বিনিয়োগে বাধা ধীরগতি: ফখরুল

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৪:১৫:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬
  • ৮৩ বার পঠিত হয়েছে

দেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে বড় বাধা হিসেবে সরকারি সংস্থাগুলোর ধীরগতির কার্যক্রমকে চিহ্নিত করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর মতে, দ্রুত সিদ্ধান্ত ও সেবা না পাওয়ায় অনেক বিনিয়োগকারী আগ্রহ হারাচ্ছেন এবং এতে সামগ্রিক বিনিয়োগ পরিবেশ নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হচ্ছে।

বুধবার সকালে রাজধানীর বনানীতে অনুষ্ঠিত ‘দ্য কম্পাস ডায়লগ’ শীর্ষক এক সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। ইনস্টিটিউট অব স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড ট্যাকটিকস রিসার্চ (আইএসটিআর) আয়োজিত এই সংলাপে বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারী প্রতিনিধি, কূটনীতিক ও ব্যবসায়ীরা অংশ নেন।

সংলাপে অংশ নেওয়া বিদেশি প্রতিনিধিদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে কাজের গতি প্রত্যাশার তুলনায় অনেক ধীর। বিনিয়োগকারীরা যে দ্রুততার সঙ্গে সমস্যা সমাধান চান, বাস্তবে তা পাচ্ছেন না। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই তাদের মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছে, যা বিনিয়োগ সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশের ব্যবসা-বিনিয়োগের পরিবেশ এখনো পুরোপুরি অনুকূল নয়। তবে এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি। প্রশাসনিক জটিলতা কমানো, আমলাতন্ত্রকে গতিশীল করা এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতি গ্রহণের মাধ্যমে পরিবেশ উন্নয়নের চেষ্টা চলছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

অর্থনীতির সামগ্রিক অগ্রগতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন উদ্যোগ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

জ্বালানি খাতেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি জানান, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্থল ও সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে এবং শিগগিরই এ খাতে দরপত্র আহ্বানের পরিকল্পনা রয়েছে।

রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও তিনি মন্তব্য করেন। অতীতের কিছু জটিলতা এখনো পুরোপুরি দূর না হলেও বর্তমান অবস্থা আগের তুলনায় স্থিতিশীল বলে তিনি মনে করেন। এই স্থিতিশীলতা আরও দৃঢ় করা গেলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এছাড়া আঞ্চলিক নিরাপত্তা, বিশেষ করে বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখা এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক রক্ষার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকটকে এখনো দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে এর টেকসই সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।

বিনিয়োগে বাধা ধীরগতি: ফখরুল

প্রকাশ: ০৪:১৫:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

দেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে বড় বাধা হিসেবে সরকারি সংস্থাগুলোর ধীরগতির কার্যক্রমকে চিহ্নিত করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর মতে, দ্রুত সিদ্ধান্ত ও সেবা না পাওয়ায় অনেক বিনিয়োগকারী আগ্রহ হারাচ্ছেন এবং এতে সামগ্রিক বিনিয়োগ পরিবেশ নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হচ্ছে।

বুধবার সকালে রাজধানীর বনানীতে অনুষ্ঠিত ‘দ্য কম্পাস ডায়লগ’ শীর্ষক এক সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। ইনস্টিটিউট অব স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড ট্যাকটিকস রিসার্চ (আইএসটিআর) আয়োজিত এই সংলাপে বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারী প্রতিনিধি, কূটনীতিক ও ব্যবসায়ীরা অংশ নেন।

সংলাপে অংশ নেওয়া বিদেশি প্রতিনিধিদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে কাজের গতি প্রত্যাশার তুলনায় অনেক ধীর। বিনিয়োগকারীরা যে দ্রুততার সঙ্গে সমস্যা সমাধান চান, বাস্তবে তা পাচ্ছেন না। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই তাদের মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছে, যা বিনিয়োগ সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশের ব্যবসা-বিনিয়োগের পরিবেশ এখনো পুরোপুরি অনুকূল নয়। তবে এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি। প্রশাসনিক জটিলতা কমানো, আমলাতন্ত্রকে গতিশীল করা এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতি গ্রহণের মাধ্যমে পরিবেশ উন্নয়নের চেষ্টা চলছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

অর্থনীতির সামগ্রিক অগ্রগতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন উদ্যোগ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

জ্বালানি খাতেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি জানান, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্থল ও সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে এবং শিগগিরই এ খাতে দরপত্র আহ্বানের পরিকল্পনা রয়েছে।

রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও তিনি মন্তব্য করেন। অতীতের কিছু জটিলতা এখনো পুরোপুরি দূর না হলেও বর্তমান অবস্থা আগের তুলনায় স্থিতিশীল বলে তিনি মনে করেন। এই স্থিতিশীলতা আরও দৃঢ় করা গেলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এছাড়া আঞ্চলিক নিরাপত্তা, বিশেষ করে বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখা এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক রক্ষার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকটকে এখনো দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে এর টেকসই সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।