কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘ওই পাহাড়ে তিনজনের মরদেহ পড়ে থাকার খবর পেয়েছি। মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
এদিকে মরদেহ পড়ে থাকার খবরের পর অভিযান ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। তবে মরদেহগুলোর পরিচয় ও কীভাবে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার ওই পাহাড়ে অভিযান চালানোর সময় অস্ত্রধারীদের গুলিতে তিতাস শেখ (২৭) নামের এক সেনাসদস্য নিহত হন। এ ঘটনার পর পাহাড়জুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করে অভিযান চালাচ্ছে যৌথ বাহিনী।
গতকাল মিয়ানমার সীমান্তে নাফ নদীর তীরে মানব পাচারকারীদের অবস্থানের খবর পায় যৌথ বাহিনী। এরপর দুর্গম পাহাড়ে সশস্ত্র মানব পাচারকারীদের আস্তানায় অভিযান শুরু করা হয়। অভিযান চলাকালে মানব পাচারকারীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর সদস্যদের গোলাগুলি হয়। এতে মানব পাচারকারীদের গুলিতে সেনাবাহিনীর সৈনিক মোহাম্মদ তিতাস শেখ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।
এ সময় মানব পাচারকারীদের কবল থেকে ৫৭ জনকে উদ্ধার ও চক্রের ছয় সদস্যকে আটক করা হয়। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের আজ সকালে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে সমুদ্রপথে মানব পাচারের ঘটনা বাড়ে। পাচারকারীরা বিভিন্ন এলাকার মানুষ ও রোহিঙ্গাদের পাহাড়ে জিম্মি করে সুযোগ বুঝে মাছ ধরার ট্রলারে করে মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে পাচার করে আসছে।
পাহাড়ে অবস্থানরত সশস্ত্র মানব পাচারকারীদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে বলে জানিয়েছেন টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী। তিনি বলেন, এ ধরনের অপরাধ নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।

দৈনিক টার্গেট 

























