এসএসসি ফলের আগে শিক্ষার্থীর মৃত্যু

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৯:৪৯:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬
  • ২৮ বার পঠিত হয়েছে

নিহত শিক্ষার্থী মারুফ

এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের অপেক্ষায় ছিল পরিবারের সবাই। কিন্তু সেই প্রতীক্ষার অবসান ঘটার আগেই চিরবিদায় নিল নাটোরের বড়াইগ্রামের কিশোর মারুফ আহমেদ (১৬)।

ফল প্রকাশের প্রায় এক ঘণ্টা আগে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ফলে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের দিনটি মুহূর্তেই পরিণত হয় শোকের দিনে।

মারুফ আহমেদ বড়াইগ্রাম উপজেলার বড়াইগ্রাম সদর ইউনিয়নের তারানগর গ্রামের বাসিন্দা মিলন হোসেনের ছেলে। তিনি বড়াইগ্রাম কারিগরি অ্যান্ড বিএম কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, গত শনিবার হঠাৎ করেই মারুফ তীব্র আন্ত্রিক সমস্যায় আক্রান্ত হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও সোমবার সকাল ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

সোমবার সকালেই সারা দেশে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, মারুফ গণিত বিষয়ে উত্তীর্ণ হতে পারেননি। তবে সেই ফল নিজের চোখে আর দেখা হয়নি তার। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, জীবিত থাকলে পরবর্তী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সহজেই বিষয়টি পাস করার সুযোগ ছিল।

ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন বাবা মিলন হোসেন। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, ফলাফল যেমনই হোক, ছেলে আমার কাছে সবসময়ই প্রিয় ছিল। সে বেঁচে থাকলে আবার পরীক্ষা দিয়ে ভালো ফল করতে পারত। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিণতি সবকিছু বদলে দিয়েছে।

বড়াইগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মমিন আলী বলেন, একজন শিক্ষার্থীর জীবনের প্রথম পাবলিক পরীক্ষার ফল জানার আগেই তার মৃত্যু সত্যিই অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ঘটনা। এ ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, যে দিনে অধিকাংশ শিক্ষার্থী ভবিষ্যতের নতুন স্বপ্ন নিয়ে ফলাফল উদযাপন করেছে, ঠিক সেই দিনই মারুফের পরিবারের জন্য নেমে এসেছে অপূরণীয় শোক। স্বজন, সহপাঠী ও এলাকাবাসী তার অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

এসএসসি ফলের আগে শিক্ষার্থীর মৃত্যু

প্রকাশ: ০৯:৪৯:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬

এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের অপেক্ষায় ছিল পরিবারের সবাই। কিন্তু সেই প্রতীক্ষার অবসান ঘটার আগেই চিরবিদায় নিল নাটোরের বড়াইগ্রামের কিশোর মারুফ আহমেদ (১৬)।

ফল প্রকাশের প্রায় এক ঘণ্টা আগে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ফলে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের দিনটি মুহূর্তেই পরিণত হয় শোকের দিনে।

মারুফ আহমেদ বড়াইগ্রাম উপজেলার বড়াইগ্রাম সদর ইউনিয়নের তারানগর গ্রামের বাসিন্দা মিলন হোসেনের ছেলে। তিনি বড়াইগ্রাম কারিগরি অ্যান্ড বিএম কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, গত শনিবার হঠাৎ করেই মারুফ তীব্র আন্ত্রিক সমস্যায় আক্রান্ত হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও সোমবার সকাল ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

সোমবার সকালেই সারা দেশে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, মারুফ গণিত বিষয়ে উত্তীর্ণ হতে পারেননি। তবে সেই ফল নিজের চোখে আর দেখা হয়নি তার। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, জীবিত থাকলে পরবর্তী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সহজেই বিষয়টি পাস করার সুযোগ ছিল।

ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন বাবা মিলন হোসেন। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, ফলাফল যেমনই হোক, ছেলে আমার কাছে সবসময়ই প্রিয় ছিল। সে বেঁচে থাকলে আবার পরীক্ষা দিয়ে ভালো ফল করতে পারত। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিণতি সবকিছু বদলে দিয়েছে।

বড়াইগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মমিন আলী বলেন, একজন শিক্ষার্থীর জীবনের প্রথম পাবলিক পরীক্ষার ফল জানার আগেই তার মৃত্যু সত্যিই অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ঘটনা। এ ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, যে দিনে অধিকাংশ শিক্ষার্থী ভবিষ্যতের নতুন স্বপ্ন নিয়ে ফলাফল উদযাপন করেছে, ঠিক সেই দিনই মারুফের পরিবারের জন্য নেমে এসেছে অপূরণীয় শোক। স্বজন, সহপাঠী ও এলাকাবাসী তার অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।