ছড়িয়ে পড়া ফটোকার্ডটিতে দাবি করা হয়েছে—‘হাসিনার আমলে সবকিছুর দাম অনেক বেশি ছিল, তাই শ্রমিকের ২৫ হাজার টাকা মজুরি চেয়েছি। কিন্তু বিএনপির আমলে সবকিছুর দাম অনেক কম, তাই শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির প্রশ্নই আসে না।’
আলোচিত দাবিতে কয়েটি পোস্ট রয়েছে (বাসস) প্রকাশ করে।
ফটোকার্ডটির উৎস খুঁজতে গিয়ে ফেসবুকের ‘দৈনিক মোল্লার দেশ’ নামের একটি পেজে গত ৬ নভেম্বর রাত ৯টা ৫৩ মিনিটে শেয়ার করা একটি পোস্ট পাওয়া যায়, যার সঙ্গে ভাইরাল হওয়া ফটোকার্ডের হুবহু মিল রয়েছে। পেজটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এটি একটি ব্যাঙ্গাত্মক বা ‘স্যাটায়ার’ পেজ। তথ্যপ্রমাণের তোয়াক্কা না করে পেজটি থেকে নিয়মিত কাল্পনিক ও ভুয়া ফটোকার্ড তৈরি করে থাকে। সেই স্যাটায়ার পেজের একটি ফটোকার্ডকেই অনেকে সত্য হিসেবে বিশ্বাস করে ছড়িয়ে দিচ্ছেন।
শ্রমিকদের ২৫ হাজার টাকা মজুরি নিয়ে জোনায়েদ সাকি অতীতে কোনো বক্তব্য দিয়েছিলেন কি না, তা অনুসন্ধানে জাতীয় দৈনিক ‘যুগান্তর’-এর ওয়েবসাইটে ২০২৩ সালের ২৭ অক্টোবর প্রকাশিত ‘মজুরি ও ভোটের আন্দোলন এক করতে হবে: জোনায়েদ সাকি’ শিরোনামের একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়।
ওই প্রতিবেদনে জানা যায়, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ‘বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতি’ আয়োজিত সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করে জোনায়েদ সাকি অবিলম্বে শ্রমিকদের জন্য ২৫ হাজার টাকা মজুরি ঘোষণার দাবি জানিয়েছিলেন। সে সময় তিনি বলেছিলেন, বাজারের জিনিসপত্রের দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিবছর এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে তিন বছরের মাথায় শ্রমিকদের মজুরি পুনর্বিন্যাস বা সমন্বয়ের ব্যবস্থা থাকতে হবে।
বিএনপির আমলে জিনিসপত্রের দাম কম থাকায় পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির কোনো প্রয়োজন নেই—পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি এমন কোনো বক্তব্য দেননি। তাঁর নামে প্রচারিত ফটোকার্ডটি ‘দৈনিক মোল্লার দেশ’ নামের একটি প্যারোডি পেজে শেয়ার করা ফটোকার্ডের অনুরূপ। অর্থাৎ, প্যারোডি পেজে প্রকাশিত ফটোকার্ডটিকেই আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে।
দৈনিক টার্গেট 























