কর্মমুখী শিক্ষায় জোর প্রধানমন্ত্রীর

জাতীয়

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমকে যুগোপযোগী ও কর্মসংস্থানমুখী করতে শিক্ষকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও দক্ষতাভিত্তিক করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বর্তমান বিশ্বে শুধুমাত্র একাডেমিক সনদ নয়, বরং বাস্তব দক্ষতা অর্জনই কর্মক্ষেত্রে সফলতার অন্যতম শর্ত। এ লক্ষ্য সামনে রেখে কর্মমুখী ও কারিগরি শিক্ষার প্রসারে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় নানা সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এখন সময় এসেছে শিক্ষা কাঠামোকে আধুনিক প্রযুক্তি, গবেষণা ও বাস্তবমুখী জ্ঞানের সঙ্গে সংযুক্ত করার। তিনি উল্লেখ করেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছে, ফলে এই প্রতিষ্ঠান দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে শিক্ষার্থীদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, সফটওয়্যার উন্নয়ন, ডিজিটাল ব্যবসা, নেতৃত্বগুণ এবং আর্থিক জ্ঞানসহ বিভিন্ন সমসাময়িক বিষয়ে দক্ষ করে তুলতে হবে। পাশাপাশি বায়োটেকনোলজি, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, ন্যানোটেকনোলজি, থ্রিডি প্রিন্টিং এবং উন্নত যোগাযোগ প্রযুক্তির মতো উদীয়মান খাতেও শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, চাকরির বাজারের চাহিদার সঙ্গে শিক্ষার সংযোগ আরও শক্তিশালী করতে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো জরুরি। শিক্ষার্থীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দিতে ইন্টার্নশিপ এবং শিল্প-শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যৌথ কার্যক্রমকে গুরুত্ব দেওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি জানান, প্রতিবছর বহু শিক্ষার্থী স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করলেও বাস্তব দক্ষতার ঘাটতির কারণে অনেকেই কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে পিছিয়ে পড়েন। এই সমস্যা মোকাবিলায় বিভিন্ন অঞ্চলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে নতুন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, উদ্ভাবনী ব্যবসায়িক ধারণা বাস্তবায়নে প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। এর মাধ্যমে নতুন উদ্যোগ সৃষ্টি এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র সম্প্রসারিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বক্তব্যের একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষকদের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, শিক্ষকরা শুধু জ্ঞান বিতরণ করেন না, তারা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চিন্তা, মূল্যবোধ ও নেতৃত্ব তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাই শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি নৈতিকতা ও পেশাগত দায়বদ্ধতার বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধ, মানসিক সুস্থতা, সামাজিক সম্প্রীতি এবং পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়তে দক্ষ, মানবিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক তৈরির বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

দৈনিক টার্গেট

দৈনিক টার্গেট বাংলাদেশী সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।