প্রবীণ রাজনীতিকদের জামিন চাইলেন ফজলুর রহমান
কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, প্রবীণ রাজনীতিবিদদের প্রতি আচরণ এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়ে খোলামেলা বক্তব্য দিয়েছেন। এক গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রতিহিংসার সংস্কৃতি বন্ধ হওয়া প্রয়োজন এবং প্রবীণ রাজনীতিকদের মানবিক দৃষ্টিতে দেখা উচিত।
সাক্ষাৎকারে তিনি আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা তোফায়েল আহমেদ-এর শারীরিক অবস্থা ও তার বিরুদ্ধে মামলার প্রসঙ্গ তুলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ফজলুর রহমানের মতে, দীর্ঘদিন রাজনীতিতে থাকা প্রবীণ ব্যক্তিদের শেষ বয়সে আইনি হয়রানির মধ্যে ফেলা দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে না। তিনি বলেন, যারা একসময় দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, তাদের বয়স ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় মানবিক আচরণ করা উচিত।
একইসঙ্গে তিনি সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন ও আমির হোসেন আমু-র মতো প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধা রাজনীতিকদের প্রসঙ্গও টানেন। তার বক্তব্য, মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী ব্যক্তিদের শেষ বয়সে কারাগারে রাখা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। তিনি বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন তার নিজস্ব পথে চলবে, তবে জামিন পাওয়া তাদের ন্যায্য অধিকার হওয়া উচিত।
আলোচনায় তিনি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির দিকও তুলে ধরেন। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংঘাতের প্রভাব পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোতেও পড়তে পারে। তাই বাংলাদেশের রাজনীতিতে আরও সতর্কতা, সহনশীলতা ও ভারসাম্য প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ফজলুর রহমান বলেন, অতীতে যারা ক্ষমতায় থেকে কঠোর আচরণ করেছেন, তাদের অনেকেই এখন কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। তার ভাষায়, ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয় এবং রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত সময়ের পরিবর্তন উপলব্ধি করা। তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন সময় তিনি আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকে ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন।
নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও কথা বলেন এই সংসদ সদস্য। বর্তমানে তার বয়স ৭৮ বছর উল্লেখ করে তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছর পর তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা করেছেন। তার ভাষায়, জীবনের শেষ সময়টা তিনি পরিবার ও ধর্মীয় চর্চার মধ্যে কাটাতে চান। একইসঙ্গে তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে এমন একটি সংস্কৃতি দেখতে চান, যেখানে প্রবীণ নেতাদের শেষ বয়সে জেল বা প্রতিহিংসার মুখোমুখি হতে না হয়।
