কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, এএফডির প্রধান প্রার্থী উলরিশ জিগমুন্ড বলেন, ‘আমরা যা অর্জন করতে চেয়েছিলাম, ঠিক সেটিই অর্জন করেছি। এই রাজ্যে আমরা ইতিহাস সৃষ্টি করেছি।’ এএফডির নেত্রী অ্যালিস ভাইডেলও এই ফলকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে স্বাগত জানিয়েছেন। এই ফল এএফডিকে সরকার পরিচালনার স্পষ্ট ম্যান্ডেট দিয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। তবে দলটি শেষ পর্যন্ত সরকার গঠন করতে পারবে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার হয়নি।
গতকাল রোববার রাতে নির্বাচনের ফল নিয়ে কোনো বক্তব্য দেননি জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎজ। স্থানীয় সময় রাত ১০টার পর তিনি সিডিইউর প্রধান কার্যালয় কনরাড-আডেনওয়ার-হাউস থেকে বেরিয়ে যান।
পূর্ব জার্মানির ম্যাগডেবুর্গ থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক ডমিনিক কেইন বলেন, ‘বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী, এই নির্বাচনে এএফডি সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু রাজ্যটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মতো যথেষ্ট আসন তারা পেয়েছে কি না, সেটিই প্রশ্ন। এই মুহূর্তে আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না।’
এএফডির জাতীয় সহ-নেতা টিনো ক্রুপালা দাবি করেন, এই ফল প্রমাণ করে যে ভোটাররা ক্ষমতাসীন জোটের নীতিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি এআরডিকে বলেন, ‘মূলধারার দলগুলোকে ভোট দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, অথবা বলা যায়, ভোটাররা একটি স্পষ্ট রায় দিয়েছেন। আর আমি শুধু তাদের এই রায় স্বীকার করার আহ্বান জানাতে পারি যে, আজ ভোটাররা “ফায়ারওয়াল”কে চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন।’
স্যাক্সনি-আনহাল্টে এএফডির শাখাকে রাজ্যটির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা একটি নিশ্চিত ডানপন্থী চরমপন্থী সংগঠন হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে। তবে এএফডি এই শ্রেণিবিন্যাস প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
রোববারের এই ফল চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎজেরের রাজনৈতিক কর্তৃত্বের ওপর আরেকটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি ফিরিয়ে আনতে তার জোট সরকার যখন হিমশিম খাচ্ছে, তখন তার জনপ্রিয়তাও কমে গেছে। তাঁর মধ্য-ডানপন্থী সিডিইউ নির্বাচনে অনেক পিছিয়ে দ্বিতীয় হয়েছে।
স্যাক্সনি-আনহাল্টের বর্তমান রাজ্যপ্রধান ও সিডিইউ নেতা সভেন শুলৎসে এএফডিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি স্বীকার করেছেন, এই ফল তাঁর দলের জন্য বড় আঘাত। তিনি বলেন, ‘এই ফলের সঙ্গে আমাদের মানিয়ে নিয়ে বাঁচতে হবে।’ শুলৎসে বলেন, তিনি এএফডির সঙ্গে সহযোগিতা করার কোনো পরিকল্পনা করছেন না। তবে শুরুতে তাঁকে যখন প্রশ্ন করা হয়, সিডিইউর ‘ফায়ারওয়াল’ নীতি বহাল থাকবে কি না, তখন তিনি স্পষ্ট কোনো উত্তর দেননি।
পার্লামেন্টে আসনের বর্তমান হিসাব অনুযায়ী সরকার গঠন করা অত্যন্ত কঠিন হবে। শুলৎসে চাইলে কয়েকটি দলকে নিয়ে একটি জোট গঠনের চেষ্টা করতে পারেন। তবে সিডিইউ ঐতিহ্যগতভাবে এএফডি এবং বামপন্থী দল ডি লিঙ্কে, উভয়ের সঙ্গেই আনুষ্ঠানিক সহযোগিতা প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
এএফডি সাবেক কমিউনিস্ট পূর্ব জার্মানির প্রতি এক ধরনের নস্টালজিয়া বা অতীতের স্মৃতির টানকে কাজে লাগিয়েছে। একই সঙ্গে ১৯৮৯ সালে বার্লিন প্রাচীর পতনের কয়েক দশক পরও পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানির মধ্যে বিদ্যমান সম্পদের ব্যবধান নিয়ে স্থানীয় মানুষের ক্ষোভকেও দলটি কাজে লাগিয়েছে।
স্থানীয়দের মধ্যে থাকা কখনো কখনো প্রতিবাদী ‘অসি প্রাইড’ বা পূর্ব জার্মান পরিচয়ের গর্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এএফডির প্রার্থী জিগমুন্ড প্রায়ই পূর্ব জার্মানিতে তৈরি সিমসন শোয়ালবে মোটরসাইকেল চালিয়ে প্রচারণা চালিয়েছেন। রোববার নিজের শহর ট্যাঙ্গারমুন্ডেতে ভোট দিতে যাওয়ার সময়ও তিনি তার স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ওই মোটরসাইকেলেই ভোটকেন্দ্রে যান।
জিগমুন্ডকে এএফডির ‘বন্ধুত্বপূর্ণ মুখ’ হিসেবে অভিহিত করা হলেও তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো ছিল বেশ কড়া। এর মধ্যে ছিল ক্ষমতায় আসার প্রথম দিন থেকেই নথিবিহীন অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ‘পুনর্বাসন ও নির্বাসন অভিযান’ শুরু করার প্রতিশ্রুতি।
জার্মান ইকোনমিক ইনস্টিটিউট সতর্ক করেছে, এএফডির অভিবাসন নীতি স্যাক্সনি-আনহাল্টের জন্য ‘ধ্বংসাত্মক’ হতে পারে। কারণ রাজ্যটি বিদেশে জন্ম নেওয়া শ্রমিকদের ওপর, বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা খাতে, ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
এদিকে আরও অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এএফডির নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভেতর থেকে সংবেদনশীল তথ্য রাশিয়ার কাছে ফাঁস হয়ে যেতে পারে। আর সেই তথ্য মস্কো জার্মানিকে অস্থিতিশীল করতে ব্যবহার করতে পারে। থুরিঙ্গিয়া রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গেওর্গ মায়ার দৈনিক পত্রিকা হ্যান্ডেলসব্লাটকে বলেন, ‘রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জন্য জার্মানিকে অস্থিতিশীল করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার এএফডি, এই বিষয়টি ক্রেমলিন গোপনও করে না।’
যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আমাজনের একটি কার্গো বিমান বিধ্বস্ত হয়ে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। অবতরণের সময় রানওয়ে ছাড়িয়ে যাওয়ার পর এই দুর্ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় আরও পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন দপ্তর রাজ্যের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান নিয়ে একটি প্রচারণামূলক ভিডিও (প্রোমো) প্রকাশ করেছে। কিন্তু ভিডিওটি প্রকাশের পরপরই তা নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। রাজ্যের সৌন্দর্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরার বদলে ৮০ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে স্থান পেয়েছে ফ্রান্সের আইফেল টাওয়ার…
বড় পরিসরে মাদক পাচার ও উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মিসরের টেলিভিশন উপস্থাপিকা সারাহ খলিফা এবং আরও ১১ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। ৩৯ বছর বয়সী সারাহ মিসরে অপরাধ ও নিরাপত্তাবিষয়ক টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘মিশন ইমপসিবল’ উপস্থাপনার জন্য পরিচিত।
দৈনিক টার্গেট 






















