গাজায় গণহত্যা যেভাবে ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনে টেনে এনেছে নিরীহ ব্রিটিশদের

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ১২:০১:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
  • ৮ বার পঠিত হয়েছে

ক্লেয়ার জানান, ২০২৩ সালের গ্রীষ্মে ফিলিস্তিনি চিকিৎসক ইজ্জেলদিন আবুয়ালাইশের লেখা ‘আই শ্যাল নট হেট’ বইটি পড়ার পর তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আসে। ইসরায়েলি ট্যাংকের গোলাবর্ষণে ওই চিকিৎসকের তিন কন্যা প্রাণ হারিয়েছিল। বইটি পড়ার পর থেকেই ইসরায়েলে হামাসের ৭ অক্টোবরের হামলা ও এর পরবর্তী ঘটনাবলি অনলাইনে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ শুরু করেন তিনি।

২০২৩ সালের আর্মিস্টিস ডেতে যুদ্ধবিরতির দাবিতে ফিলিস্তিনপন্থী সমাবেশেও যোগ দেন ক্লেয়ার। তৎকালীন ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুয়েলা ব্রেভারম্যান বিক্ষোভগুলোকে ‘ঘৃণার মিছিল’ হিসেবে আখ্যায়িত করলে তিনি আরও সক্রিয় হয়ে ওঠেন। পরে তিনি মিছিলে নিয়মিত অংশ নেওয়া, আইনপ্রণেতাদের চিঠি লেখা ও ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় অর্থ সংগ্রহ শুরু করেন।

২০২৫ সালের আগস্টে ‘ডিফেন্ড আওয়ার জুরিস’-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে প্রকাশ্য প্রতিবাদে অংশ নেন ক্লেয়ার। সংগঠনটির দাবি, নাগরিক অবাধ্যতার মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য তারা আন্দোলন করছে। এ পর্যন্ত সংগঠনটির প্রতি সমর্থন প্রদর্শনের অভিযোগে তিন হাজারের বেশি মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কলচেস্টারের ৭০ বছর বয়সী মারজির গল্পও একই রকম। জীবনে কখনো বিক্ষোভে অংশ না নেওয়া এই নারী ২০২৩ সালের আর্মিস্টিস ডেতে ‘সিজফায়ার নাও’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে রাস্তায় নামেন। তাঁর বাবা ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে ও শ্বশুর রয়্যাল এয়ারফোর্সে কর্মরত ছিলেন। তাঁর ভাষায়, তাঁদের আগের প্রজন্ম ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল; অথচ এখন ব্রিটেনেই আইন লঙ্ঘিত হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

গত জুলাই মাসে ওয়েস্টমিনস্টারে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ১২ নম্বর ধারায় মারজি ও তাঁর স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এখন তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হবে কি না, তা নিয়ে অপেক্ষা করছেন তাঁরা।

বর্তমানে শিল্পী, রেলকর্মী, আর্থিক খাতের কর্মী থেকে প্রশাসনিক কর্মকর্তা—বিভিন্ন পেশার মানুষ ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান নিতে গিয়ে পেশাগত ও আইনি ঝুঁকি নিচ্ছেন। ‘ওয়ার্কার্স ফর ফ্রি প্যালেস্টাইন’সহ বিভিন্ন সংগঠন অস্ত্র উৎপাদন, ইসরায়েলে বিনিয়োগ কিংবা যুদ্ধকে সহায়তা করে এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কথা বলার আহ্বান জানাচ্ছে।

অন্যদিকে, ব্রিটেনে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্কতাও বাড়ছে। লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ সম্প্রতি একটি বিক্ষোভের ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে জাতিগত বিদ্বেষ উসকে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

ক্লেয়ার ও মারজির মতো আন্দোলনকারীরা মনে করেন—গাজায় যা ঘটছে, সেই বিষয়ে ব্রিটিশ সরকারের নীতির বিরুদ্ধে নাগরিকদের কথা বলা প্রয়োজন। তাঁদের আশঙ্কা, ফিলিস্তিন প্রশ্নে কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি ব্রিটেনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতাও সংকুচিত হচ্ছে। তাঁদের ভাষায়, নিষ্ক্রিয় থাকা মানুষের মধ্যে অসহায়ত্ব তৈরি করছে আর সেই কারণেই অনেকে ঝুঁকি নিয়েও প্রতিবাদে যুক্ত হচ্ছেন।

ভারতের কোনো খেলনার দোকানে ঢুকে শিশুর পছন্দের নতুন কোনো খেলনা কেনার পাশাপাশি আপনি বুঝতে পারবেন, কীভাবে ভারত তার শক্তিশালী প্রতিবেশী চীনের সঙ্গে আরও ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।

হিন্দি চলচ্চিত্রের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, জাতীয়তাবাদ এবং সীমান্ত সংঘাতকেন্দ্রিক সিনেমা সর্বদাই ভারতীয় বক্স অফিসে ব্যবসায়িক সাফল্যের অন্যতম মূল হাতিয়ার। তবে বলিউড তারকা সালমান খানের নতুন যুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘মাতৃভূমি:

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সি চিনপিংয়ের ওয়াশিংটন বৈঠকের কয়েক দিন আগে আমি এনডিটিভিতে লিখেছিলাম, চীনের সঙ্গে আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে কতটা গুরুত্ব দেয়, এই শীর্ষ বৈঠক তা স্পষ্ট করে দেবে। আমি তিনটি সম্ভাব্য ফলাফলের কথা বলেছিলাম। ট্রাম্প চীনের কাছ থেকে বড় কোনো ছাড় আদায় করতে পারেন, দুই পক্ষ এমন

জনপ্রিয় টার্গেট

সাতকানিয়ায় অটোরিকশাকে বাসের ধাক্কা, নিহত ২

গাজায় গণহত্যা যেভাবে ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনে টেনে এনেছে নিরীহ ব্রিটিশদের

প্রকাশ: ১২:০১:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

ক্লেয়ার জানান, ২০২৩ সালের গ্রীষ্মে ফিলিস্তিনি চিকিৎসক ইজ্জেলদিন আবুয়ালাইশের লেখা ‘আই শ্যাল নট হেট’ বইটি পড়ার পর তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আসে। ইসরায়েলি ট্যাংকের গোলাবর্ষণে ওই চিকিৎসকের তিন কন্যা প্রাণ হারিয়েছিল। বইটি পড়ার পর থেকেই ইসরায়েলে হামাসের ৭ অক্টোবরের হামলা ও এর পরবর্তী ঘটনাবলি অনলাইনে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ শুরু করেন তিনি।

২০২৩ সালের আর্মিস্টিস ডেতে যুদ্ধবিরতির দাবিতে ফিলিস্তিনপন্থী সমাবেশেও যোগ দেন ক্লেয়ার। তৎকালীন ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুয়েলা ব্রেভারম্যান বিক্ষোভগুলোকে ‘ঘৃণার মিছিল’ হিসেবে আখ্যায়িত করলে তিনি আরও সক্রিয় হয়ে ওঠেন। পরে তিনি মিছিলে নিয়মিত অংশ নেওয়া, আইনপ্রণেতাদের চিঠি লেখা ও ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় অর্থ সংগ্রহ শুরু করেন।

২০২৫ সালের আগস্টে ‘ডিফেন্ড আওয়ার জুরিস’-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে প্রকাশ্য প্রতিবাদে অংশ নেন ক্লেয়ার। সংগঠনটির দাবি, নাগরিক অবাধ্যতার মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য তারা আন্দোলন করছে। এ পর্যন্ত সংগঠনটির প্রতি সমর্থন প্রদর্শনের অভিযোগে তিন হাজারের বেশি মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কলচেস্টারের ৭০ বছর বয়সী মারজির গল্পও একই রকম। জীবনে কখনো বিক্ষোভে অংশ না নেওয়া এই নারী ২০২৩ সালের আর্মিস্টিস ডেতে ‘সিজফায়ার নাও’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে রাস্তায় নামেন। তাঁর বাবা ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে ও শ্বশুর রয়্যাল এয়ারফোর্সে কর্মরত ছিলেন। তাঁর ভাষায়, তাঁদের আগের প্রজন্ম ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল; অথচ এখন ব্রিটেনেই আইন লঙ্ঘিত হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

গত জুলাই মাসে ওয়েস্টমিনস্টারে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ১২ নম্বর ধারায় মারজি ও তাঁর স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এখন তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হবে কি না, তা নিয়ে অপেক্ষা করছেন তাঁরা।

বর্তমানে শিল্পী, রেলকর্মী, আর্থিক খাতের কর্মী থেকে প্রশাসনিক কর্মকর্তা—বিভিন্ন পেশার মানুষ ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান নিতে গিয়ে পেশাগত ও আইনি ঝুঁকি নিচ্ছেন। ‘ওয়ার্কার্স ফর ফ্রি প্যালেস্টাইন’সহ বিভিন্ন সংগঠন অস্ত্র উৎপাদন, ইসরায়েলে বিনিয়োগ কিংবা যুদ্ধকে সহায়তা করে এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কথা বলার আহ্বান জানাচ্ছে।

অন্যদিকে, ব্রিটেনে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্কতাও বাড়ছে। লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ সম্প্রতি একটি বিক্ষোভের ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে জাতিগত বিদ্বেষ উসকে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

ক্লেয়ার ও মারজির মতো আন্দোলনকারীরা মনে করেন—গাজায় যা ঘটছে, সেই বিষয়ে ব্রিটিশ সরকারের নীতির বিরুদ্ধে নাগরিকদের কথা বলা প্রয়োজন। তাঁদের আশঙ্কা, ফিলিস্তিন প্রশ্নে কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি ব্রিটেনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতাও সংকুচিত হচ্ছে। তাঁদের ভাষায়, নিষ্ক্রিয় থাকা মানুষের মধ্যে অসহায়ত্ব তৈরি করছে আর সেই কারণেই অনেকে ঝুঁকি নিয়েও প্রতিবাদে যুক্ত হচ্ছেন।

ভারতের কোনো খেলনার দোকানে ঢুকে শিশুর পছন্দের নতুন কোনো খেলনা কেনার পাশাপাশি আপনি বুঝতে পারবেন, কীভাবে ভারত তার শক্তিশালী প্রতিবেশী চীনের সঙ্গে আরও ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।

হিন্দি চলচ্চিত্রের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, জাতীয়তাবাদ এবং সীমান্ত সংঘাতকেন্দ্রিক সিনেমা সর্বদাই ভারতীয় বক্স অফিসে ব্যবসায়িক সাফল্যের অন্যতম মূল হাতিয়ার। তবে বলিউড তারকা সালমান খানের নতুন যুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘মাতৃভূমি:

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সি চিনপিংয়ের ওয়াশিংটন বৈঠকের কয়েক দিন আগে আমি এনডিটিভিতে লিখেছিলাম, চীনের সঙ্গে আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে কতটা গুরুত্ব দেয়, এই শীর্ষ বৈঠক তা স্পষ্ট করে দেবে। আমি তিনটি সম্ভাব্য ফলাফলের কথা বলেছিলাম। ট্রাম্প চীনের কাছ থেকে বড় কোনো ছাড় আদায় করতে পারেন, দুই পক্ষ এমন