০৭:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সকাল-সন্ধ্যার গুরুত্বপূর্ণ জিকির ও আমল

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৭:১০:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
  • ৫ বার পঠিত হয়েছে

মাগরিবের নামাজের পর এবং সকালের ফজর পরবর্তী সময়গুলোতে বরকতময় দোয়া ও আমলের মাধ্যমে একজন মুমিন তাঁর দুনিয়া ও আখিরাতের জীবন সুরক্ষিত করতে পারেন। নিচে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ বাছাইকৃত সকাল-সন্ধ্যার জিকির, দোয়া ও আমলগুলো তুলে ধরা হলো:

اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ، وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ، أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ، وَأَبُوءُ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي، فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ

রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে সকালে বা সন্ধ্যায় এই সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার পাঠ করবে এবং ওই দিন বা রাতে তার ইন্তেকাল হয়, তবে সে জান্নাত লাভ করবে। (সহিহ বুখারি: ৬৩০৬)

بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ

সকাল ও সন্ধ্যায় তিনবার এই দোয়াটি পাঠ করলে আসমান ও জমিনের কোনো অনিষ্ট বা বিপদ তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। (সুনানে আবু দাউদ: ৫০৭২)

রাসুল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি’ সকালে ও সন্ধ্যায় ১০০ বার পড়বে, কিয়ামতের দিন তার চেয়ে উত্তম আমল আর কেউ আনতে পারবে না।

প্রতি ফরজ নামাজের পর এবং সকাল ও সন্ধ্যায় আয়াতুল কুরসি পাঠ করা অত্যন্ত জরুরি। এটি পাঠকারীকে জান্নাতে যাওয়ার পথে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো বাধা থাকে না এবং এটি শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে সুরক্ষা দেয়।

رَضِيتُ بِاللَّهِ رَبًّا، وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا، وَبِمُحَمَّدٍ نَبِيًّا

রাসুল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যা তিনবার এই দোয়া পাঠ করবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তাকে সন্তুষ্ট করবেন। (জামে তিরমিজি: ৩৩৮৯; সুনানে ইবনে মাজাহ: ৩৮৭০)

اللَّهُمَّ أَجِرْنِي مِنَ النَّارِ

হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি ফজর ও মাগরিবের পর কারও সঙ্গে কথাবার্তা না বলে সাতবার এই দোয়াটি পাঠ করে এবং ওই দিনে বা রাতে তার মৃত্যু হয়, তবে সে জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভ করবে। (সুনানে আবু দাউদ: ৫০৭৯)

সকাল ও সন্ধ্যায় (মাগরিবের পর) সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস—প্রতিটি তিনবার করে পাঠ করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,

মাগরিবের পর ‘আউযুবিল্লাহিস সামিয়িল আলিমি মিনাশ শাইতানির রজিম’ তিনবার পড়ে সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াত একবার পাঠ করা। হাদিস অনুযায়ী, যে ব্যক্তি এই আমল করবে, আল্লাহ তাআলা তাঁর জন্য ৭০ হাজার রহমতের ফেরেশতা নিযুক্ত করবেন, যারা সকাল পর্যন্ত তাঁর জন্য রহমতের দোয়া করতে থাকবে। সেদিন রাতে মারা গেলে শহীদের মৃত্যু নসিব হবে। (জামে তিরমিজি: ২৯২২)

সন্ধ্যা ও সকাল হলো ইবাদত ও আত্মিক প্রশান্তির এক অপূর্ব সময়। সারা দিনের ক্লান্তি পেরিয়ে এই বরকতময় সময়গুলোতে উপরিউক্ত জিকির ও দোয়াগুলো নিয়মিত আমলে রাখার মাধ্যমে একজন মুমিন তাঁর দুনিয়া ও আখিরাতের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারেন। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে এই মাসনুন আমলগুলো নিয়মিত করার এবং এর বরকত হাসিল করার তৌফিক দান করুন।

বৃষ্টি হওয়ার সময় পড়ার দোয়া

বৃষ্টি হওয়ার সময় পড়ার দোয়া

বৃষ্টি আল্লাহ তাআলার বিশেষ নেয়ামত। বৃষ্টির মাধ্যমে শুকনো জমিন প্রাণ ফিরে পায়, ফসল উৎপাদিত হয়, মানুষ ও প্রাণিকুলের পানির চাহিদা পূরণ হয়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বৃষ্টিকে তাঁর রহমত ও কুদরতের নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাই বৃষ্টি শুরু হলে মুমিনের উচিত আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা।

রিজিক বৃদ্ধির দোয়া

রিজিক বৃদ্ধির দোয়া

মানুষ মাত্রই জীবনযাত্রার তাগিদে হালাল রিজিক ও আর্থিক সচ্ছলতার অন্বেষণ করে। তবে বাহ্যিক চেষ্টার পাশাপাশি আল্লাহর রহমত ও বরকত ছাড়া প্রকৃত সচ্ছলতা অর্জন সম্ভব নয়। ইসলামে রিজিক বৃদ্ধি এবং দুনিয়া ও আখিরাতের সার্বিক কল্যাণের জন্য অত্যন্ত চমৎকার ও কার্যকর কিছু দোয়া শিখিয়ে দেওয়া হয়েছে।

খাবার শেষে পড়ার দোয়া

খাবার শেষে পড়ার দোয়া

মানবজীবনে বেঁচে থাকার জন্য খাদ্য গ্রহণ একটি অপরিহার্য বিষয়। প্রতিদিন রুটিনমাফিক আমাদের একাধিকবার খাবার খেতে হয়। ইসলামি জীবনব্যবস্থায় প্রতিটি কাজের শুরু ও শেষে আল্লাহ তাআলার ইবাদত ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।

জনপ্রিয় টার্গেট

সকাল-সন্ধ্যার গুরুত্বপূর্ণ জিকির ও আমল

প্রকাশ: ০৭:১০:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

মাগরিবের নামাজের পর এবং সকালের ফজর পরবর্তী সময়গুলোতে বরকতময় দোয়া ও আমলের মাধ্যমে একজন মুমিন তাঁর দুনিয়া ও আখিরাতের জীবন সুরক্ষিত করতে পারেন। নিচে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ বাছাইকৃত সকাল-সন্ধ্যার জিকির, দোয়া ও আমলগুলো তুলে ধরা হলো:

اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ، وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ، أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ، وَأَبُوءُ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي، فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ

রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে সকালে বা সন্ধ্যায় এই সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার পাঠ করবে এবং ওই দিন বা রাতে তার ইন্তেকাল হয়, তবে সে জান্নাত লাভ করবে। (সহিহ বুখারি: ৬৩০৬)

بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ

সকাল ও সন্ধ্যায় তিনবার এই দোয়াটি পাঠ করলে আসমান ও জমিনের কোনো অনিষ্ট বা বিপদ তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। (সুনানে আবু দাউদ: ৫০৭২)

রাসুল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি’ সকালে ও সন্ধ্যায় ১০০ বার পড়বে, কিয়ামতের দিন তার চেয়ে উত্তম আমল আর কেউ আনতে পারবে না।

প্রতি ফরজ নামাজের পর এবং সকাল ও সন্ধ্যায় আয়াতুল কুরসি পাঠ করা অত্যন্ত জরুরি। এটি পাঠকারীকে জান্নাতে যাওয়ার পথে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো বাধা থাকে না এবং এটি শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে সুরক্ষা দেয়।

رَضِيتُ بِاللَّهِ رَبًّا، وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا، وَبِمُحَمَّدٍ نَبِيًّا

রাসুল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যা তিনবার এই দোয়া পাঠ করবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তাকে সন্তুষ্ট করবেন। (জামে তিরমিজি: ৩৩৮৯; সুনানে ইবনে মাজাহ: ৩৮৭০)

اللَّهُمَّ أَجِرْنِي مِنَ النَّارِ

হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি ফজর ও মাগরিবের পর কারও সঙ্গে কথাবার্তা না বলে সাতবার এই দোয়াটি পাঠ করে এবং ওই দিনে বা রাতে তার মৃত্যু হয়, তবে সে জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভ করবে। (সুনানে আবু দাউদ: ৫০৭৯)

সকাল ও সন্ধ্যায় (মাগরিবের পর) সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস—প্রতিটি তিনবার করে পাঠ করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,

মাগরিবের পর ‘আউযুবিল্লাহিস সামিয়িল আলিমি মিনাশ শাইতানির রজিম’ তিনবার পড়ে সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াত একবার পাঠ করা। হাদিস অনুযায়ী, যে ব্যক্তি এই আমল করবে, আল্লাহ তাআলা তাঁর জন্য ৭০ হাজার রহমতের ফেরেশতা নিযুক্ত করবেন, যারা সকাল পর্যন্ত তাঁর জন্য রহমতের দোয়া করতে থাকবে। সেদিন রাতে মারা গেলে শহীদের মৃত্যু নসিব হবে। (জামে তিরমিজি: ২৯২২)

সন্ধ্যা ও সকাল হলো ইবাদত ও আত্মিক প্রশান্তির এক অপূর্ব সময়। সারা দিনের ক্লান্তি পেরিয়ে এই বরকতময় সময়গুলোতে উপরিউক্ত জিকির ও দোয়াগুলো নিয়মিত আমলে রাখার মাধ্যমে একজন মুমিন তাঁর দুনিয়া ও আখিরাতের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারেন। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে এই মাসনুন আমলগুলো নিয়মিত করার এবং এর বরকত হাসিল করার তৌফিক দান করুন।

বৃষ্টি হওয়ার সময় পড়ার দোয়া

বৃষ্টি হওয়ার সময় পড়ার দোয়া

বৃষ্টি আল্লাহ তাআলার বিশেষ নেয়ামত। বৃষ্টির মাধ্যমে শুকনো জমিন প্রাণ ফিরে পায়, ফসল উৎপাদিত হয়, মানুষ ও প্রাণিকুলের পানির চাহিদা পূরণ হয়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বৃষ্টিকে তাঁর রহমত ও কুদরতের নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাই বৃষ্টি শুরু হলে মুমিনের উচিত আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা।

রিজিক বৃদ্ধির দোয়া

রিজিক বৃদ্ধির দোয়া

মানুষ মাত্রই জীবনযাত্রার তাগিদে হালাল রিজিক ও আর্থিক সচ্ছলতার অন্বেষণ করে। তবে বাহ্যিক চেষ্টার পাশাপাশি আল্লাহর রহমত ও বরকত ছাড়া প্রকৃত সচ্ছলতা অর্জন সম্ভব নয়। ইসলামে রিজিক বৃদ্ধি এবং দুনিয়া ও আখিরাতের সার্বিক কল্যাণের জন্য অত্যন্ত চমৎকার ও কার্যকর কিছু দোয়া শিখিয়ে দেওয়া হয়েছে।

খাবার শেষে পড়ার দোয়া

খাবার শেষে পড়ার দোয়া

মানবজীবনে বেঁচে থাকার জন্য খাদ্য গ্রহণ একটি অপরিহার্য বিষয়। প্রতিদিন রুটিনমাফিক আমাদের একাধিকবার খাবার খেতে হয়। ইসলামি জীবনব্যবস্থায় প্রতিটি কাজের শুরু ও শেষে আল্লাহ তাআলার ইবাদত ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।