বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার এ কে ফায়জুল হক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে বিদ্যালয়ে এখনো সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হয়নি। বিদ্যালয়টিতে প্রতিদিন ৯ জন শিক্ষক-কর্মচারী, ৩৫০ জন শিক্ষার্থী ও অসংখ্য অভিভাবকের যাতায়াত রয়েছে। সীমানাপ্রাচীর না থাকায় সদর বাজারের বেওয়ারিশ কুকুরগুলো বিদ্যালয়ের মাঠে ঢুকে উপদ্রব করে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, সকালে রাস্তায় লোকজন কম থাকে। এ সময় তাদের দেখলে কুকুরগুলো আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। তাই বিদ্যালয়ে আসতে তারা ভয়ে থাকে।
কুকুরের কামড়ে আহত শিক্ষার্থী আহাদ শেখের মা জান্নাতি আক্তার জানান, বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে কয়েকটি কুকুর তাঁর ছেলেকে আক্রমণ করে। এতে আহাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে কামড়ের জখম হয়। বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে।
আরেক অভিভাবক জোসনা বেগম বলেন, সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে আতঙ্কে থাকতে হয়। এ কারণে সংসারের কাজ ফেলে সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে স্কুলে আসতে হয়। তবে এভাবে কতদিন চলবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
আড়ুয়াবর্ণি গ্রামের বাসিন্দা মোহন খান জানান, তাঁর চোখের সামনেই বিদ্যালয়ের মাঠে একটি মেয়েকে একদল কুকুর তাড়া করে। ভয়ে পালাতে গিয়ে মেয়েটি রাস্তার পাশে পড়ে যায়। পরে কুকুরগুলো তার ওপর আক্রমণ চালালে আশপাশের লোকজন ছুটে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মানছুরা আক্তার বলেন, ‘উপজেলায় আমাদের বিদ্যালয়ে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। কিন্তু সীমানাপ্রাচীর না থাকায় এ ধরনের ঘটনা ঘটছে।’
প্রধান শিক্ষক মহিতুল ইসলাম বলেন, ‘কুকুরের আক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় অভিভাবকেরা শিশুদের একা স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন। অনেকেই সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে আসছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’
চিতলমারী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আহমেদ ইকবাল বলেন, বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা বাড়লেও খাবারের পর্যাপ্ত জোগান নেই। আগে বিভিন্ন জায়গায় খাবার পেলেও এখন তা কমে গেছে। এ কারণেও কুকুরের আক্রমণ বেড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বন বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সবার হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। পাশাপাশি বিদ্যালয়ে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হলে শিক্ষার্থীরা নিরাপদে থাকতে পারত।

দৈনিক টার্গেট 























