলতি বছর আলুর ফলন গত বছরের তুলনায় ২ দশমিক ৬১ শতাংশ কমেছে। এ বছর আলুর মোট উৎপাদন ১ কোটি ১২ লাখ ৭২ হাজার ১৪ টন, যা গত বছরে ছিল ১ কোটি ১৫ লাখ ৭৩ হাজার ৬১৫ টন। গমের উৎপাদনও গত বছরের তুলনায় ১ দশমিক ১৮ শতাংশ কমেছে। এ বছরে গম উৎপাদিত হয়েছে ১০ লাখ ২৮ হাজার ৭৮১ টন। গত বছরে ছিল ১০ লাখ ৪১ হাজার ৯৭ টন।

কয়েকটি প্রধান ফসলের উৎপাদন হ্রাসের বিষয়ে অভিমত জানতে চাইলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আব্দুর রহিম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আবহাওয়াজনিত কারণে আউশ উৎপাদন কিছুটা কমেছে। তবে গমের জমিতে অন্য লাভজনক ফসল চাষ বেড়েছে। কৃষকের ন্যায্য দাম পাওয়া নিশ্চিত করতে আলুর উৎপাদন কমানো হয়েছে। সারসংকটসহ যেসব কারণে কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, তা সমাধানে সরকার ব্যবস্থা নিয়েছে। ফসল উৎপাদনে আমাদের কৃষকেরা বেশ মনোযোগী।কাজেই দেশে খাদ্যসংকট হবে না।’

এদিকে জলবায়ু পরিবর্তন, সারসংকট ও জ্বালানির আকাশচুম্বী মূল্যের প্রভাব দেশের খাদ্যনিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলছে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। সম্প্রতি প্রকাশিত জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের মে থেকে আগস্ট মাসের মধ্যে বাংলাদেশের প্রায় ১ কোটি ৫৩ লাখ মানুষ উচ্চমাত্রার তীব্র খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হয়েছে। কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে সার, জ্বালানি তেলসহ কৃষি উপকরণের দাম বাড়ায় ফসলের উৎপাদন নিম্নমুখী হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কৃষিপণ্যের এই ঘাটতি সামগ্রিক বাজারে খাদ্য মূল্যস্ফীতি উসকে দিচ্ছে। খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার বৃদ্ধির সূচকে এখনো বিশ্বব্যাংকের লাল তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ।

জানতে চাইলে গবেষণাসংশ্লিষ্ট এফএওর খাদ্যনিরাপত্তা ক্লাস্টারের সমন্বয়ক মাঈনুল হোসেন রনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘খাদ্যনিরাপত্তা সংকট সমাধানে কৃষিপণ্যের উৎপাদক ও ভোক্তার মধ্যে দূরত্ব শনাক্ত করতে হবে। কৃষি খাতের টেকসই উন্নয়নে সরকারকে ফসলের উৎপাদন থেকে শুরু করে বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা সংস্কার করতে হবে।’

এদিকে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমানোর জন্য সরকারের মনোযোগ বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন কৃষি অর্থনীতিবিদ জাহাঙ্গীর আলম খান। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘কৃষি খাতের সংকট কাটাতে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন সরকারি বিনিয়োগ ও প্রণোদনা বাড়ানো। বাজারে যেসব কৃষিপণ্যের দাম বেশি, সেগুলোকে টার্গেট করে সরকারের ভর্তুকির আওতা আরও বাড়ানো উচিত।’

খাদ্য মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে কমিটির সভাপতি আবদুস সালাম পিন্টু বলেন, ‘জনগণের কাছে নিরাপদ ও ভেজালমুক্ত খাদ্য পৌঁছে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব।’ এ লক্ষ্যে তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন যুক্তরাজ্যের লন্ডন বোরো অব টাওয়ার হ্যামলেটসের স্পিকার মোস্তাক আহমেদ। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে ডেপুটি স্পিকারের কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

জনপ্রিয় টার্গেট

আউশ, আলু ও গমের উৎপাদন কমেছে

প্রকাশ: ০১:১৫:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

এমন পরিস্থিতিতে আজ ১৬ অক্টোবর পালিত হচ্ছে বিশ্ব খাদ্য দিবস। এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘আজই উদ্ভাবন করুন। আগামীকে পুষ্ট করুন’।

বিবিএসের তথ্য বলছে, গত বছরের তুলনায় এ বছর আউশ, আলু ও গমের উৎপাদন কমেছে। তবে আমনের উৎপাদন বেড়েছে। অন্যদিকে বোরো ধানের তথ্য এখনো জানায়নি সংস্থাটি। তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইং তথ্য বলছে, হাওর অঞ্চলে অকালবন্যা ও আবহাওয়া খারাপ হওয়ায় বোরোর উৎপাদন গত বছরের তুলনায় সামান্য কমতে পারে।

বিবিএসের তথ্য অনুসারে, চলতি বছরের আউশ ফসলের মোট উৎপাদন ২৭ লাখ ৮ হাজার ১৯১ টন, যা গত বছরে ছিল ২৭ লাখ ৯৩ হাজার ৪৪৬ টন। শতকরা হিসাবে আউশ উৎপাদন গত বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ কম। কৃষিসংশ্লিষ্টরা এ-ও বলছেন, আমন ও বোরোর তুলনায় উৎপাদনশীলতা কম হওয়ার কারণে আউশ ফসলের আবাদ তুলনামূলকভাবে কম হয়। আউশের তুলনায় একই মৌসুমের অন্যান্য ফসলের চাষাবাদ সহজলভ্য ও লাভজনক হওয়ায় দিন দিন ওই সব ­ফসলের চাষ বাড়ছে। এ কারণে আউশ ফসলের জমির আয়তন ও উৎপাদন—দুটোই আগের তুলনায় কমেছে।

চলতি বছর আলুর ফলন গত বছরের তুলনায় ২ দশমিক ৬১ শতাংশ কমেছে। এ বছর আলুর মোট উৎপাদন ১ কোটি ১২ লাখ ৭২ হাজার ১৪ টন, যা গত বছরে ছিল ১ কোটি ১৫ লাখ ৭৩ হাজার ৬১৫ টন। গমের উৎপাদনও গত বছরের তুলনায় ১ দশমিক ১৮ শতাংশ কমেছে। এ বছরে গম উৎপাদিত হয়েছে ১০ লাখ ২৮ হাজার ৭৮১ টন। গত বছরে ছিল ১০ লাখ ৪১ হাজার ৯৭ টন।

কয়েকটি প্রধান ফসলের উৎপাদন হ্রাসের বিষয়ে অভিমত জানতে চাইলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আব্দুর রহিম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আবহাওয়াজনিত কারণে আউশ উৎপাদন কিছুটা কমেছে। তবে গমের জমিতে অন্য লাভজনক ফসল চাষ বেড়েছে। কৃষকের ন্যায্য দাম পাওয়া নিশ্চিত করতে আলুর উৎপাদন কমানো হয়েছে। সারসংকটসহ যেসব কারণে কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, তা সমাধানে সরকার ব্যবস্থা নিয়েছে। ফসল উৎপাদনে আমাদের কৃষকেরা বেশ মনোযোগী।কাজেই দেশে খাদ্যসংকট হবে না।’

এদিকে জলবায়ু পরিবর্তন, সারসংকট ও জ্বালানির আকাশচুম্বী মূল্যের প্রভাব দেশের খাদ্যনিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলছে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। সম্প্রতি প্রকাশিত জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের মে থেকে আগস্ট মাসের মধ্যে বাংলাদেশের প্রায় ১ কোটি ৫৩ লাখ মানুষ উচ্চমাত্রার তীব্র খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হয়েছে। কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে সার, জ্বালানি তেলসহ কৃষি উপকরণের দাম বাড়ায় ফসলের উৎপাদন নিম্নমুখী হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কৃষিপণ্যের এই ঘাটতি সামগ্রিক বাজারে খাদ্য মূল্যস্ফীতি উসকে দিচ্ছে। খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার বৃদ্ধির সূচকে এখনো বিশ্বব্যাংকের লাল তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ।

জানতে চাইলে গবেষণাসংশ্লিষ্ট এফএওর খাদ্যনিরাপত্তা ক্লাস্টারের সমন্বয়ক মাঈনুল হোসেন রনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘খাদ্যনিরাপত্তা সংকট সমাধানে কৃষিপণ্যের উৎপাদক ও ভোক্তার মধ্যে দূরত্ব শনাক্ত করতে হবে। কৃষি খাতের টেকসই উন্নয়নে সরকারকে ফসলের উৎপাদন থেকে শুরু করে বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা সংস্কার করতে হবে।’

এদিকে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমানোর জন্য সরকারের মনোযোগ বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন কৃষি অর্থনীতিবিদ জাহাঙ্গীর আলম খান। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘কৃষি খাতের সংকট কাটাতে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন সরকারি বিনিয়োগ ও প্রণোদনা বাড়ানো। বাজারে যেসব কৃষিপণ্যের দাম বেশি, সেগুলোকে টার্গেট করে সরকারের ভর্তুকির আওতা আরও বাড়ানো উচিত।’

খাদ্য মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে কমিটির সভাপতি আবদুস সালাম পিন্টু বলেন, ‘জনগণের কাছে নিরাপদ ও ভেজালমুক্ত খাদ্য পৌঁছে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব।’ এ লক্ষ্যে তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন যুক্তরাজ্যের লন্ডন বোরো অব টাওয়ার হ্যামলেটসের স্পিকার মোস্তাক আহমেদ। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে ডেপুটি স্পিকারের কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।