সুলভ সরকারি এলপিজি কোথায় যায়, কারা পায়

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৮:০৮:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫ বার পঠিত হয়েছে

বাস্তবে অবশ্য ঢাকায় বেসরকারি এলপি গ্যাসের ১২ কেজি সিলিন্ডার কিনতে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হয়েছে সম্প্রতি। সুলভ মূল্যের সরকারি এলপি গ্যাস সব সময় সাধারণ মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাজারে একই পণ্যের দামে বিশাল পার্থক্যের কারণে চুরি, কালোবাজারিসহ নানা ধরনের অপরাধের জন্ম হচ্ছে। আর সরকারি কম দামের সুফল পাচ্ছে সমাজের সীমিত অংশ। তবে এখন পর্যন্ত সরকারি কোম্পানির সরবরাহ করা গ্যাসের পরিমাণ বেশ কম।

সরকারি এলপিজির বড় একটি অংশ বিভিন্ন সরকারি বাহিনীকে সরবরাহ করা হয়। বাকি অংশ বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তেল বিপণন কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার তালিকাভুক্ত ডিলারদের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়।

পদ্মা অয়েল কোম্পানির বিপণন বিভাগের একজন কর্মকর্তা আজকের পত্রিকাকে জানান, বাহিনীর বাইরের সিলিন্ডারগুলো রেশনিংয়ের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত ডিলারদের মধ্যে বণ্টন করা হয়। একজন ডিলার সর্বনিম্ন ৫টি থেকে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪০০ সিলিন্ডার পেয়ে থাকেন।

গত ৫ আগস্টের বিতরণ তথ্য তুলে ধরে পদ্মা অয়েল কোম্পানির ওই কর্মকর্তা বলেন, এদিন ডিলারদের কাছে চট্টগ্রাম অঞ্চলে ৯০০, কক্সবাজার অঞ্চলে ১ হাজার ৫০০, ফেনী অঞ্চলে ৮০০, কুমিল্লা অঞ্চলে ৩৫০ এবং নোয়াখালী অঞ্চলে ৩৪০টি সিলিন্ডার বিতরণ করা হয়েছিল। সেপ্টেম্বর মাসে ডিলারদের মাধ্যমে সাড়ে ১২ কেজির ৪০ হাজার সিলিন্ডার বিক্রি করে কোম্পানিটি।

রাষ্ট্রীয় বিতরণ কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার সিলিন্ডার বিতরণের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, তালিকাভুক্ত ডিলারদের মধ্যে বিতরণের ক্ষেত্রে কোনো নিয়ম-শৃঙ্খলা নেই। অগ্রাধিকার নির্ধারণেও নেই কোনো নীতিমালা।

যেমন গত ৫ আগস্ট সিলেটের একজন ডিলার এক দিনে ১ হাজার ৪০০ সিলিন্ডার পেয়েছিলেন। একই দিন সেখানকার অন্যান্য ডিলারের মধ্যে কেউ মাত্র ১০টি আবার কেউ বা ১৫টি করে পেয়েছেন। ডিলারভেদে বরাদ্দের এমন পার্থক্যের সঠিক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি পদ্মা অয়েলের বিপণন বিভাগের কর্মকর্তারা।

এদিনই খুলনা অঞ্চলের জন্য মোট বরাদ্দ ছিল মাত্র ৫০০ সিলিন্ডার। তালিকাভুক্ত ডিলাররা সর্বনিম্ন ৫ থেকে সর্বোচ্চ ২৫টি করে সিলিন্ডার পেয়েছেন।কালোবাজারি হচ্ছে, অভিযোগ কোম্পানির বাজারে সুলভ মূল্যে ছাড়া সরকারি এলপিজি কালোবাজারির শিকার হচ্ছে বলে নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কাছে অভিযোগ করে চিঠি দিয়েছে এলপি গ্যাস লিমিটেড। এই সমস্যার সমাধানে পণ্যটির দাম বাড়িয়ে বেসরকারি এলপিজির কাছাকাছি নেওয়ার প্রস্তাব করেছে তারা। এ ক্ষেত্রে উৎপাদন মূল্য হিসাব না করে আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য বিবেচনায় নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এতে প্রকৃত নিম্ন আয়ের মানুষের সুলভে গ্যাস পাওয়ার সুযোগ সামান্য যা আছে, তা-ও শূন্যের কোঠায় নেমে যেতে পারে।

বিইআরসির কাছে করা আবেদনে এলপি গ্যাস কোম্পানি বলেছে, বেসরকারি সিলিন্ডারের তুলনায় বিপিসির সিলিন্ডারের দাম অনেক কম হওয়ায় সরকারি গ্যাস বেসরকারি সিলিন্ডারে ভরে (প্রক্রিয়াটি ক্রস ফিলিং নামে পরিচিত) নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে বিক্রি করা হয়। এতে প্রান্তিক পর্যায়ের গ্রাহকেরা কম দামে সরকারি এলপি গ্যাস পাচ্ছে না। এই বাস্তবতায় এলপি গ্যাস কোম্পানির প্রস্তাব, যেহেতু একমাত্র সরকারি শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে (ইআরএল) প্রোপেন এবং বিউটেন ৩৫: ৬৫ অনুপাতে মিশিয়ে এলপি গ্যাস তৈরি করা হয়, তাই বেসরকারি খাতের মতো সরকারি এলপিজির ক্ষেত্রেও দুটি উপাদানের সৌদি সিপি মূল্যের ভিত্তিতেই দাম নির্ধারণ করা উচিত।

প্রসঙ্গত, সৌদি সিপি (কনট্র্যাক্ট প্রাইস) হচ্ছে প্রতি মাসে সৌদি আরামকো কোম্পানির প্রতিমাসে ঘোষণা করা এলপিজি ক্রয়-বিক্রয়ের আনুষ্ঠানিক বৈশ্বিক মূল্যসূচক।

এলপি গ্যাস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী মো. আমীর মাসুদ বলেন, তাঁদের উৎপাদন সক্ষমতা অনেক কম হওয়ায় গ্রাহকের চাহিদা পূরণ করা যাচ্ছে না। তিনি জানান, ইআরএল থেকে ১৬ হাজার টন ও কৈলাশটিলার জালালাবাদ গ্যাসফিল্ড থেকে প্রায় ৫ হাজার টন গ্যাস পাওয়া যায়। সংস্কারের পর ইআরএলের সক্ষমতা দ্বিগুণ হলে এলপিজির সরবরাহ সক্ষমতাও আরেকটু বাড়বে।

এলপি গ্যাস লিমিটেডের এমডির মতে, এলপিজির বাজারে বিপিসি বা কোনো সরকারি জ্বালানি কোম্পানির অংশগ্রহণ বাড়াতে নেওয়া পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে অন্তত দুই বছর সময় লাগবে।

সরকারি বিতরণ কোম্পানি যমুনার তালিকাভুক্ত ডিলার হিসাবে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় ব্যবসা করেন নাজির আহমেদ মোল্লা। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, প্রতিমাসে সব মিলিয়ে সর্বোচ্চ ৭০টি সরকারি এলপিজি সিলিন্ডার তাঁর ভাগে আসে। তবে অনেক পুরোনো বলে সিলিন্ডারের মান বেশ খারাপ থাকে। কিছু সিলিন্ডারে লিকেজ থাকায় গ্যাস বের হয়ে যায়। তাই বাসাবাড়ির গ্রাহকেরা নেন না। এগুলো মূলত হোটেল-রেস্টুরেন্টের কাছেই বিক্রি করতে হয়।

বরাদ্দের কমবেশি প্রসঙ্গে নাজির মোল্লা বলেন, ২০০৯ সালের দিকে চাহিদা অনুযায়ী সিলিন্ডার বরাদ্দ পাওয়া যেত। কিন্তু একপর্যায়ে বরাদ্দ কমতে থাকে। মাঝখানে টানা দুই বছর সরকারি এলপি গ্যাস পাওয়া যায়নি। এখন আবার কিছুটা পাওয়া যাচ্ছে।

সরকারি এলপি গ্যাস বেসরকারি কোম্পানির বোতলে ভরে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ প্রসঙ্গে নাজির মোল্লা বলেন, ‘এটা কেবল সরকারি এলপি গ্যাসের ক্ষেত্রে নয়, অন্য কোম্পানির ক্ষেত্রেও এ রকম কথা শোনা যায়।’

আরেক ডিলার নারায়ণগঞ্জের সোনালী এন্টারপ্রাইজের পরিচালক জানান, তাঁর কাছে মাসে দু-একবার করে সরকারি এলপিজি সিলিন্ডার আসে। এগুলো দিনে দিনেই ভোক্তাদের কাছে চলে যায়।

সিলিন্ডারের গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল ঢাকার মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা সীমিত আয়ের চাকরিজীবী শাহে আলম বলেন, ‘সরকারি এলপিজির নামই কেবল শুনেছি। কিন্তু বাজারে কখনো এই সিলিন্ডার দেখি নাই। এগুলো কারা কোথায় বিক্রি করে, আর কারাই-বা কেনার সুযোগ পায়, সে সম্পর্কে আমার কোনো ধারণা নেই।’

ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম মনে করেন, বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে সরকারি সুলভ মূল্যের এলপি গ্যাস বিক্রির প্রস্তাব বারবার উপেক্ষিত হয়েছে। সে কারণে দেশীয় এই পণ্যের সুবিধা জনগণের কাছে পৌঁছায়নি। দাম বাড়ানো অনিয়ম ঠেকানোর কোনো সমাধান নয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘বাজারের সামান্য অংশীদারত্ব নিয়ে বসে থাকলে নানা অনিয়ম হবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সরকার আন্তরিক হলে বহু দরিদ্র মানুষের চাহিদা পূরণে এই পণ্য কাজে লাগানো যেত।’

১১তম বার্ষিক ব্যাংকিং সম্মেলন: সরকারি ঋণের চাপে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে মুদ্রানীতির কার্যকারিতা

১১তম বার্ষিক ব্যাংকিং সম্মেলন: সরকারি ঋণের চাপে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে মুদ্রানীতির কার্যকারিতা

ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণ মুদ্রানীতির কার্যকারিতা বাধাগ্রস্ত করছে। এই পরিস্থিতিতে ঊর্ধ্বমুখী মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ বাড়ানো এবং প্রবৃদ্ধির গতি ফেরাতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের মধ্যে নীতিগত সমন্বয় জরুরি।

ইউআইইউতে নবনিযুক্ত শিক্ষকদের ইনডাকশন ট্রেনিং অনুষ্ঠিত

ইউআইইউতে নবনিযুক্ত শিক্ষকদের ইনডাকশন ট্রেনিং অনুষ্ঠিত

ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স সেলের (আইকিউএসি) উদ্যোগে নবনিযুক্ত শিক্ষকদের জন্য দুদিনব্যাপী ইনডাকশন ট্রেনিং কর্মসূচি শুরু হয়েছে। গত সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে এ কর্মসূচির প্রথম দিনের কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম আগামী

জনপ্রিয় টার্গেট

সুলভ সরকারি এলপিজি কোথায় যায়, কারা পায়

প্রকাশ: ০৮:০৮:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

বাস্তবে অবশ্য ঢাকায় বেসরকারি এলপি গ্যাসের ১২ কেজি সিলিন্ডার কিনতে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হয়েছে সম্প্রতি। সুলভ মূল্যের সরকারি এলপি গ্যাস সব সময় সাধারণ মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাজারে একই পণ্যের দামে বিশাল পার্থক্যের কারণে চুরি, কালোবাজারিসহ নানা ধরনের অপরাধের জন্ম হচ্ছে। আর সরকারি কম দামের সুফল পাচ্ছে সমাজের সীমিত অংশ। তবে এখন পর্যন্ত সরকারি কোম্পানির সরবরাহ করা গ্যাসের পরিমাণ বেশ কম।

সরকারি এলপিজির বড় একটি অংশ বিভিন্ন সরকারি বাহিনীকে সরবরাহ করা হয়। বাকি অংশ বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তেল বিপণন কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার তালিকাভুক্ত ডিলারদের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়।

পদ্মা অয়েল কোম্পানির বিপণন বিভাগের একজন কর্মকর্তা আজকের পত্রিকাকে জানান, বাহিনীর বাইরের সিলিন্ডারগুলো রেশনিংয়ের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত ডিলারদের মধ্যে বণ্টন করা হয়। একজন ডিলার সর্বনিম্ন ৫টি থেকে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪০০ সিলিন্ডার পেয়ে থাকেন।

গত ৫ আগস্টের বিতরণ তথ্য তুলে ধরে পদ্মা অয়েল কোম্পানির ওই কর্মকর্তা বলেন, এদিন ডিলারদের কাছে চট্টগ্রাম অঞ্চলে ৯০০, কক্সবাজার অঞ্চলে ১ হাজার ৫০০, ফেনী অঞ্চলে ৮০০, কুমিল্লা অঞ্চলে ৩৫০ এবং নোয়াখালী অঞ্চলে ৩৪০টি সিলিন্ডার বিতরণ করা হয়েছিল। সেপ্টেম্বর মাসে ডিলারদের মাধ্যমে সাড়ে ১২ কেজির ৪০ হাজার সিলিন্ডার বিক্রি করে কোম্পানিটি।

রাষ্ট্রীয় বিতরণ কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার সিলিন্ডার বিতরণের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, তালিকাভুক্ত ডিলারদের মধ্যে বিতরণের ক্ষেত্রে কোনো নিয়ম-শৃঙ্খলা নেই। অগ্রাধিকার নির্ধারণেও নেই কোনো নীতিমালা।

যেমন গত ৫ আগস্ট সিলেটের একজন ডিলার এক দিনে ১ হাজার ৪০০ সিলিন্ডার পেয়েছিলেন। একই দিন সেখানকার অন্যান্য ডিলারের মধ্যে কেউ মাত্র ১০টি আবার কেউ বা ১৫টি করে পেয়েছেন। ডিলারভেদে বরাদ্দের এমন পার্থক্যের সঠিক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি পদ্মা অয়েলের বিপণন বিভাগের কর্মকর্তারা।

এদিনই খুলনা অঞ্চলের জন্য মোট বরাদ্দ ছিল মাত্র ৫০০ সিলিন্ডার। তালিকাভুক্ত ডিলাররা সর্বনিম্ন ৫ থেকে সর্বোচ্চ ২৫টি করে সিলিন্ডার পেয়েছেন।কালোবাজারি হচ্ছে, অভিযোগ কোম্পানির বাজারে সুলভ মূল্যে ছাড়া সরকারি এলপিজি কালোবাজারির শিকার হচ্ছে বলে নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কাছে অভিযোগ করে চিঠি দিয়েছে এলপি গ্যাস লিমিটেড। এই সমস্যার সমাধানে পণ্যটির দাম বাড়িয়ে বেসরকারি এলপিজির কাছাকাছি নেওয়ার প্রস্তাব করেছে তারা। এ ক্ষেত্রে উৎপাদন মূল্য হিসাব না করে আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য বিবেচনায় নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এতে প্রকৃত নিম্ন আয়ের মানুষের সুলভে গ্যাস পাওয়ার সুযোগ সামান্য যা আছে, তা-ও শূন্যের কোঠায় নেমে যেতে পারে।

বিইআরসির কাছে করা আবেদনে এলপি গ্যাস কোম্পানি বলেছে, বেসরকারি সিলিন্ডারের তুলনায় বিপিসির সিলিন্ডারের দাম অনেক কম হওয়ায় সরকারি গ্যাস বেসরকারি সিলিন্ডারে ভরে (প্রক্রিয়াটি ক্রস ফিলিং নামে পরিচিত) নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে বিক্রি করা হয়। এতে প্রান্তিক পর্যায়ের গ্রাহকেরা কম দামে সরকারি এলপি গ্যাস পাচ্ছে না। এই বাস্তবতায় এলপি গ্যাস কোম্পানির প্রস্তাব, যেহেতু একমাত্র সরকারি শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে (ইআরএল) প্রোপেন এবং বিউটেন ৩৫: ৬৫ অনুপাতে মিশিয়ে এলপি গ্যাস তৈরি করা হয়, তাই বেসরকারি খাতের মতো সরকারি এলপিজির ক্ষেত্রেও দুটি উপাদানের সৌদি সিপি মূল্যের ভিত্তিতেই দাম নির্ধারণ করা উচিত।

প্রসঙ্গত, সৌদি সিপি (কনট্র্যাক্ট প্রাইস) হচ্ছে প্রতি মাসে সৌদি আরামকো কোম্পানির প্রতিমাসে ঘোষণা করা এলপিজি ক্রয়-বিক্রয়ের আনুষ্ঠানিক বৈশ্বিক মূল্যসূচক।

এলপি গ্যাস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী মো. আমীর মাসুদ বলেন, তাঁদের উৎপাদন সক্ষমতা অনেক কম হওয়ায় গ্রাহকের চাহিদা পূরণ করা যাচ্ছে না। তিনি জানান, ইআরএল থেকে ১৬ হাজার টন ও কৈলাশটিলার জালালাবাদ গ্যাসফিল্ড থেকে প্রায় ৫ হাজার টন গ্যাস পাওয়া যায়। সংস্কারের পর ইআরএলের সক্ষমতা দ্বিগুণ হলে এলপিজির সরবরাহ সক্ষমতাও আরেকটু বাড়বে।

এলপি গ্যাস লিমিটেডের এমডির মতে, এলপিজির বাজারে বিপিসি বা কোনো সরকারি জ্বালানি কোম্পানির অংশগ্রহণ বাড়াতে নেওয়া পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে অন্তত দুই বছর সময় লাগবে।

সরকারি বিতরণ কোম্পানি যমুনার তালিকাভুক্ত ডিলার হিসাবে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় ব্যবসা করেন নাজির আহমেদ মোল্লা। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, প্রতিমাসে সব মিলিয়ে সর্বোচ্চ ৭০টি সরকারি এলপিজি সিলিন্ডার তাঁর ভাগে আসে। তবে অনেক পুরোনো বলে সিলিন্ডারের মান বেশ খারাপ থাকে। কিছু সিলিন্ডারে লিকেজ থাকায় গ্যাস বের হয়ে যায়। তাই বাসাবাড়ির গ্রাহকেরা নেন না। এগুলো মূলত হোটেল-রেস্টুরেন্টের কাছেই বিক্রি করতে হয়।

বরাদ্দের কমবেশি প্রসঙ্গে নাজির মোল্লা বলেন, ২০০৯ সালের দিকে চাহিদা অনুযায়ী সিলিন্ডার বরাদ্দ পাওয়া যেত। কিন্তু একপর্যায়ে বরাদ্দ কমতে থাকে। মাঝখানে টানা দুই বছর সরকারি এলপি গ্যাস পাওয়া যায়নি। এখন আবার কিছুটা পাওয়া যাচ্ছে।

সরকারি এলপি গ্যাস বেসরকারি কোম্পানির বোতলে ভরে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ প্রসঙ্গে নাজির মোল্লা বলেন, ‘এটা কেবল সরকারি এলপি গ্যাসের ক্ষেত্রে নয়, অন্য কোম্পানির ক্ষেত্রেও এ রকম কথা শোনা যায়।’

আরেক ডিলার নারায়ণগঞ্জের সোনালী এন্টারপ্রাইজের পরিচালক জানান, তাঁর কাছে মাসে দু-একবার করে সরকারি এলপিজি সিলিন্ডার আসে। এগুলো দিনে দিনেই ভোক্তাদের কাছে চলে যায়।

সিলিন্ডারের গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল ঢাকার মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা সীমিত আয়ের চাকরিজীবী শাহে আলম বলেন, ‘সরকারি এলপিজির নামই কেবল শুনেছি। কিন্তু বাজারে কখনো এই সিলিন্ডার দেখি নাই। এগুলো কারা কোথায় বিক্রি করে, আর কারাই-বা কেনার সুযোগ পায়, সে সম্পর্কে আমার কোনো ধারণা নেই।’

ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম মনে করেন, বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে সরকারি সুলভ মূল্যের এলপি গ্যাস বিক্রির প্রস্তাব বারবার উপেক্ষিত হয়েছে। সে কারণে দেশীয় এই পণ্যের সুবিধা জনগণের কাছে পৌঁছায়নি। দাম বাড়ানো অনিয়ম ঠেকানোর কোনো সমাধান নয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘বাজারের সামান্য অংশীদারত্ব নিয়ে বসে থাকলে নানা অনিয়ম হবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সরকার আন্তরিক হলে বহু দরিদ্র মানুষের চাহিদা পূরণে এই পণ্য কাজে লাগানো যেত।’

১১তম বার্ষিক ব্যাংকিং সম্মেলন: সরকারি ঋণের চাপে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে মুদ্রানীতির কার্যকারিতা

১১তম বার্ষিক ব্যাংকিং সম্মেলন: সরকারি ঋণের চাপে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে মুদ্রানীতির কার্যকারিতা

ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণ মুদ্রানীতির কার্যকারিতা বাধাগ্রস্ত করছে। এই পরিস্থিতিতে ঊর্ধ্বমুখী মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ বাড়ানো এবং প্রবৃদ্ধির গতি ফেরাতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের মধ্যে নীতিগত সমন্বয় জরুরি।

ইউআইইউতে নবনিযুক্ত শিক্ষকদের ইনডাকশন ট্রেনিং অনুষ্ঠিত

ইউআইইউতে নবনিযুক্ত শিক্ষকদের ইনডাকশন ট্রেনিং অনুষ্ঠিত

ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স সেলের (আইকিউএসি) উদ্যোগে নবনিযুক্ত শিক্ষকদের জন্য দুদিনব্যাপী ইনডাকশন ট্রেনিং কর্মসূচি শুরু হয়েছে। গত সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে এ কর্মসূচির প্রথম দিনের কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম আগামী