বেহাল ১০ কিমি সড়ক: শত সংস্কারেও সারেনি ক্ষত

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ১২:২১:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫ বার পঠিত হয়েছে

সরেজমিনে দেখা গেছে, কোথাও পিচ উঠে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, আবার কোথাও গর্ত ভরাট করতে ইটের খোয়া ফেলা হয়েছে। এবং শতাধিক স্থানে ইটের সলিং করা হয়েছে; যা স্থানভেদে দীর্ঘ ১০ থেকে ৩০ ফুট। সেই ইটের সলিংয়ের ফলে চারাদিকে আরও গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এবড়োখেবড়ো সড়কে হেলেদুলে ধীরগতিতে চলছে যানবাহন। সংস্কার করা অংশের কয়েকটি জায়গায় ইট দেবে গিয়ে আবার গর্ত তৈরি হয়েছে। কোথাও ইট সরে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে নিচের মাটি ও খোয়া।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সড়কটির এই অংশ দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক বাস, ট্রাক, পণ্যবাহী যান, মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহন চলাচল করে। গর্ত ও উঁচু-নিচু অংশ এড়িয়ে চলতে গিয়ে চালকদের প্রায়ই গাড়ির গতিপথ পরিবর্তন করতে হয়। এতে যানবাহনের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।

মেডিকেল মোড়ে কথা হয় শাপলা পরিবহনের চালক সোনা মিয়ার সঙ্গে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘প্রায় তিন বছর ধরে পাগলাপীর বাজার থেকে শুরু করে মেডিকেল মোড় পর্যন্ত সড়ক বেহাল। গত বছর বড় বড় গর্তের কারণে কার্পেটিং তুলে পিচ পাথর দিয়েছে মেরামত করেছে। বছর না ঘুরতে আবার সেই সড়কে বড় বড় গর্ত। এর থেকে গ্রামের কাঁচা রাস্তা ভালো।’

কেল্লাবন্দ এলাকার বাসিন্দা নওশাদ আলী বলেন, ‘মেডিকেল মোড় থেকে সিও বাজার উত্তম এলাকা পর্যন্ত দুই কিলোমিটারে গত বছর সংস্কার করা অংশেই ৫০টির বেশি জায়গা ইট দিয়ে সলিং করা হয়েছে। এতে সলিংয়ের আশপাশে আরও বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। অবস্থা দেখে বোঝার উপায় নেই, এটা মহাসড়ক। প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। গত দুই মাসে অন্তত ১০ বার গর্তগুলো ভরাট করা হয়েছে।’

ট্রাকচালক পাগলাপীর এলাকার বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘দেখা যায় বছরে ৬ মাস গর্ত ভরাটের কাজ চলে। কিন্তু স্থায়ী কোনো সমাধান নেই। এক জায়গার গর্ত ভরাট করা হয়, কিছুদিন পর আবার সেখানে গর্ত হয়। এখন ইট দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে।’

বাসিন্দাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর সড়কটিতে জোড়াতালি দিয়ে সংস্কার করা হচ্ছে। এতে সাময়িকভাবে গর্ত বন্ধ হলেও স্থায়ীভাবে সমস্যার সমাধান হচ্ছে না; বরং এক জায়গা সংস্কারের পর কিছুদিন যেতে না যেতেই সেখানে আবার ক্ষত তৈরি হচ্ছে। তাঁরা গর্তে ইট ফেলে সাময়িক মেরামতের বদলে সড়কটি টেকসইভাবে সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রংপুর-সৈয়দপুর মহাসড়কের ১৭ কিলোমিটার সংস্কারের কাজ ২৬ কোটি ৮৯ লাখ ৫৯ হাজার ৯৪৬ টাকায় পায় রাজশাহীর ডন এন্টারপ্রাইজ। ওই বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ১০ কিলোমিটারে ডিবিএসটি কাজ শেষ হলেও সেখানে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। টহলরত সেনাবাহিনীর একটি দল প্রতি বর্গমিটারে ৫ কেজি পাথর কম দেওয়ার বিষয়টি শনাক্ত করে। এতে প্রায় ৩৬৫ টন পাথর কম ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ। সংস্কার শেষ হওয়ার আগেই সড়কের কার্পেটিং উঠে গর্ত তৈরি হয়েছে। বর্তমানে গর্তগুলো ইট দিয়ে ভরাট করায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংস্কারকাজে নিয়োজিত সওজের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘অনেক আগেই সড়ক নষ্ট হয়ে গেছে। তিন বছরে না হলেও ১০০ বার গর্তগুলো ভরাট করা হয়। কিন্তু সেগুলো টেকসই হচ্ছে না। একটু বৃষ্টি হলেই ভারী যানবাহনের চাপে প্রতিনিয়ত গর্ত সৃষ্টি হচ্ছে।’

সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এটা অনেক পুরাতন রাস্তা। এটার ফ্লেক্সিবিলিটি নষ্ট হয়ে গেছে। তাই দ্রুত এই রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং বারবার মেরামত করতে হচ্ছে। যত দূর আমি স্টাডি করেছি, সড়কটি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। এটা সংস্কার করে কোনো সুফল মিলবে না। এটা পূর্ণ নির্মাণ দরকার। আমরা এটা নিয়ে স্যারদের সঙ্গে মিটিং করেছি। স্থায়ী সমাধানের প্রস্তাব করা হবে।’

কারিগরি ত্রুটিতে বন্ধ হয়ে যাওয়া চট্টগ্রামে ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডের (সিইউএফএল) উৎপাদন ১২ দিন পর আবারও শুরু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কারখানাটিতে পুনরায় ইউরিয়া সার উৎপাদন শুরু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সিইউএফএলের কর্মকর্তা এ কে এম সেলিম রেজা চৌধুরী।

কুমিল্লার স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে উঠে এসেছে, আইফোন নেওয়ার জন্যই তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে পরিবার বলছে ভিন্ন কথা। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ বা যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন অপ্রতিমের বাবা

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে অশ্লীলতা ছড়ানোর অভিযোগে একটি চরাঞ্চলে গড়ে ওঠা ‘কাশফুলের ঘাট’ নামে একটি চা ও কফি শপ গুঁড়িয়ে দিয়েছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার বিকেলে অভিযান চালিয়ে আস্তানাটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। দুর্গম এলাকায় অসামাজিক কার্যকলাপের এই কেন্দ্রটি বন্ধ হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয়

জনপ্রিয় টার্গেট

‘মজুত ছিল, তবু সংকট কেন’— বিশেষ বৈঠকের আলোচনা তুলে ধরে দীর্ঘ পোস্ট জামায়াত এমপির

বেহাল ১০ কিমি সড়ক: শত সংস্কারেও সারেনি ক্ষত

প্রকাশ: ১২:২১:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সরেজমিনে দেখা গেছে, কোথাও পিচ উঠে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, আবার কোথাও গর্ত ভরাট করতে ইটের খোয়া ফেলা হয়েছে। এবং শতাধিক স্থানে ইটের সলিং করা হয়েছে; যা স্থানভেদে দীর্ঘ ১০ থেকে ৩০ ফুট। সেই ইটের সলিংয়ের ফলে চারাদিকে আরও গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এবড়োখেবড়ো সড়কে হেলেদুলে ধীরগতিতে চলছে যানবাহন। সংস্কার করা অংশের কয়েকটি জায়গায় ইট দেবে গিয়ে আবার গর্ত তৈরি হয়েছে। কোথাও ইট সরে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে নিচের মাটি ও খোয়া।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সড়কটির এই অংশ দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক বাস, ট্রাক, পণ্যবাহী যান, মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহন চলাচল করে। গর্ত ও উঁচু-নিচু অংশ এড়িয়ে চলতে গিয়ে চালকদের প্রায়ই গাড়ির গতিপথ পরিবর্তন করতে হয়। এতে যানবাহনের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।

মেডিকেল মোড়ে কথা হয় শাপলা পরিবহনের চালক সোনা মিয়ার সঙ্গে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘প্রায় তিন বছর ধরে পাগলাপীর বাজার থেকে শুরু করে মেডিকেল মোড় পর্যন্ত সড়ক বেহাল। গত বছর বড় বড় গর্তের কারণে কার্পেটিং তুলে পিচ পাথর দিয়েছে মেরামত করেছে। বছর না ঘুরতে আবার সেই সড়কে বড় বড় গর্ত। এর থেকে গ্রামের কাঁচা রাস্তা ভালো।’

কেল্লাবন্দ এলাকার বাসিন্দা নওশাদ আলী বলেন, ‘মেডিকেল মোড় থেকে সিও বাজার উত্তম এলাকা পর্যন্ত দুই কিলোমিটারে গত বছর সংস্কার করা অংশেই ৫০টির বেশি জায়গা ইট দিয়ে সলিং করা হয়েছে। এতে সলিংয়ের আশপাশে আরও বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। অবস্থা দেখে বোঝার উপায় নেই, এটা মহাসড়ক। প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। গত দুই মাসে অন্তত ১০ বার গর্তগুলো ভরাট করা হয়েছে।’

ট্রাকচালক পাগলাপীর এলাকার বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘দেখা যায় বছরে ৬ মাস গর্ত ভরাটের কাজ চলে। কিন্তু স্থায়ী কোনো সমাধান নেই। এক জায়গার গর্ত ভরাট করা হয়, কিছুদিন পর আবার সেখানে গর্ত হয়। এখন ইট দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে।’

বাসিন্দাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর সড়কটিতে জোড়াতালি দিয়ে সংস্কার করা হচ্ছে। এতে সাময়িকভাবে গর্ত বন্ধ হলেও স্থায়ীভাবে সমস্যার সমাধান হচ্ছে না; বরং এক জায়গা সংস্কারের পর কিছুদিন যেতে না যেতেই সেখানে আবার ক্ষত তৈরি হচ্ছে। তাঁরা গর্তে ইট ফেলে সাময়িক মেরামতের বদলে সড়কটি টেকসইভাবে সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রংপুর-সৈয়দপুর মহাসড়কের ১৭ কিলোমিটার সংস্কারের কাজ ২৬ কোটি ৮৯ লাখ ৫৯ হাজার ৯৪৬ টাকায় পায় রাজশাহীর ডন এন্টারপ্রাইজ। ওই বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ১০ কিলোমিটারে ডিবিএসটি কাজ শেষ হলেও সেখানে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। টহলরত সেনাবাহিনীর একটি দল প্রতি বর্গমিটারে ৫ কেজি পাথর কম দেওয়ার বিষয়টি শনাক্ত করে। এতে প্রায় ৩৬৫ টন পাথর কম ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ। সংস্কার শেষ হওয়ার আগেই সড়কের কার্পেটিং উঠে গর্ত তৈরি হয়েছে। বর্তমানে গর্তগুলো ইট দিয়ে ভরাট করায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংস্কারকাজে নিয়োজিত সওজের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘অনেক আগেই সড়ক নষ্ট হয়ে গেছে। তিন বছরে না হলেও ১০০ বার গর্তগুলো ভরাট করা হয়। কিন্তু সেগুলো টেকসই হচ্ছে না। একটু বৃষ্টি হলেই ভারী যানবাহনের চাপে প্রতিনিয়ত গর্ত সৃষ্টি হচ্ছে।’

সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এটা অনেক পুরাতন রাস্তা। এটার ফ্লেক্সিবিলিটি নষ্ট হয়ে গেছে। তাই দ্রুত এই রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং বারবার মেরামত করতে হচ্ছে। যত দূর আমি স্টাডি করেছি, সড়কটি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। এটা সংস্কার করে কোনো সুফল মিলবে না। এটা পূর্ণ নির্মাণ দরকার। আমরা এটা নিয়ে স্যারদের সঙ্গে মিটিং করেছি। স্থায়ী সমাধানের প্রস্তাব করা হবে।’

কারিগরি ত্রুটিতে বন্ধ হয়ে যাওয়া চট্টগ্রামে ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডের (সিইউএফএল) উৎপাদন ১২ দিন পর আবারও শুরু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কারখানাটিতে পুনরায় ইউরিয়া সার উৎপাদন শুরু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সিইউএফএলের কর্মকর্তা এ কে এম সেলিম রেজা চৌধুরী।

কুমিল্লার স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে উঠে এসেছে, আইফোন নেওয়ার জন্যই তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে পরিবার বলছে ভিন্ন কথা। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ বা যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন অপ্রতিমের বাবা

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে অশ্লীলতা ছড়ানোর অভিযোগে একটি চরাঞ্চলে গড়ে ওঠা ‘কাশফুলের ঘাট’ নামে একটি চা ও কফি শপ গুঁড়িয়ে দিয়েছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার বিকেলে অভিযান চালিয়ে আস্তানাটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। দুর্গম এলাকায় অসামাজিক কার্যকলাপের এই কেন্দ্রটি বন্ধ হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয়