সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী ও কঠিন এক পরিবেশে নবুওয়াতের দায়িত্ব পেয়ে প্রিয় নবী (সা.) কিছুটা শঙ্কিত ও চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন। কীভাবে এবং কাকে ইসলামের সুমহান বাণীর দিকে আহ্বান করবেন—এ নিয়ে তাঁর মনে গভীর চিন্তার উদয় হয়েছিল।
ঠিক সেই সংকটময় মুহূর্তে প্রিয় নবী (সা.)-কে পরম সান্ত্বনা ও সাহস জুগিয়েছিলেন মমতাময়ী স্ত্রী আম্মাজান হজরত খাদিজা (রা.)। তিনিই সর্বপ্রথম কোনো দ্বিমত ছাড়াই রাসুল (সা.)-এর নবুওয়াতের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করে ইসলাম গ্রহণ করেন। এরপর কিশোর আলী (রা.) ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আসেন।
পরিবারের পর রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও কাছের মানুষদের ইসলামের পথে আহ্বান জানানোর সিদ্ধান্ত নেন। বন্ধুদের মধ্যে তিনি সর্বপ্রথম নিঃস্বার্থ, পরম সুহৃদ ও আন্তরিক বন্ধু হজরত আবু বকর (রা.)-কে নির্বাচন করেন। আল্লাহর রাসুল (সা.) ইসলাম গ্রহণের আহ্বান জানানোর সঙ্গে সঙ্গেই আবু বকর (রা.) বিন্দুমাত্র চিন্তা-ভাবনা বা দ্বিধা-সংশয় ছাড়াই প্রথম আহ্বানেই ইসলাম গ্রহণ করেন।
হজরত আবু বকর (রা.)-এর ইসলাম গ্রহণের এই অনন্য ঘটনা প্রসঙ্গে প্রিয় নবী (সা.) এক হাদিসে ইরশাদ করেছেন—
হজরত আবু বকর (রা.)-এর ইসলাম গ্রহণের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে ঐতিহাসিক বর্ণনায় এসেছে—নবুয়তপ্রাপ্তির কিছুদিন পূর্বে আবু বকর (রা.) কোনো এক ব্যবসায়িক বা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ইয়েমেনে গিয়েছিলেন। ইয়েমেন থেকে মক্কায় ফিরে এসেই তিনি শুনতে পেলেন যে রাসুলুল্লাহ (সা.) নবুওয়াত লাভ করেছেন।
সংবাদটি শুনেই তিনি সরাসরি নবীজির কাছে উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আপনি কি আপনার বাপ-দাদার ধর্ম ত্যাগ করেছেন?’
উত্তরে প্রিয় নবী (সা.) তাঁকে বললেন, ‘হে আবু বকর! আমি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে সমগ্র মানবজাতির জন্য নবী হিসেবে প্রেরিত হয়েছি। অতএব, তুমি এক আল্লাহ ও আমার নবুওয়াতের ওপর ইমান আনো।’
এ কথা শোনার সঙ্গে সঙ্গেই আবু বকর (রা.) অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে বলে উঠলেন—
ইতিহাসে বর্ণিত আছে, অন্তরঙ্গ বন্ধু ও পরম বিশ্বস্ত সাহাবি হজরত আবু বকর (রা.)-এর এই ইসলাম গ্রহণের ঘটনায় আল্লাহর রাসুল (সা.) অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছিলেন। (উসদুল গাবাহ: ৩/২০৮-২০৯)

দৈনিক টার্গেট 




























