তনু হত্যা মামলায় নতুন মোড়: চিকিৎসকের দেশ ছাড়ার চেষ্টা
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডে দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় পর নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। মামলার একজন সন্দেহভাজন আসামি, সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়ার পর তদন্তে গতি এসেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এরই মধ্যে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসক ডা. কামাদা প্রাসাদ সাহাকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
ভিকটিমের পরিবার অভিযোগ করেছে, তনুর মৃত্যুর পর যিনি প্রথম ফরেনসিক রিপোর্ট তৈরি করেছিলেন, সেই চিকিৎসক বর্তমানে দেশ ছাড়ার চেষ্টা করছেন। তনুর বাবা ইয়ার হোসেন দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক বিদেশ যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র (এনওসি) নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন, যা তদন্তের জন্য উদ্বেগজনক।
২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তনুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। সেই সময় ফরেনসিক বিভাগের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক প্রথম প্রতিবেদনে মৃত্যুর নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করতে ব্যর্থ হন। যদিও তনুর শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে জানা যায়।
পরবর্তীতে দ্বিতীয় ময়নাতদন্তেও স্পষ্টভাবে হত্যার কারণ নির্ধারণ করা হয়নি। বরং কিছু বিতর্কিত মন্তব্য উঠে আসে, যা জনমনে ক্ষোভের জন্ম দেয়। পরিবারের অভিযোগ, ওই রিপোর্টগুলো প্রকৃত ঘটনার আড়াল করার চেষ্টা ছিল এবং এতে অপরাধীদের সহায়তা করা হয়েছে।
বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজে কর্মরত ওই চিকিৎসক বিদেশে রাজনৈতিক আশ্রয় নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তনুর পরিবার। তারা চান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নজরদারিতে রেখে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হোক এবং প্রয়োজনে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হোক।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মামলাটি এখনও চলমান এবং নতুন করে পাওয়া তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ নতুন করে ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা জাগিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবারসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে।
