সোহেল-স্বপ্নাকে ৭ লাখ টাকা জরিমানা

জাতীয়

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দায়ের করা বহুল আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। মামলায় অভিযুক্ত সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

রোববার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় দেন। আদালত রায়ে সোহেল রানাকে পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্না খাতুনকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করেন। এই অর্থ নিহত শিশুর বৈধ উত্তরাধিকারীদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালত আরও বলেন, নির্ধারিত অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে আসামিদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি জব্দ করে বিক্রির মাধ্যমে ক্ষতিপূরণের টাকা আদায় করতে হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত মে মাসে পল্লবীর একটি বাসা থেকে রামিসার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তদন্তের ধারাবাহিকতায় ওই বাসায় বসবাসকারী সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

দ্রুত তদন্ত শেষে ঘটনার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। পরবর্তীতে মামলাটি শিশু ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। ঈদুল আজহার ছুটির পর আদালত অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচারিক কার্যক্রম শুরু করেন।

বিচার চলাকালে নিহত শিশুর পরিবারের সদস্যসহ গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীরা আদালতে সাক্ষ্য দেন। সাক্ষ্যগ্রহণ, আত্মপক্ষ সমর্থন এবং উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত মামলার রায় ঘোষণার জন্য দিন নির্ধারণ করেন।

সবশেষে আদালত উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে দুই আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে মত দেন এবং তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করেন। রায়ের মাধ্যমে আলোচিত এই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।

দৈনিক টার্গেট

দৈনিক টার্গেট বাংলাদেশী সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।