বাফুফে কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পাচার অভিযোগ

খেলা

দেশের ফুটবল অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন-কে ঘিরে। নারী উইংয়ের এক নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিদেশে লোক পাঠানোর নামে প্রতারণা ও মানব পাচারের চেষ্টার অভিযোগ সামনে আসার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

ফেডারেশনের ভেতরের একাধিক সূত্র জানায়, অভিযুক্ত কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের আহসানুর রহমান রবিন এবং লিগ্যাল বিভাগের তাসনুভা তাবাসসুম মহিমা চৌধুরীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত নারী ফুটবল দলের অস্ট্রেলিয়া সফরকে ঘিরে। জানা গেছে, এশিয়ান কাপ উপলক্ষ্যে নির্ধারিত সফরকে কাজে লাগিয়ে একটি চক্র বিদেশে লোক পাঠানোর পরিকল্পনা করে। অভিযোগ অনুযায়ী, তৌহিদুল ইসলাম ওই চক্রের নেতৃত্বে ছিলেন এবং তার সঙ্গে আরও কয়েকজন সহযোগী যুক্ত ছিলেন।

তদন্ত-সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় একটি অফিসের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রটি কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। তারা নিজেদের ম্যানপাওয়ার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত দাবি করে সাধারণ মানুষকে বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখাত। বিশেষ করে নারী ফুটবল দলের সঙ্গে যুক্ত করার আশ্বাস দিয়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

একজন ভুক্তভোগী জানান, অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানোর প্রতিশ্রুতিতে তিনি কয়েকজনের পাসপোর্ট জমা দিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ প্রদান করেন। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও ভিসা না পাওয়ায় তিনি টাকা ফেরত চাইলে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয়। পরবর্তীতে তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তবে অভিযুক্ত তৌহিদুল ইসলাম সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, তিনি কোনো অর্থ গ্রহণ করেননি এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। যদিও পাসপোর্ট ফেরত দেওয়ার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেছেন।

এদিকে, বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর ফেডারেশনের ভেতরেও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। তবে অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তারা।

ঘটনাটি শুধু ফুটবল প্রশাসনেই নয়, দেশের ক্রীড়াঙ্গনের ভাবমূর্তিতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এখন সবার নজর তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের দিকে সেখানেই নির্ধারিত হবে অভিযোগের সত্যতা এবং পরবর্তী পদক্ষেপ।

দৈনিক টার্গেট

দৈনিক টার্গেট বাংলাদেশী সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।