ট্রাম্পের ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সাবেক উপদেষ্টা অ্যালেক্স ব্রুসেউইটজ এবং ঘটনার বিষয়ে অবগত একাধিক সূত্রের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’ এই চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যক্তিগত গ্রাহকদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ নিয়ে লরা লুমার তাঁর জনপ্রিয় সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’ হ্যান্ডলে রাজনৈতিক প্রচারণামূলক পোস্ট দিতেন, যা তিনি প্রকাশ্যে কখনো স্বীকার করেননি। এক্সে তাঁর অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ১৯ লাখ।
ই-মেইল আদান-প্রদান ও ব্যাংক ট্রান্সফারের নথি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত বছরের মে মাস থেকে লুমার এবং তাঁর মালিকানাধীন ফ্লোরিডাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘কিং ব্রেকার মিডিয়া’র অ্যাকাউন্টে চার দফায় মোট ৬০ হাজার ডলারেরও বেশি অর্থ পাঠানো হয়েছে।
ঘটনাটির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের দাবি, লুমার প্রতিটি প্রচারণামূলক টুইটের জন্য ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার ডলার, এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে তার চেয়েও বেশি অর্থ দাবি করতেন।
ট্রাম্পের সাবেক উপদেষ্টা ব্রুসেউইটজ ওয়াশিংটন পোস্টকে জানান, তিনি তাঁর রাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘এক্স স্ট্র্যাটেজিস’-এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট নীতিগত ইস্যুতে লুমারকে পোস্ট করার জন্য অর্থ দিয়েছিলেন। তবে কোন গ্রাহকের হয়ে এই লেনদেন হয়েছিল তা তিনি প্রকাশ করতে রাজি হননি।
ব্রুসেউইটজের মতে, এ ধরনের গোপন রাজনৈতিক পোস্টের ওপর কড়া নজরদারি ও স্পষ্ট ঘোষণা থাকা প্রয়োজন, কারণ এই সংস্কৃতি এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।
অন্য লেনদেনকারীদের মতে, রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছানোর ক্ষেত্রে লুমার অত্যন্ত কার্যকর হলেও কিছুটা অনিয়ন্ত্রিত। অনেক গ্রাহক মূলত হোয়াইট হাউসের ক্ষমতা এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মনোযোগ আকর্ষণের গোপন মাধ্যম হিসেবে লুমারের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতেন।
হট-টপিক ও অনলাইন চরমপন্থা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘ওপেন মেজার্স’-এর গবেষক জ্যারেড হোল্ট বলেন, ‘লুমার এমন একজন ব্যক্তি যিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে সরাসরি পৌঁছানোর ক্ষমতা ও বিশাল রাজনৈতিক প্রভাব রাখেন।’
তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ৩৩ বছর বয়সী লরা লুমার। নিজেকে কেবল একজন সাংবাদিক ও অ্যাক্টিভিস্ট হিসেবে দাবি করে লুমার বলেন, ‘আমি টাকা নিয়ে পোস্ট করা কোনো সাধারণ ইনফ্লুয়েন্সার নই। আমার মূল ব্যবসা হলো পাবলিক অ্যাফেয়ার্স ও বিরোধীদের ওপর গবেষণা। আমেরিকায় নিজের মেধা বিক্রি করে আয় করা কোনো অবৈধ বিষয় নয়।’
ব্রুসেউইটজের দেওয়া তথ্য খণ্ডন করে লুমার দাবি করেন, তাঁকে মূলত এক পৃষ্ঠার একটি গবেষণাপত্র তৈরির জন্য টাকা দেওয়া হয়েছিল, যা প্রচার করার দায়িত্বও ছিল তাঁদের। নির্দিষ্ট ফি নিয়ে পোস্ট করার অভিযোগ তিনি উড়িয়ে দেন।
তবে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট লুমারের মুখোমুখি হওয়ার ঠিক এক ঘণ্টার মাথায় তিনি সামাজিক মাধ্যমে ঘোষণা দেন, তিনি তাঁর অনলাইন শো ‘লুমার আনলিশড’ থেকে সাময়িক বিরতি নিচ্ছেন। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং বিয়ের প্রস্তুতির কথা বলে তিনি এই বিরতির ঘোষণা দেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে লরা লুমার প্রায়ই হোয়াইট হাউসে এবং ওভাল অফিসে ব্যক্তিগত বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। এমনকি লুমার সামাজিক মাধ্যমে সরব হওয়ার পর পেন্টাগন ও জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে বরখাস্তও করা হয়েছে।
যদিও ট্রাম্প ইতিপূর্বে লুমারকে ‘খুব ভালো মানুষ’ এবং ‘দেশপ্রেমিক’ বলে প্রশংসা করেছেন এবং কিছু কর্মকর্তা ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে লুমারের দেওয়া পরামর্শ শোনার কথা স্বীকার করেছেন। তবে সাম্প্রতিক এই বিতর্কের বিষয়ে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের গোপন আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে অনলাইনে রাজনৈতিক মতবাদ প্রচারের ফলে সাধারণ ব্যবহারকারীদের কাছে তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা চরম হুমকির মুখে পড়ছে।

দৈনিক টার্গেট 



























