এ দিকে উপজেলা প্রশাসনের দাবি, গার্ড অব অনারের সব ধরনের প্রস্তুতি ছিল। সূর্যাস্তের পর জাতীয় পতাকা উত্তোলনের বিধান না থাকা এবং বীর মুক্তিযোদ্ধার মরদেহ পৌঁছানোর বিষয়ে নির্দিষ্ট সময় না জানানোর ফলে তা সম্ভব হয়নি।
গতকাল বৃহস্পতিবার বার্ধক্যজনিত কারণে ঢাকায় ছেলের বাসায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তারের মৃত্যু হয়। শেষজীবনে তিনি তার ছেলের বাসায় বসবাস করতেন। ঢাকায় তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
মুক্তিযোদ্ধার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ঢাকায় প্রথম জানাজা শেষে তাঁর মরদেহ ব্রাহ্মণপাড়ার সদর ইউনিয়নের মহালক্ষ্মীপাড়া গ্রামে আনা হয়। তাঁর মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছাতে প্রায় সাড়ে ৫টা বেজে যায়। জানাজা অনুষ্ঠিত হতে হতে সন্ধ্যা প্রায় সাড়ে ৬টা বেজে যায়। জানাজায় থানা-পুলিশ উপস্থিত থাকলেও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেউ উপস্থিত ছিলেন না। গার্ড অব অনার ছাড়াই তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
নিহত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তারের ছোট ভাই শাহজালাল বলেন, ‘আমার ভাই একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হয়েও গার্ড অব অনার পাননি। তাঁর জানাজা মাগরিবের নামাজের পর অনুষ্ঠিত হওয়ায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেউ উপস্থিত হননি। তবে থানা-পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।’
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ইদ্রিস মিয়া মাস্টার বলেন, আমাদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি ছিল। তবে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে তেমনভাবে সহযোগিতা করা হয়নি। সন্ধ্যার পর হওয়ায় উপজেলা প্রশাসনও উপস্থিত ছিল না। যে কারণে তাকে গার্ড অনার দেওয়া সম্ভব হয়নি।’
ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন বলেন, ‘মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনারের জন্য থানা-পুলিশের সদস্যরা প্রস্তুতি নিয়ে জানাজায় উপস্থিত ছিল। পুলিশ লাইন থেকে বিউগলের সুর বাজানোর জন্য দলও এসেছিল। তবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি আসতে বিলম্ব হওয়ায় গার্ড অব অনার দেওয়া সম্ভব হয়নি। পুলিশ জানাজায় অংশগ্রহণ করেছেন।’

দৈনিক টার্গেট 
























