বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শহরের হোটেল লা রোজায় সংবাদ সম্মেলন করেন জামায়াতের প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন। পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন।
দেলোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন, ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, প্রচারণায় বাধা ও কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। তাঁর দাবি, প্রতীক বরাদ্দের আগেই বিএনপির প্রার্থীর ব্যানার ও ফেস্টুনে শহরের বিভিন্ন স্থান ছেয়ে ফেলা হয়। এ ছাড়া কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক, সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অনুদানের আশ্বাস এবং সরকারি চাকরিজীবীর নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ার বিষয়েও অভিযোগ করেন তিনি।
জামায়াতের প্রার্থী আরও জানান, ১৩ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে গণসংযোগের সময় তাঁকে বাধা দেওয়া ও লাঞ্ছিত করা হয়। ২০ অক্টোবর রুহিয়ার আখানগর ইউনিয়নে নির্বাচনী বৈঠক শেষে তাঁদের কর্মীদের ওপর হামলা ও চেয়ার ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। নারী কর্মীসহ অন্য কর্মীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও তোলেন দেলোয়ার হোসেন।
নির্বাচনী প্রচারণা শেষ হওয়ার পর একটি স্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। সরকারি চিকিৎসকদের দিয়ে নির্বাচনী মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা এবং বিভিন্ন সরকারি সুবিধার কার্ড দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগও তোলেন জামায়াতের প্রার্থী।
ভোটারদের অর্থ বিতরণের অভিযোগ তুলে দেলোয়ার হোসেন বলেন, ভোটার স্লিপ দেওয়ার পাশাপাশি কাউকে কাউকে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে বলে আমরা তথ্য পেয়েছি। নির্বাচনের আগের রাতে ভোট কেনার চেষ্টা হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। এসব অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান জামায়াতের এই প্রার্থী।
অন্যদিকে রাতের সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের প্রার্থী ও তাঁদের জোটের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন।
মির্জা ফয়সল আমীন জানান, নির্বাচনের শুরু থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত, অশ্লীল, আক্রমণাত্মক ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে তাঁর জবাব ও তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগগুলো মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ফয়সল আমীনের ভাষ্য, ভোটারদের মধ্যে এবার ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে জামায়াতের প্রার্থী ও তাঁর সমর্থকেরা মিথ্যা অভিযোগ তুলে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছেন।
জামায়াতের প্রার্থীর টাকা দিয়ে ভোট কেনার আশঙ্কা ও ভোটার স্লিপের সঙ্গে অর্থ বিতরণের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে ফয়সল আমীন বলেন, অভিযোগের প্রমাণ থাকলে তা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো উচিত। বিএনপি এ ধরনের কাজ করে না বলেও দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে জামায়াতের এক কর্মীকে বিরিয়ানির প্যাকেটের সঙ্গে ভোটার স্লিপ বিতরণের অভিযোগে আটক করা হয়েছে বলে জানান ফয়সল আমীন।
ফয়সল আমীনের অভিযোগ, জামায়াতের প্রার্থী ও তাঁর সমর্থকেরা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছেন। প্রকাশ্যে চোখ উপড়ে ফেলা ও হাত ভেঙে দেওয়ার মতো হুমকিমূলক বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। এসব বিষয়ে প্রমাণসহ রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার পাননি বলে জানান বিএনপির প্রার্থী।
নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেবেন কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ফয়সল আমীন বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনগণের মতামতকে সম্মান করতে হয়। ফলাফল মেনে না নিলে গণতান্ত্রিক আদর্শে বিশ্বাসের প্রশ্ন ওঠে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আসনের ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রের ঝুঁকি প্রসঙ্গে বিএনপির প্রার্থী বলেন, আমাদের বিবেচনায় কোনো কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ নয়, আবার সব কেন্দ্রেই ঝুঁকির আশঙ্কা থাকতে পারে। যেসব কেন্দ্রে সমস্যা হতে পারে বলে আমরা মনে করেছি, সেগুলোর তালিকা নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া হয়েছে। তবে তালিকায় কতটি কেন্দ্র রয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেননি তিনি।
ঠাকুরগাঁও শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চমৎকার বলে মন্তব্য করেন ফয়সল আমীন। পাশাপাশি কোনো অভিযোগ জনসমক্ষে প্রচারের আগে তা যাচাই করে নেওয়ার জন্য আহ্বান জানান তিনি।

দৈনিক টার্গেট 























