দৈনিক টার্গেট

দেশের চেতনায়

নোয়াখালীতে টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা

মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে টানা বৃষ্টিপাতে নোয়াখালী জেলায় দেখা দিয়েছে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। সোমবার রাত থেকে শুরু হওয়া মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাতে জেলার বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি, বাসা-বাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়েছে। এতে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ।

জেলা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মঙ্গলবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় মাইজদী ও হাতিয়া অঞ্চলে প্রায় ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জলাবদ্ধতার কারণে নোয়াখালী জেলা শহরের প্রেস ক্লাব সড়ক, রেড ক্রিসেন্ট, টাউন হল মোড়, ইসলামিয়া সড়ক, ডিসি সড়ক, মহিলা কলেজ সড়ক, নোয়াখালী সরকারি কলেজ সড়ক ও মাইজদী বাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যান চলাচল ও স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

এছাড়া জেলার কবিরহাট, কোম্পানীগঞ্জ, সুবর্ণচর, সেনবাগ, বেগমগঞ্জ, সোনাইমুড়ী ও চাটখিল উপজেলার নিচু এলাকাগুলোতেও পানি জমে গেছে। অনেক এলাকায় সকাল থেকে হাঁটুপানি পেরিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে বাসিন্দাদের।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শহরের বিভিন্ন এলাকায় পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় এবং খাল, নালা ও জলাশয় ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নামছে না। এ অবস্থার জন্য কর্তৃপক্ষের গাফিলতিকেই দায়ী করেছেন অনেকেই।

টানা বৃষ্টির সঙ্গে নদীর জোয়ারের কারণে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুছাপুর ও চরএলাহী ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী মানুষজন পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বেড়িবাঁধের বাইরের অধিকাংশ বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। রান্নাঘরে পানি ওঠায় স্বাভাবিক রান্নাবান্না বন্ধ হয়ে গেছে।

মুছাপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা নুর উদ্দিন জানান, ইউনিয়নের ৬, ৭ ও ৮নং ওয়ার্ডের শতাধিক বাড়িতে পানি ঢুকেছে। দুই শতাধিক পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। পানির কারণে রান্না করতে না পারায় অনেকেই খাবার সংকটে পড়েছেন।

জেলা প্রশাসক খন্দকার ইশতিয়াক আহমেদ জানান, ভারি বৃষ্টির কারণে জেলার অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে সাময়িক দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিস্থিতি মোকাবেলায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।