শুভ উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে কম্বল বিতরণ
বাংলাদেশ সাংবাদিক ও সামাজিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ২০২৬ সালের এক মানবিক কর্মসূচি হিসেবে “শুভ উদ্বোধন ও কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠান” অনুষ্ঠিত হয়েছে। শীতার্ত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানটি ছিল মানবিকতা, সহযোগিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট আইনজীবী ও মানবদরদি সমাজসেবক এডভোকেট ছরোয়ার মিয়া। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, শীত মৌসুমে দরিদ্র মানুষের কষ্ট লাঘবে কম্বল বিতরণ একটি তাৎপর্যপূর্ণ উদ্যোগ। সমাজের বিত্তবান ও সক্ষম ব্যক্তিদের এ ধরনের মানবিক কার্যক্রমে আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তিনি মানবসেবাকে সর্বোচ্চ ইবাদত হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, মানুষের পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত মানবতার পরিচয়।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ও সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন মোঃ সোহেল রানা। তিনি জানান, বাংলাদেশ সাংবাদিক ও সামাজিক ফাউন্ডেশন দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক উন্নয়ন, মানবকল্যাণ ও সাংবাদিকতার নৈতিক মানোন্নয়নে কাজ করে আসছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বরেণ্য অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মানবতার ফেরিওয়ালা ও সমাজকর্মী আঁখি রাহাত খান। তিনি বলেন, সমাজে বৈষম্য ও দারিদ্র্য দূর করতে সম্মিলিত উদ্যোগ অত্যন্ত প্রয়োজন। সাংবাদিক, আইনজীবী ও সমাজসেবকদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টাই পারে একটি মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে। তিনি শীতার্ত মানুষের হাতে কম্বল তুলে দেওয়ার মুহূর্তকে জীবনের অন্যতম তৃপ্তির সময় বলে উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মোঃ সুমন, যিনি বাংলাদেশ শিশু কল্যাণসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, শিশু ও অসহায় মানুষের কল্যাণে কাজ করাই তার জীবনের মূল লক্ষ্য। এ ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে সমাজে সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধ আরও বিস্তৃত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী ও সাবেক এপিপি, মহানগর দায়রা জজ আদালতের অভিজ্ঞ আইনজীবীগণ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তি। তারা সবাই এ উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে মানবিক কার্যক্রম পরিচালনার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে শীতার্ত ও অসহায় মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়। উপকারভোগীদের মুখে হাসি ফুটে ওঠে, যা পুরো আয়োজনকে করে তোলে আরও অর্থবহ। বাংলাদেশ সাংবাদিক ও সামাজিক ফাউন্ডেশনের এ উদ্যোগ মানবসেবায় একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
