দৈনিক টার্গেট

দেশের চেতনায়

দৈনিক রুদ্রবাংলার ১৫ বছর পূর্তি উদযাপনে সম্মাননা ও বর্ণাঢ্য উৎসব

জাতীয় দৈনিক রুদ্র বাংলা পত্রিকার ১৫ বছর পূর্তি এবং ১৬তম বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে আয়োজিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানটি সাংবাদিকতা অঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে।

শনিবার বিকেল ৩টা থেকে বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদের দ্বিতীয় তলায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সারাদেশ থেকে আগত সাংবাদিক, সংবাদদাতা, বিজ্ঞাপনদাতা ও প্রেসক্লাবের কর্মকর্তা-কর্মীরা অংশ নিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করেন। সম্মাননা প্রদান, পুরস্কার বিতরণ, আলোচনাসভা ও মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় পুরো অনুষ্ঠানস্থল এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দৈনিক রুদ্র বাংলার সম্পাদক এবং ঢাকা ডিভিশনাল প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ মতিউর রহমান। সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করে আসা সংবাদকর্মীদের একত্রিত করার উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন- রুদ্র বাংলার ১৫ বছরের পথচলা ছিল মানুষের কথা বলা, সত্য ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশনের অঙ্গীকার। এই দীর্ঘ যাত্রায় সাংবাদিক, সংবাদদাতা এবং বিজ্ঞাপনদাতাদের ভূমিকা অপরিসীম। তিনি আরও জানান, আগামী দিনগুলোতে রুদ্র বাংলা আরও আধুনিক, পাঠকবান্ধব এবং তথ্যসমৃদ্ধ কন্টেন্ট নিয়ে কাজ করবে।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক ও ঢাকা ডিভিশনাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহ আলম খান। তিনি বলেন- রুদ্র বাংলার সফলতার পেছনে রয়েছে একনিষ্ঠ টিমওয়ার্ক। এই আয়োজন তাদের সম্মান জানাতেই আজকের উপযুক্ত মঞ্চ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপকূল মানবাধিকার সংস্থার মহাসচিব মোঃ সিদ্দিকুর রহমান। তিনি সাংবাদিকতার সঙ্গে মানবাধিকারের সম্পর্ক তুলে ধরে বলেন- সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। সত্য তুলে ধরার মধ্য দিয়ে তারা মানবাধিকার রক্ষায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। রুদ্র বাংলা সে দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে পালন করছে।

বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা ডিভিশনাল প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি মিজান বিন নূর। তিনি বলেন, “প্রেস ক্লাব, গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের সমন্বিত প্রচেষ্টা ছাড়া একটি সুস্থ সংবাদ পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব নয়। রুদ্র বাংলার এই আয়োজন সাংবাদিক পরিবারকে আরও ঐক্যবদ্ধ করবে।” অনুষ্ঠানে অন্যান্য অতিথিরাও দেশের মিডিয়া অঙ্গনে রুদ্র বাংলার অবদানের কথা তুলে ধরেন।

পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়, যা পরিবেশে আধ্যাত্মিকতার আবহ সৃষ্টি করে। এরপর শুরু হয় সম্মাননা এবং পুরস্কার বিতরণ পর্ব। সারা দেশ থেকে আগত বাছাই করা সাংবাদিক, সংবাদদাতা ও বিজ্ঞাপনদাতাদের হাতে ক্রেস্ট ও সম্মাননা সনদ তুলে দেন প্রধান অতিথি ও অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। পুরস্কারপ্রাপ্তরা তাদের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, “রুদ্র বাংলার স্বীকৃতি আমাদের কাজের প্রতি আরও অনুপ্রেরণা যোগাবে।” উপস্থিত সবাই করতালি দিয়ে তাদের উৎসাহিত করেন।

অনুষ্ঠানের শেষাংশে মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। দেশাত্মবোধক গান, লোকসংগীত, আবৃত্তি এবং নৃত্য পরিবেশনায় শিল্পীরা পুরো হলজুড়ে প্রাণের সঞ্চার করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত দর্শকরা সংগীত ও সুরের মিলনে এক মনোরম সময় উপভোগ করেন। সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা এই আয়োজন ছিল আনন্দ, সম্মান ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের এক অসাধারণ উদযাপন।

১৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে রুদ্র বাংলার এই উদ্যোগ শুধু একটি বার্ষিক অনুষ্ঠানই নয়, বরং সাংবাদিকতার মানোন্নয়ন, নৈতিকতা ও পেশাগত দায়িত্ববোধকে আরও শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, রুদ্র বাংলা ভবিষ্যতেও নিরপেক্ষতা, সততা ও জনগণের কল্যাণে কাজ করে গণমাধ্যমকে আরও সমৃদ্ধ করবে।