নারী হয়রানির অভিযোগে এনসিপি নেতা

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৯:০২:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
  • ১৩১ বার পঠিত হয়েছে

বগুড়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-সংশ্লিষ্ট এক নেতার বিরুদ্ধে নারী শিক্ষার্থী ও নারী শিক্ষকদের উত্ত্যক্ত করা এবং অশালীন প্রস্তাব দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীদের তীব্র প্রতিক্রিয়ায় তিনি অধ্যক্ষের কক্ষে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হন বলে জানা গেছে।

অভিযুক্ত ব্যক্তি আলী আজম সাব্বির খান, যিনি বগুড়ার একটি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি)-তে ড্রাইভিং ও আরএসি ট্রেডের প্রশিক্ষণার্থী ছিলেন। স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজের বিভাগের পাশাপাশি অন্যান্য ট্রেডের অন্তত ২০ জন ছাত্রীকে মোবাইল ফোন ও সরাসরি নানা ধরনের অশালীন প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন।

এছাড়া একই প্রতিষ্ঠানের অন্তত ছয়জন নারী শিক্ষকের সঙ্গেও তিনি অনৈতিক আচরণ ও কুরুচিপূর্ণ প্রস্তাব দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীরা বিষয়টি প্রশাসনের কাছে জানালে প্রাথমিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি বলে দাবি করা হয়।

অভিযোগ আরও রয়েছে, বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও তিনি তার আচরণ পরিবর্তন করেননি এবং একপর্যায়ে প্রতিষ্ঠানের ছুটির দিনে তিনি অধ্যক্ষের কক্ষে গিয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণ ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি করেন। ওই সময় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তাকে জুতা দিয়ে মারধর করেন।

পরে তাকে ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত না হওয়ার লিখিত মুচলেকা দিতে বাধ্য করা হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এ ঘটনার একটি ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ জানায়, ঘটনাটিকে তারা সাধারণ শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করছে এবং অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে জেলা পর্যায়ের এনসিপি নেতৃত্ব আলী আজম সাব্বির খানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে সংগঠনের সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে এবং তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) জারি করেছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, এ ধরনের আচরণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ নষ্ট করে এবং নারীদের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে।

স্থানীয় পর্যায়ে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে এবং তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অনেকেই।


নারী হয়রানির অভিযোগে এনসিপি নেতা

প্রকাশ: ০৯:০২:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

বগুড়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-সংশ্লিষ্ট এক নেতার বিরুদ্ধে নারী শিক্ষার্থী ও নারী শিক্ষকদের উত্ত্যক্ত করা এবং অশালীন প্রস্তাব দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীদের তীব্র প্রতিক্রিয়ায় তিনি অধ্যক্ষের কক্ষে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হন বলে জানা গেছে।

অভিযুক্ত ব্যক্তি আলী আজম সাব্বির খান, যিনি বগুড়ার একটি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি)-তে ড্রাইভিং ও আরএসি ট্রেডের প্রশিক্ষণার্থী ছিলেন। স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজের বিভাগের পাশাপাশি অন্যান্য ট্রেডের অন্তত ২০ জন ছাত্রীকে মোবাইল ফোন ও সরাসরি নানা ধরনের অশালীন প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন।

এছাড়া একই প্রতিষ্ঠানের অন্তত ছয়জন নারী শিক্ষকের সঙ্গেও তিনি অনৈতিক আচরণ ও কুরুচিপূর্ণ প্রস্তাব দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীরা বিষয়টি প্রশাসনের কাছে জানালে প্রাথমিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি বলে দাবি করা হয়।

অভিযোগ আরও রয়েছে, বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও তিনি তার আচরণ পরিবর্তন করেননি এবং একপর্যায়ে প্রতিষ্ঠানের ছুটির দিনে তিনি অধ্যক্ষের কক্ষে গিয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণ ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি করেন। ওই সময় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তাকে জুতা দিয়ে মারধর করেন।

পরে তাকে ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত না হওয়ার লিখিত মুচলেকা দিতে বাধ্য করা হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এ ঘটনার একটি ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ জানায়, ঘটনাটিকে তারা সাধারণ শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করছে এবং অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে জেলা পর্যায়ের এনসিপি নেতৃত্ব আলী আজম সাব্বির খানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে সংগঠনের সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে এবং তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) জারি করেছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, এ ধরনের আচরণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ নষ্ট করে এবং নারীদের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে।

স্থানীয় পর্যায়ে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে এবং তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অনেকেই।