সামাজিক মাধ্যমে ভুয়া তথ্যের ছড়াছড়ি

রাজনীতি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মারকে গণধোলাই দেওয়া হয়েছে—এমন দাবি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ঘিরে নানা আলোচনা ও বিভ্রান্তি তৈরি হলেও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভিন্ন তথ্য।

তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান রিউমার স্ক্যানারের অনুসন্ধান অনুযায়ী, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির সঙ্গে সালাহউদ্দিন আম্মারের কোনো সম্পর্ক নেই। প্রকৃতপক্ষে ভিডিওটি কয়েক মাস আগের একটি ঘটনার, যেখানে পুলিশের সঙ্গে ইনকিলাব মঞ্চের সংঘর্ষে আহত হন ফাহাদ নামের এক ব্যক্তি।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, গত ৬ ফেব্রুয়ারি ‘Samprotik Somoy – সাম্প্রতিক সময়’ নামের একটি ফেসবুক পেজে একই ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছিল। সেই ভিডিওটি তুলনামূলকভাবে স্পষ্ট হওয়ায় সেখানে থাকা ব্যক্তিকে সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হয় এবং তিনি সালাহউদ্দিন আম্মার নন বলে নিশ্চিত হওয়া যায়। পাশাপাশি ভিডিওটির শিরোনাম ও প্রকাশিত তথ্য থেকেও বোঝা যায়, এটি ইনকিলাব মঞ্চকে কেন্দ্র করে সংঘটিত ঘটনার ভিডিও।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি নতুনভাবে ছড়িয়ে পড়ে ভিন্ন দাবি সংযুক্ত করে। অনেকেই যাচাই-বাছাই ছাড়াই ভিডিওটি শেয়ার করায় বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। তবে নির্ভরযোগ্য তথ্য বিশ্লেষণে স্পষ্ট হয়েছে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারকে গণধোলাই দেওয়ার দাবিটি ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া যেকোনো ভিডিও বা তথ্য যাচাই ছাড়া বিশ্বাস কিংবা প্রচার করা উচিত নয়। কারণ পুরোনো বা ভিন্ন ঘটনার ভিডিও নতুন দাবি দিয়ে ছড়িয়ে দিলে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।