রাজস্ব আদায় না বাড়ায়, বাড়ছে ঋণনির্ভরতা

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ১২:৪৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ৪ বার পঠিত হয়েছে

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সরকারের ব্যয় বেড়েছে। পাশাপাশি বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য পরিচালন ব্যয়ও বাড়ছে। কিন্তু সেই অনুপাতে রাজস্ব আদায় বাড়ছে না। এর ফলে ব্যয় মেটাতে ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে হচ্ছে সরকারকে। এর মধ্যে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ায় সরকারের ব্যয়ের চাপ আরও বাড়তে পারে।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, সরকারের আয়ের সক্ষমতার তুলনায় ব্যয় অনেক বেশি বলে ঋণ নিতে হচ্ছে। নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়ায় চলতি অর্থবছরে ব্যয় আরও বাড়বে। অথচ রাজস্ব আদায় বাড়ানোর তেমন উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সরকার ঋণ নিয়েছে ১ হাজার ১৭ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই খাতে নিট ঋণের পরিমাণ ছিল ঋণাত্মক ২ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা।

এদিকে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহে স্থবিরতা থাকায় ব্যাংকগুলোতে উদ্বৃত্ত তারল্য জমছে। গত জুলাইয়ে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমে আসে ৪ দশমিক ৬২ শতাংশে। বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়াতে ৬২ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হলেও তাতে প্রত্যাশিত সাড়া মিলছে না। ফলে ব্যাংকগুলো সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে।

ব্যাংকাররা বলছেন, বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা কম থাকায় অনেক ব্যাংকের কাছে উদ্বৃত্ত অর্থ পড়ে আছে। এই অর্থ সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করা হচ্ছে। তবে সরকারি ঋণের চাহিদা বাড়লে সুদহারের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে।

অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, বেসরকারি খাতে ঋণ না বাড়িয়ে শুধু সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ বাড়ানো অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের জন্য ইতিবাচক নয়। ব্যাংকগুলো বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ করতে প্রস্তুত। ঋণের চাহিদা বাড়লে তারা বিনিয়োগ বাড়াতে পারবে।

চলতি অর্থবছরে ব্যাংক থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। তবে আগের অর্থবছরেও ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার নজির রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। সংশোধিত বাজেটে তা বাড়িয়ে ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা করা হয়। শেষ পর্যন্ত সংশোধিত লক্ষ্যের চেয়েও ৩৪ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি ঋণ নেয় সরকার।

ব্যাংকঋণের সঙ্গে বাড়ছে সুদ পরিশোধের ব্যয়ও। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারের সুদ পরিশোধে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, সরকারের চাহিদা অনুযায়ী ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মাধ্যমে ঋণের জোগান দেওয়া বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্ব। তবে এই ঋণ কীভাবে পরিশোধ করা হবে, তা সরকারকেই ভাবতে হবে। রাজস্ব আদায় প্রত্যাশা অনুযায়ী না হওয়ায় সরকারের ঋণনির্ভরতা বাড়ছে বলেও জানান তিনি।

চাঁদাবাজি বন্ধে বিদ্যমান আইনের দুর্বলতা দূর করতে আইন সংশোধন বা নতুন আইন প্রণয়নের চিন্তা করছে সরকার। এতে চাঁদাবাজির শিকার ব্যক্তি কোনো কারণে মামলা করতে না চাইলেও পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করতে পারবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

ট্রেনের সাধারণ যাত্রীদের জন্য অনলাইনে টিকিট ছাড়ার কয়েক দিন আগেই অ্যাডমিন ড্যাশবোর্ড ব্যবহার করে টিকিট ব্লক করার সুযোগ রয়েছে। চাইলেই এই সুযোগ নিতে পারেন ভেন্ডর প্রতিষ্ঠান ‘সহজ’-এর প্রতিনিধি ও রেলওয়ের বুকিং সহকারীরা। এভাবে টিকিট ব্লক করার বিষয়টি ধরা পড়েছে রেলওয়ের ই-টিকিটিং ব্যবস্থা নিয়ে করা…

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে রংপুরের পীরগঞ্জে গরিব, দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে শাড়ি ও লুঙ্গি বিতরণ করেছেন পীরগঞ্জ পৌরসভার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও মেয়র পদপ্রার্থী সহিদুল ইসলাম মণ্ডল সেবু…

জনপ্রিয় টার্গেট

রাজস্ব আদায় না বাড়ায়, বাড়ছে ঋণনির্ভরতা

প্রকাশ: ১২:৪৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সরকারের ব্যয় বেড়েছে। পাশাপাশি বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য পরিচালন ব্যয়ও বাড়ছে। কিন্তু সেই অনুপাতে রাজস্ব আদায় বাড়ছে না। এর ফলে ব্যয় মেটাতে ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে হচ্ছে সরকারকে। এর মধ্যে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ায় সরকারের ব্যয়ের চাপ আরও বাড়তে পারে।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, সরকারের আয়ের সক্ষমতার তুলনায় ব্যয় অনেক বেশি বলে ঋণ নিতে হচ্ছে। নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়ায় চলতি অর্থবছরে ব্যয় আরও বাড়বে। অথচ রাজস্ব আদায় বাড়ানোর তেমন উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সরকার ঋণ নিয়েছে ১ হাজার ১৭ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই খাতে নিট ঋণের পরিমাণ ছিল ঋণাত্মক ২ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা।

এদিকে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহে স্থবিরতা থাকায় ব্যাংকগুলোতে উদ্বৃত্ত তারল্য জমছে। গত জুলাইয়ে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমে আসে ৪ দশমিক ৬২ শতাংশে। বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়াতে ৬২ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হলেও তাতে প্রত্যাশিত সাড়া মিলছে না। ফলে ব্যাংকগুলো সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে।

ব্যাংকাররা বলছেন, বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা কম থাকায় অনেক ব্যাংকের কাছে উদ্বৃত্ত অর্থ পড়ে আছে। এই অর্থ সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করা হচ্ছে। তবে সরকারি ঋণের চাহিদা বাড়লে সুদহারের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে।

অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, বেসরকারি খাতে ঋণ না বাড়িয়ে শুধু সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ বাড়ানো অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের জন্য ইতিবাচক নয়। ব্যাংকগুলো বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ করতে প্রস্তুত। ঋণের চাহিদা বাড়লে তারা বিনিয়োগ বাড়াতে পারবে।

চলতি অর্থবছরে ব্যাংক থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। তবে আগের অর্থবছরেও ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার নজির রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। সংশোধিত বাজেটে তা বাড়িয়ে ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা করা হয়। শেষ পর্যন্ত সংশোধিত লক্ষ্যের চেয়েও ৩৪ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি ঋণ নেয় সরকার।

ব্যাংকঋণের সঙ্গে বাড়ছে সুদ পরিশোধের ব্যয়ও। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারের সুদ পরিশোধে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, সরকারের চাহিদা অনুযায়ী ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মাধ্যমে ঋণের জোগান দেওয়া বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্ব। তবে এই ঋণ কীভাবে পরিশোধ করা হবে, তা সরকারকেই ভাবতে হবে। রাজস্ব আদায় প্রত্যাশা অনুযায়ী না হওয়ায় সরকারের ঋণনির্ভরতা বাড়ছে বলেও জানান তিনি।

চাঁদাবাজি বন্ধে বিদ্যমান আইনের দুর্বলতা দূর করতে আইন সংশোধন বা নতুন আইন প্রণয়নের চিন্তা করছে সরকার। এতে চাঁদাবাজির শিকার ব্যক্তি কোনো কারণে মামলা করতে না চাইলেও পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করতে পারবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

ট্রেনের সাধারণ যাত্রীদের জন্য অনলাইনে টিকিট ছাড়ার কয়েক দিন আগেই অ্যাডমিন ড্যাশবোর্ড ব্যবহার করে টিকিট ব্লক করার সুযোগ রয়েছে। চাইলেই এই সুযোগ নিতে পারেন ভেন্ডর প্রতিষ্ঠান ‘সহজ’-এর প্রতিনিধি ও রেলওয়ের বুকিং সহকারীরা। এভাবে টিকিট ব্লক করার বিষয়টি ধরা পড়েছে রেলওয়ের ই-টিকিটিং ব্যবস্থা নিয়ে করা…

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে রংপুরের পীরগঞ্জে গরিব, দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে শাড়ি ও লুঙ্গি বিতরণ করেছেন পীরগঞ্জ পৌরসভার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও মেয়র পদপ্রার্থী সহিদুল ইসলাম মণ্ডল সেবু…